ফাঁসির আসামিদের পেপার বুক তৈরির দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘এই বিষয়ের সঙ্গে শুধুমাত্র আমরা বা সরকার জড়িত নই; এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টও জড়িত। ইতিমধ্যে আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। ফাঁসির আসামিদের বিচার ও দণ্ড প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য যতটা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, আমি ঠিক ততটাই নেব। আমরা এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বুধবার (২৭ মার্চ) বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে ‘মেধা ও মনন মঞ্চ’ নামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের আয়োজিত ‘দ্য গ্র্যান্ড ফিনালে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) হবে। আপনারা দেখেছেন, এক সপ্তাহ পূরণ হওয়ার আগেই আমরা তা দাখিল করেছি। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে আমরা যেমন ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা রাখতে চেয়েছি, ঠিক একইভাবে অপরাধীদের সামনে একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছি। এরই অংশ হিসেবে আগামী ১ জুন থেকে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধরুন। রামিসা হত্যা মামলার মতো মাগুরার আসিয়াসহ যত ফাঁসির আসামি নির্জন প্রকোষ্ঠে (কনডেম সেল) আছেন, তাদের মামলার নিষ্পত্তি আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে করব, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল যে কয়েকটি হত্যা মামলা ছিল, তার মধ্যে মেজর সিনহা ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা অন্যতম। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত সমাপ্ত করে আসতে চেয়েছিলাম। আশা করি, আপিল বিভাগও এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেবেন।’
মেধা ও মনন মঞ্চের কার্যক্রমের প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয় এবং আমরা একে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখতেও চাই না। আমি চাই এই সংগঠনটি একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সমাজের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করুক।’ তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবাইকে রাজনীতি করতে হবে না। আমরা চাই আগামী প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শৈলকুপার এই মেধাবীরা শুধু দেশে নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক। আপনারা এখান থেকে বেশি বেশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিসিএস কর্মকর্তা ও আইনজীবী হোন।’
শৈলকুপাকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও মাস্তানি দেখতে চাই না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্যই হলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষামুখী করা। এ কারণে আগামী ৭ জুন যে বাজেট আসছে, সেখানে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে একটি বড় বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে আমরা আশা করছি।’
মেধা ও মনন মঞ্চের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ তুর্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এ কে এম মতিনুর রহমান, রোজ ইন্টিমেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বিদ্যুৎ এবং শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে শৈলকুপা উপজেলার ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
ফাঁসির আসামিদের পেপার বুক তৈরির দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘এই বিষয়ের সঙ্গে শুধুমাত্র আমরা বা সরকার জড়িত নই; এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টও জড়িত। ইতিমধ্যে আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। ফাঁসির আসামিদের বিচার ও দণ্ড প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য যতটা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, আমি ঠিক ততটাই নেব। আমরা এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বুধবার (২৭ মার্চ) বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে ‘মেধা ও মনন মঞ্চ’ নামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের আয়োজিত ‘দ্য গ্র্যান্ড ফিনালে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) হবে। আপনারা দেখেছেন, এক সপ্তাহ পূরণ হওয়ার আগেই আমরা তা দাখিল করেছি। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে আমরা যেমন ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা রাখতে চেয়েছি, ঠিক একইভাবে অপরাধীদের সামনে একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছি। এরই অংশ হিসেবে আগামী ১ জুন থেকে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধরুন। রামিসা হত্যা মামলার মতো মাগুরার আসিয়াসহ যত ফাঁসির আসামি নির্জন প্রকোষ্ঠে (কনডেম সেল) আছেন, তাদের মামলার নিষ্পত্তি আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে করব, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল যে কয়েকটি হত্যা মামলা ছিল, তার মধ্যে মেজর সিনহা ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা অন্যতম। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত সমাপ্ত করে আসতে চেয়েছিলাম। আশা করি, আপিল বিভাগও এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেবেন।’
মেধা ও মনন মঞ্চের কার্যক্রমের প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয় এবং আমরা একে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখতেও চাই না। আমি চাই এই সংগঠনটি একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সমাজের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করুক।’ তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবাইকে রাজনীতি করতে হবে না। আমরা চাই আগামী প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শৈলকুপার এই মেধাবীরা শুধু দেশে নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক। আপনারা এখান থেকে বেশি বেশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিসিএস কর্মকর্তা ও আইনজীবী হোন।’
শৈলকুপাকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও মাস্তানি দেখতে চাই না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্যই হলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষামুখী করা। এ কারণে আগামী ৭ জুন যে বাজেট আসছে, সেখানে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে একটি বড় বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে আমরা আশা করছি।’
মেধা ও মনন মঞ্চের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ তুর্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এ কে এম মতিনুর রহমান, রোজ ইন্টিমেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বিদ্যুৎ এবং শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে শৈলকুপা উপজেলার ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন