দেশের বিরোধী রাজনীতির ভেতরে যে ফাটল অনেকদিন ধরেই তৈরি হচ্ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে তুলে আনল সিপিএম। দিল্লিতে তিনদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট দুর্বল হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় দায় কংগ্রেসের।
সিপিএমের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পাঁচ রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল শুধু ভোটের পরিসংখ্যান নয়, বরং বিরোধী ঐক্যের ভাঙনের প্রতিফলন। কংগ্রেসের সংগঠনগত দুর্বলতা, আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব এবং কৌশলগত অস্পষ্টতা এই তিনটি কারণকেই দায়ী করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে সিপিএম আসলে একটি বড় বার্তা দিতে চাইছে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে শুধুমাত্র ‘জোট’ তৈরি করলেই হবে না, দরকার মাটির স্তরে কার্যকর সমন্বয় এবং বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব। আর এই জায়গাতেই পড়ছে কংগ্রেস।
সিপিএমের বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, বিরোধী শক্তি যত দুর্বল হয়েছে, ততই শক্তিশালী হয়েছে বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর সাংগঠনিক প্রভাব। অর্থাৎ, বিরোধীদের ভাঙনই পরোক্ষে ক্ষমতাসীন শক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা তৈরি করছে।
পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গে সিপিএম কিছুটা আশাবাদী। দীর্ঘদিন পর বিধানসভায় দলের উপস্থিতি তাদের কাছে ‘পজিটিভ সিগন্যাল’। যদিও এই উপস্থিতি সংখ্যায় ছোট, তবুও রাজনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা বলে মনে করছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
তবে এখানেই থেমে থাকছে না সিপিএম। বঙ্গ ব্রিগেডের প্রতিটি স্তরের কমিটিকে আলাদাভাবে নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রিপোর্টগুলো জমা পড়বে রাজ্য কমিটির কাছে, এবং জুনের শেষে রাজ্য কমিটির বৈঠকে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সিপিএম আসলে নিজেদের সংগঠনকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে । বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে হারানো জায়গা ফিরে পেতে।
সব মিলিয়ে, এই রিপোর্ট শুধু কংগ্রেসের সমালোচনা নয় এটি বিরোধী রাজনীতির বর্তমান সংকটের একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। প্রশ্ন এখন একটাই এই সতর্কবার্তা কি গুরুত্ব দেবে কংগ্রেস? নাকি বিরোধীদের ভাঙন আরও বাড়বে, যার সরাসরি সুবিধা পাবে বিজেপি?

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
দেশের বিরোধী রাজনীতির ভেতরে যে ফাটল অনেকদিন ধরেই তৈরি হচ্ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে তুলে আনল সিপিএম। দিল্লিতে তিনদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট দুর্বল হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় দায় কংগ্রেসের।
সিপিএমের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পাঁচ রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল শুধু ভোটের পরিসংখ্যান নয়, বরং বিরোধী ঐক্যের ভাঙনের প্রতিফলন। কংগ্রেসের সংগঠনগত দুর্বলতা, আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব এবং কৌশলগত অস্পষ্টতা এই তিনটি কারণকেই দায়ী করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে সিপিএম আসলে একটি বড় বার্তা দিতে চাইছে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে শুধুমাত্র ‘জোট’ তৈরি করলেই হবে না, দরকার মাটির স্তরে কার্যকর সমন্বয় এবং বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব। আর এই জায়গাতেই পড়ছে কংগ্রেস।
সিপিএমের বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, বিরোধী শক্তি যত দুর্বল হয়েছে, ততই শক্তিশালী হয়েছে বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর সাংগঠনিক প্রভাব। অর্থাৎ, বিরোধীদের ভাঙনই পরোক্ষে ক্ষমতাসীন শক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা তৈরি করছে।
পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গে সিপিএম কিছুটা আশাবাদী। দীর্ঘদিন পর বিধানসভায় দলের উপস্থিতি তাদের কাছে ‘পজিটিভ সিগন্যাল’। যদিও এই উপস্থিতি সংখ্যায় ছোট, তবুও রাজনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা বলে মনে করছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
তবে এখানেই থেমে থাকছে না সিপিএম। বঙ্গ ব্রিগেডের প্রতিটি স্তরের কমিটিকে আলাদাভাবে নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রিপোর্টগুলো জমা পড়বে রাজ্য কমিটির কাছে, এবং জুনের শেষে রাজ্য কমিটির বৈঠকে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সিপিএম আসলে নিজেদের সংগঠনকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে । বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে হারানো জায়গা ফিরে পেতে।
সব মিলিয়ে, এই রিপোর্ট শুধু কংগ্রেসের সমালোচনা নয় এটি বিরোধী রাজনীতির বর্তমান সংকটের একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। প্রশ্ন এখন একটাই এই সতর্কবার্তা কি গুরুত্ব দেবে কংগ্রেস? নাকি বিরোধীদের ভাঙন আরও বাড়বে, যার সরাসরি সুবিধা পাবে বিজেপি?

আপনার মতামত লিখুন