সংবাদ

বাংলাদেশে শিশুর প্রতি নৃশংসতার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা ইউনিসেফের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

বাংলাদেশে শিশুর প্রতি নৃশংসতার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা ইউনিসেফের

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের ওপর সহিংসতা ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি এক বিবৃতিতে সরাসরি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে "শিশুদের ওপর নৃশংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে!"

​আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) দেওয়া সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান দেশের শিশু নিরাপত্তার চরম নাজুক চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী:

​১১৮ জন শিশু পাশবিক ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

​৪৬ জন শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

​ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে ১৪ জন শিশুকে।

​ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে খুন করা হয়েছে আরও ৩ জন শিশুকে।

​লোকলজ্জা ও মানসিক ট্রমা সইতে না পেরে ২ জন শিশু আত্মহত্যা করেছে।

​এ ছাড়া, কেবল জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যেই বিভিন্ন ঘটনায় আরও ১১৫ জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।

​সম্প্রতি রাজধানীর বুকে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার নির্মম ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ভয়াবহ প্রেক্ষাপটেই ইউনিসেফ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।

​বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সারা দেশে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ওপর যেভাবে ভয়াবহ সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তাতে ইউনিসেফ গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত।

​বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের এই বর্তমান সময়ে এসেও নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতা বৃদ্ধির ঘটনা প্রমাণ করে যে, আমাদের শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার "দায়মুক্তির সংস্কৃতি" অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশিং ও বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং স্কুল, মাদরাসা ও পাড়া-মহল্লায় জবাবদিহিতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

​সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাজের সবাইকে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, সমাজ বা চারপাশের মানুষ চুপ থাকলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ে। কোনো শিশু নির্যাতন বা শোষণের শিকার হলে তা চেপে না রেখে অবিলম্বে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮ (1098)- নম্বরে যোগাযোগ করে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

​নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারীদের মর্যাদা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সংস্থাটি। বিবৃতিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিশুদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত পরিচয় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা আরেকটি বড় অপরাধ। এটি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক আঘাত ও ট্রমা আরও বাড়িয়ে দেয়।

​জনগণ, সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলে, প্রতিটি শিশুর সর্বত্র হোক তা ঘরে, স্কুলে কিংবা জনপরিসরে সুরক্ষার অধিকার রয়েছে। তাই ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকে সম্মান জানিয়ে এই সংক্রান্ত সংবেদনশীল ছবি বা তথ্য শেয়ার করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


বাংলাদেশে শিশুর প্রতি নৃশংসতার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা ইউনিসেফের

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের ওপর সহিংসতা ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি এক বিবৃতিতে সরাসরি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে "শিশুদের ওপর নৃশংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে!"

​আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) দেওয়া সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান দেশের শিশু নিরাপত্তার চরম নাজুক চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী:

​১১৮ জন শিশু পাশবিক ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

​৪৬ জন শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

​ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে ১৪ জন শিশুকে।

​ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে খুন করা হয়েছে আরও ৩ জন শিশুকে।

​লোকলজ্জা ও মানসিক ট্রমা সইতে না পেরে ২ জন শিশু আত্মহত্যা করেছে।

​এ ছাড়া, কেবল জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যেই বিভিন্ন ঘটনায় আরও ১১৫ জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।

​সম্প্রতি রাজধানীর বুকে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার নির্মম ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ভয়াবহ প্রেক্ষাপটেই ইউনিসেফ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।

​বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সারা দেশে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ওপর যেভাবে ভয়াবহ সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তাতে ইউনিসেফ গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত।

​বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের এই বর্তমান সময়ে এসেও নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতা বৃদ্ধির ঘটনা প্রমাণ করে যে, আমাদের শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার "দায়মুক্তির সংস্কৃতি" অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশিং ও বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং স্কুল, মাদরাসা ও পাড়া-মহল্লায় জবাবদিহিতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

​সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাজের সবাইকে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, সমাজ বা চারপাশের মানুষ চুপ থাকলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ে। কোনো শিশু নির্যাতন বা শোষণের শিকার হলে তা চেপে না রেখে অবিলম্বে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮ (1098)- নম্বরে যোগাযোগ করে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

​নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারীদের মর্যাদা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সংস্থাটি। বিবৃতিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিশুদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত পরিচয় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা আরেকটি বড় অপরাধ। এটি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক আঘাত ও ট্রমা আরও বাড়িয়ে দেয়।

​জনগণ, সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলে, প্রতিটি শিশুর সর্বত্র হোক তা ঘরে, স্কুলে কিংবা জনপরিসরে সুরক্ষার অধিকার রয়েছে। তাই ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকে সম্মান জানিয়ে এই সংক্রান্ত সংবেদনশীল ছবি বা তথ্য শেয়ার করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত