আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের পশুর হাটগুলোতে লাখ টাকার গরু নিয়ে যখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরদাম চলছে, ঠিক তখনই বিশ্বব্যাপী তোলপাড় ফেলে দিয়েছে একটি গরুর আকাশছোঁয়া দাম। নাম ভিয়াতিনা-১৯। ব্রাজিলের এক রাজকীয় নিলামে তুষার-সাদা এই সুপার কাউটি বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৯ কোটি টাকা!
ল্যাম্বরগিনি গাড়ি বা বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদের চেয়েও দামি এই গাভীটি আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গা করে নিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। কিন্তু কী আছে এমন এই গরুর মধ্যে, যার জন্য খামারিরা কোটি কোটি টাকা ঢালতে দ্বিধা করছেন না?
ভিয়াতিনা-১৯ মূলত ‘নেলোর’ প্রজাতির গাভী। আর এই জাতের গরুর উৎপত্তি কিন্তু আমাদেরই প্রতিবেশী ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের ‘নেল্লোর’ জেলায়। ১৮৬৮ সালের দিকে এক জোড়া নেলোর গরু জাহাজে করে ব্রাজিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প।
চড়া তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা, শক্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আর দ্রুত মাংস বৃদ্ধির কারণে এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত জাতটি আজ ব্রাজিলের পশুপালন শিল্পের প্রধান চালিকাশক্তি।
ভিয়াতিনা-১৯-কে বলা হচ্ছে ‘নিখুঁত শারীরিক গঠনের’ এক জীবন্ত উদাহরণ। এর ওজন প্রায় ১ হাজার ১০১ কেজি (২ হাজার ৪০০ পাউন্ড)। যা একই প্রজাতির সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক গাভীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
এর চকচকে ধবধবে সাদা চামড়া, পেশিবহুল চওড়া বুক, নিখুঁত ক্ষুর আর পিঠের রাজকীয় কুঁজ একে অনন্য করে তুলেছে। শুধু দেখতে সুন্দরই নয়, এটি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। দক্ষিণ আমেরিকার গবাদিপশুদের সেরা সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ এটি জিতেছে ‘মিস সাউথ আমেরিকা’ খেতাব।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ৫৯ কোটি টাকার গরু দিয়ে মালিকেরা কী করবেন? মাংসের স্বাদ কি অন্যরকম? না। ভিয়াতিনা-১৯-কে কখনো জবাই বা মাংসের উদ্দেশ্যে কেনা হয়নি। এর আসল মূল্য লুকিয়ে আছে এর অসাধারণ বংশগত বা জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ভিয়াতিনা-১৯ তার জিনের জাদুকরী বৈশিষ্ট্য শতভাগ বাচ্চার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্ববাজারে এর একটি মাত্র ডিম্বাণু কোষ বিক্রি হয় প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকা!
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। এই একটি গাভী আসলে কোনো প্রাণী নয়- এটি ভবিষ্যতের কোটি কোটি টাকার সুপার-জাত তৈরির এক চলন্ত কারখানা। খামারিরা এর ডিম্বাণু ও ভ্রূণ সংগ্রহ করে আইভিএফ প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্যান্য গাভীতে প্রতিস্থাপন করছেন।
৫৯ কোটি টাকার এই অতি মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ে কম নয়। ব্রাজিলের উবেরাবা শহরের একটি অতি সুরক্ষিত খামারে বিলাসবহুল পরিবেশে রাখা হয় ভিয়াতিনা-১৯-কে।
২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির পাশাপাশি সশস্ত্র বডিগার্ড থাকেন তার সুরক্ষায়। দেখাশোনার জন্য রয়েছেন একদল বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসক। খাবার মেন্যু থেকে শুরু করে গোসলের পানি- সবকিছুই বৈজ্ঞানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত।
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের পশুর হাটগুলোতে লাখ টাকার গরু নিয়ে যখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরদাম চলছে, ঠিক তখনই বিশ্বব্যাপী তোলপাড় ফেলে দিয়েছে একটি গরুর আকাশছোঁয়া দাম। নাম ভিয়াতিনা-১৯। ব্রাজিলের এক রাজকীয় নিলামে তুষার-সাদা এই সুপার কাউটি বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৯ কোটি টাকা!
ল্যাম্বরগিনি গাড়ি বা বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদের চেয়েও দামি এই গাভীটি আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গা করে নিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। কিন্তু কী আছে এমন এই গরুর মধ্যে, যার জন্য খামারিরা কোটি কোটি টাকা ঢালতে দ্বিধা করছেন না?
ভিয়াতিনা-১৯ মূলত ‘নেলোর’ প্রজাতির গাভী। আর এই জাতের গরুর উৎপত্তি কিন্তু আমাদেরই প্রতিবেশী ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের ‘নেল্লোর’ জেলায়। ১৮৬৮ সালের দিকে এক জোড়া নেলোর গরু জাহাজে করে ব্রাজিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প।
চড়া তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা, শক্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আর দ্রুত মাংস বৃদ্ধির কারণে এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত জাতটি আজ ব্রাজিলের পশুপালন শিল্পের প্রধান চালিকাশক্তি।
ভিয়াতিনা-১৯-কে বলা হচ্ছে ‘নিখুঁত শারীরিক গঠনের’ এক জীবন্ত উদাহরণ। এর ওজন প্রায় ১ হাজার ১০১ কেজি (২ হাজার ৪০০ পাউন্ড)। যা একই প্রজাতির সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক গাভীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
এর চকচকে ধবধবে সাদা চামড়া, পেশিবহুল চওড়া বুক, নিখুঁত ক্ষুর আর পিঠের রাজকীয় কুঁজ একে অনন্য করে তুলেছে। শুধু দেখতে সুন্দরই নয়, এটি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। দক্ষিণ আমেরিকার গবাদিপশুদের সেরা সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ এটি জিতেছে ‘মিস সাউথ আমেরিকা’ খেতাব।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ৫৯ কোটি টাকার গরু দিয়ে মালিকেরা কী করবেন? মাংসের স্বাদ কি অন্যরকম? না। ভিয়াতিনা-১৯-কে কখনো জবাই বা মাংসের উদ্দেশ্যে কেনা হয়নি। এর আসল মূল্য লুকিয়ে আছে এর অসাধারণ বংশগত বা জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ভিয়াতিনা-১৯ তার জিনের জাদুকরী বৈশিষ্ট্য শতভাগ বাচ্চার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্ববাজারে এর একটি মাত্র ডিম্বাণু কোষ বিক্রি হয় প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকা!
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। এই একটি গাভী আসলে কোনো প্রাণী নয়- এটি ভবিষ্যতের কোটি কোটি টাকার সুপার-জাত তৈরির এক চলন্ত কারখানা। খামারিরা এর ডিম্বাণু ও ভ্রূণ সংগ্রহ করে আইভিএফ প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্যান্য গাভীতে প্রতিস্থাপন করছেন।
৫৯ কোটি টাকার এই অতি মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ে কম নয়। ব্রাজিলের উবেরাবা শহরের একটি অতি সুরক্ষিত খামারে বিলাসবহুল পরিবেশে রাখা হয় ভিয়াতিনা-১৯-কে।
২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির পাশাপাশি সশস্ত্র বডিগার্ড থাকেন তার সুরক্ষায়। দেখাশোনার জন্য রয়েছেন একদল বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসক। খাবার মেন্যু থেকে শুরু করে গোসলের পানি- সবকিছুই বৈজ্ঞানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত।
আপনার মতামত লিখুন