আসন্ন ঈদ যাত্রায় গাজীপুর মহানগর ও জেলার কমপক্ষে আটটি স্থানে যানজটের শঙ্কা রয়েছে। এই আটটি স্থানের মধ্যে ঢাকা ময়মনসিংহ-মহাসড়কে ছয়টি এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুটি স্থান রয়েছে। এই দুই মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় ভাসমান বাজার, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলাচল, অবৈধ স্থাপনা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও যাত্রী উঠানো নামানোর কারণে এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে এবারের ঈদুল আযহায় ঘরমুখো যাত্রীদের। দুই মহাসড়ক ঘুরে পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে আলাপকালে এ আশঙ্কার কথা জানা গেছে। তবে মহানগর ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যানজটের আশঙ্কাকে না করে তা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।
ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের যানবাহন চলাচল করে প্রতিবছর ঈদ যাত্রায় এই মহাসড়কে বেড়ে যায় যানবাহনের চাপ। ঈদযাত্রায় ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানবহন গুলো ঢাকার মহাখালী, গাবতলী থেকে বের হয়ে গাজীপুর মহানগর এর জিরানী বাসস্ট্যান্ডে সবচেয়ে বেশি যানজটের কবলে পড়ে। এই এলাকায় সাত কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে দুই থেকে চার ঘন্টার বেশি সময় লাগে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
এছাড়া মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়েও যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে। ওই মহাসড়কে উড়াল সেতু চালু হওয়ার পর থেকে গাজীপুর মুখী যানবাহনের যানজট কিছুটা কম থাকে। তবে উড়াল সেতুর নিচে উত্তরাঞ্চলগামী লেন সংকুচিত হয়ে নবীনগর থেকে চন্দ্রমুখী যানবাহনগুলোকে মহাসড়কের সংকুচিত স্থানে আটকে থাকতে থাকতে হয়। বুধবার (২০ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চন্দ্রায় মহাসড়কের পাশে আছে বিভিন্ন রুটের বাসের কয়েকশ কাউন্টার। ঈদযাত্রা শুরু হলে মহাসড়কের পাশে বাস থামিয়ে এসব কাউন্টার থেকে যাত্রী উঠানো হয় এতেও সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
অন্যদিকে, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড, কলেজ গেট, বোর্ডবাজার, ভোগরা বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, মাস্টার বাড়ি বাজার ও রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তায় মহাসড়কে ভাসমান বাজার ও ব্যাটারি চালিত অটো রিকশার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে। সবচেয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় চন্দনা চৌরাস্তা থেকে সালনা পর্যন্ত।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ এর নির্বাহিত কৌশলী তানভীর আহমেদ সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে টাঙ্গাইলমুখী দুই একটি জায়গায় পুরাতন এইচবিবি সমস্যা আছে। ময়মনসিংহ রোডের কিছু কিছু জায়গায় মেরামতের কাজ চলছে। কোথাও কোনো সড়ক খোড়াখুড়ির কাজ নেই। দু-একটি জায়গায় যেখানে রাস্তা ফুলে উঠেছে সেটা আমরা কেটে দিচ্ছি। তবে রাস্তার পাশে যদি গরুর হাট না বসে, আশা করছি ঢাকা ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল দুই মহাসড়ক দিয়েই মানুষ এবার স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরতে পারবে।গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা ও ঢাকা টাঙ্গাইল মাহসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানজটের আশংকা রয়েছে। তবে এ দুই জায়গায় যানজট নিরসনে গতবারের মতো এবার পুরো প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি গতবারের চেয়েও আরো সুন্দরভাবে যানজট নিরসন করতে। এর জন্য এবার প্রায় সাড়ে ৫শ পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
অন্যদিকে, গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল আলম সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, “আমাদের একটা স্পেশাল প্রোগ্রাম থাকবে। ট্রাফিক ডিভিশনের সঙ্গে ক্রাইম ডিভিশন থাকবে। প্রধানত দইটি জায়গায় সমস্যাটা হয়। একটা হচ্ছে পেয়ারা বাগান, অপরটি হচ্ছে চান্দনা চৌরাস্তা। যখন গার্মেন্টস ছুটি হয়ে যায়, তখন সকল শ্রমিকরা একসঙ্গে চলে আসে। এরা আবার পারসোনালি যোগাযোগ করে বিভিন্ন সার্ভিসের বাসগুলি একসঙ্গে নিয়ে আসে। এতে রাস্তায় একসঙ্গে চাপ বেড়ে যায়। এটা ডিসিপ্লিন ওয়েতে রাখাই চ্যালেঞ্জ।”
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এস এম আশরাফুল আলম বলেন, “কারখানাগুলি একসঙ্গে ছুটি হওয়াতে হাজার হাজার লোকজন একসঙ্গে রাস্তায় চলে আসে। তখন রাস্তার একটা বড় অংশ তাদের দখলে চলে যায়। বিশেষ করে ময়মনসিংহগামী যাত্রীদের বেলায় চান্দনা চৌরাস্তায় এ ঘটনাটি ঘটে। তাদের একটু চাপিয়ে রেখে বাসগুলিকে দ্রুত পাস করাটাও চ্যালেঞ্জ। এটা করতে পারলে সমস্যা হবে না। গত ঈদের সমস্যা হয়নি। আর আরেকটা শংকা আমাদের সেটা হচ্ছে যদি ভারী বৃষ্টি হয়,তাহলে ভোগড়াতে রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যায়। তখন সাইলেন্সারে পানি গিয়ে রাস্তায় গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের যে প্রস্তুতি আছে, তাতে আশা করি সমস্যা হবে না।
তিনি আরো জানান, মহাসড়কের সকল ভাসমান বাজার শিগগিরই তুলে দেওয়া হবে। রাস্তা একেবারে ক্লিন থাকবে। ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে না। রাস্তায় মহানগর পুলিশের প্রায় ৫শ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।অন্যদিকে, গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, গতবারের মতো এবারও কারখানা তিনটি ধাপে ছুটি হবে। ২৫ মে ৪০ ভাগ, ২৬ মে ৪৫ ভাগ ও ২৭ মে অবশিষ্ট কিছু অংশ ছুটি হবে। ধাপে ধাপে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হলে যানজট মোকাবিলা সহজ হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
আসন্ন ঈদ যাত্রায় গাজীপুর মহানগর ও জেলার কমপক্ষে আটটি স্থানে যানজটের শঙ্কা রয়েছে। এই আটটি স্থানের মধ্যে ঢাকা ময়মনসিংহ-মহাসড়কে ছয়টি এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুটি স্থান রয়েছে। এই দুই মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় ভাসমান বাজার, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলাচল, অবৈধ স্থাপনা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও যাত্রী উঠানো নামানোর কারণে এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে এবারের ঈদুল আযহায় ঘরমুখো যাত্রীদের। দুই মহাসড়ক ঘুরে পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে আলাপকালে এ আশঙ্কার কথা জানা গেছে। তবে মহানগর ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যানজটের আশঙ্কাকে না করে তা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।
ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের যানবাহন চলাচল করে প্রতিবছর ঈদ যাত্রায় এই মহাসড়কে বেড়ে যায় যানবাহনের চাপ। ঈদযাত্রায় ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানবহন গুলো ঢাকার মহাখালী, গাবতলী থেকে বের হয়ে গাজীপুর মহানগর এর জিরানী বাসস্ট্যান্ডে সবচেয়ে বেশি যানজটের কবলে পড়ে। এই এলাকায় সাত কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে দুই থেকে চার ঘন্টার বেশি সময় লাগে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
এছাড়া মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়েও যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে। ওই মহাসড়কে উড়াল সেতু চালু হওয়ার পর থেকে গাজীপুর মুখী যানবাহনের যানজট কিছুটা কম থাকে। তবে উড়াল সেতুর নিচে উত্তরাঞ্চলগামী লেন সংকুচিত হয়ে নবীনগর থেকে চন্দ্রমুখী যানবাহনগুলোকে মহাসড়কের সংকুচিত স্থানে আটকে থাকতে থাকতে হয়। বুধবার (২০ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চন্দ্রায় মহাসড়কের পাশে আছে বিভিন্ন রুটের বাসের কয়েকশ কাউন্টার। ঈদযাত্রা শুরু হলে মহাসড়কের পাশে বাস থামিয়ে এসব কাউন্টার থেকে যাত্রী উঠানো হয় এতেও সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
