পাবনার সাঁথিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি সমর্থকদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২২ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের পাথাইল হাট এলাকায় এ সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাটের সামনে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই পাথাইল হাট এলাকায় জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর আগে গত মার্চ মাসে বিএনপি সমর্থকদের দোকান ভাঙচুর ও খেত থেকে পেঁয়াজ লুটে নেওয়ার অভিযোগে জামায়াত সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। সম্প্রতি ওই মামলার আসামিরা জামিন পেয়ে মামলার বাদী ও তার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় একটি ঈদগাহের নিয়ন্ত্রণ ও প্যান্ডেল সাজানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব বাধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যায় মসজিদের মুয়াজ্জিনকে জিম্মি করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় রফিক ও শফিকের বাড়ি এবং ব্যবসায়ী রাসেলের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. রাসেল বলেন, ‘আমার দোকান থেকে বিকাশের নগদ দুই লাখ টাকাসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। বাড়িতে ঢুকে হামলাকারীরা নারী ও শিশুদেরও মারধর করেছে।’
ইউনিয়ন যুবদলের নেতা সরোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে জামায়াত সমর্থকেরা এসব অপকর্ম করছেন।
তবে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধমূলক ঘটনাকে দলীয় রং দেওয়া ঠিক নয়। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিচার হওয়া উচিত। অভিযুক্তরা আমাদের কেউ নন।’
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি হযরত আলী মাস্টারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আপনার মতামত লিখুন