টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের লাল মাটিতে বিদেশি জাতের লিচু চাষে ভাগ্য বদলাচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের। বিশেষ করে ‘চায়না থ্রি’ জাতের লিচু স্বাদে ও গুণেমানে অনন্য হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও দাম-দুটোই এখন তুঙ্গে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং মাটির বিশেষ গুণাগুণের কারণে ফলনও হয়েছে আশানুরূপ।
শনিবার (২৩ মে) মধুপুর উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের বাঘাডোবা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় লিচু চাষের এক সফল চিত্র। এই গ্রামের গারো নারী সাবেত্রী হাগিদক (৫৪) তার বাড়ির আঙিনায় ৩০-৪০টি চায়না থ্রি জাতের লিচুর চারা রোপণ করেছিলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি নিয়মিত ফল পাচ্ছেন। এবার মুকুল আসার পরপরই পুরো বাগান ৫০ হাজার টাকায় এক পাইকারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।
সফল এই নারী কৃষক জানান, তিনি সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন। রাসায়নিক বিষমুক্ত ও নিরাপদ উপায়ে উৎপাদিত হওয়ায় তার বাগানের লিচু আকারে বড় এবং অত্যন্ত রসালো। খেতেও বেশ মিষ্টি। লিচু ছাড়াও তিনি জি নাইন জাতের কলা, পেঁপে, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন নিরাপদ ফসল চাষ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বাগান কিনে নেওয়া পাইকার সোহরাব হোসেন জানান, বাগান থেকে লিচু পেড়ে তারা বিভিন্ন বাজারে খুচরা বিক্রি করছেন। বাজারে প্রতিটি চায়না থ্রি লিচু ৩ থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি টাঙ্গাইল, ধনবাড়ী ও ঢাকার বাজারে এই লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
একই গ্রামের আবু হানিফ নামের আরেক কৃষক জানান, তার বাড়ির দুটি গাছে প্রচুর লিচু ধরেছে। স্থানীয় বাজারে তিনি ২০০ লিচু ৬০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বাজারে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রেতারা এটি লুফে নিচ্ছেন।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, মধুপুর গড় অঞ্চলের মাটি ও ভূপ্রকৃতি লিচুসহ বিভিন্ন ফল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। দেশি জাতের পাশাপাশি এখন বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি চায়না থ্রি লিচুর চাষ বাড়ছে। স্বাদে ভালো হওয়ায় কৃষকেরা বাড়তি দাম পাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন