ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গাছে হাত বেঁধে কাওছার আলম (৪৪) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) রাতে নিহতের স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে পাগলা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে এই হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পাগলা থানার মশাখালী ইউনিয়নের দরিচাইরবাড়িয়া গ্রামের একটি ভিটায় গাছে দুই হাত বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত কাওছার আলম দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মো. জামেদ আলীর ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরের এমসি বাজার এলাকায় সপরিবার থাকতেন এবং একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
নিহতের স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, গত বুধবার রাত আটটার দিকে কাওছার বাসায় রাতের খাবার খেয়ে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে যান। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, বাইরে কেউ তার জন্য অপেক্ষা করছেন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
পাগলা থানা-পুলিশ জানায়, কাওছার আলম আগে দুটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়েছে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মারা গেছেন। দেড় বছর আগে তিনি নাজমাকে বিয়ে করেন। তাদের দুই মাস বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। কাওছার আগে পোশাকের সুতার ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় পরে চাকরি নেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মোতালেব বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে পেশাদার কোনো খুনিচক্র এর সঙ্গে জড়িত। পরকীয়া বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত চলছে।
আপনার মতামত লিখুন