অন্যদিকে, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড, কলেজ গেট, বোর্ডবাজার, ভোগরা বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, মাস্টার বাড়ি বাজার ও রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তায় মহাসড়কে ভাসমান বাজার ও ব্যাটারি চালিত অটো রিকশার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে। সবচেয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় চন্দনা চৌরাস্তা থেকে সালনা পর্যন্ত।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ এর নির্বাহিত কৌশলী তানভীর আহমেদ সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে টাঙ্গাইলমুখী দুই একটি জায়গায় পুরাতন এইচবিবি সমস্যা আছে। ময়মনসিংহ রোডের কিছু কিছু জায়গায় মেরামতের কাজ চলছে। কোথাও কোনো সড়ক খোড়াখুড়ির কাজ নেই। দু-একটি জায়গায় যেখানে রাস্তা ফুলে উঠেছে সেটা আমরা কেটে দিচ্ছি। তবে রাস্তার পাশে যদি গরুর হাট না বসে, আশা করছি ঢাকা ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল দুই মহাসড়ক দিয়েই মানুষ এবার স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরতে পারবে।গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা ও ঢাকা টাঙ্গাইল মাহসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানজটের আশংকা রয়েছে। তবে এ দুই জায়গায় যানজট নিরসনে গতবারের মতো এবার পুরো প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি গতবারের চেয়েও আরো সুন্দরভাবে যানজট নিরসন করতে। এর জন্য এবার প্রায় সাড়ে ৫শ পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
অন্যদিকে, গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল আলম সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, “আমাদের একটা স্পেশাল প্রোগ্রাম থাকবে। ট্রাফিক ডিভিশনের সঙ্গে ক্রাইম ডিভিশন থাকবে। প্রধানত দইটি জায়গায় সমস্যাটা হয়। একটা হচ্ছে পেয়ারা বাগান, অপরটি হচ্ছে চান্দনা চৌরাস্তা। যখন গার্মেন্টস ছুটি হয়ে যায়, তখন সকল শ্রমিকরা একসঙ্গে চলে আসে। এরা আবার পারসোনালি যোগাযোগ করে বিভিন্ন সার্ভিসের বাসগুলি একসঙ্গে নিয়ে আসে। এতে রাস্তায় একসঙ্গে চাপ বেড়ে যায়। এটা ডিসিপ্লিন ওয়েতে রাখাই চ্যালেঞ্জ।”
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এস এম আশরাফুল আলম বলেন, “কারখানাগুলি একসঙ্গে ছুটি হওয়াতে হাজার হাজার লোকজন একসঙ্গে রাস্তায় চলে আসে। তখন রাস্তার একটা বড় অংশ তাদের দখলে চলে যায়। বিশেষ করে ময়মনসিংহগামী যাত্রীদের বেলায় চান্দনা চৌরাস্তায় এ ঘটনাটি ঘটে। তাদের একটু চাপিয়ে রেখে বাসগুলিকে দ্রুত পাস করাটাও চ্যালেঞ্জ। এটা করতে পারলে সমস্যা হবে না। গত ঈদের সমস্যা হয়নি। আর আরেকটা শংকা আমাদের সেটা হচ্ছে যদি ভারী বৃষ্টি হয়,তাহলে ভোগড়াতে রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যায়। তখন সাইলেন্সারে পানি গিয়ে রাস্তায় গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের যে প্রস্তুতি আছে, তাতে আশা করি সমস্যা হবে না।
তিনি আরো জানান, মহাসড়কের সকল ভাসমান বাজার শিগগিরই তুলে দেওয়া হবে। রাস্তা একেবারে ক্লিন থাকবে। ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে না। রাস্তায় মহানগর পুলিশের প্রায় ৫শ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।অন্যদিকে, গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, গতবারের মতো এবারও কারখানা তিনটি ধাপে ছুটি হবে। ২৫ মে ৪০ ভাগ, ২৬ মে ৪৫ ভাগ ও ২৭ মে অবশিষ্ট কিছু অংশ ছুটি হবে। ধাপে ধাপে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হলে যানজট মোকাবিলা সহজ হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন