প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
বাদ মাগরিব ঢাকায় ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদের প্রথম জানাজা হয়। তোফায়েল আহমেদের স্ত্রীর বড় ভাই মামুন তালুকদার শেখ জানান, মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে করে লাশ ভোলায় নেওয়া হবে। সেখানে বাদ জোহর দ্বিতীয় জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে।
স্কয়ার হাসপাতালের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রায়হান রাব্বানীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আট মাস আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় তার মৃত্যু হয়।’
হাসপাতালের তরফে ডা. রায়হান রাব্বানী এবং ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তৌহিদুজ্জামান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার চিকিৎসার তথ্য তুলে ধরেন।
ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির ’উজ্জ্বল নক্ষত্র’ তোফায়েল আহমেদ ‘এক সময়’ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী ছিলেন। কলেজ জীবনেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এ রাজনীতিক দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ফোরাম- সভাপতিম-লীর সদস্য ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
তোফায়েল আহমেদের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর, দ্বীপ জেলা ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম আজহার আলী এবং মাতার নাম ফাতেমা খানম। ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে ১৯৬০ সালে তৎকালীন ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর ভর্তি হন বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে। সেখান থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি এবং ১৯৬৪ সালে বিএসসি সম্পন্ন করেন। সে বছরই তিনি ভোলা শহরের আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র সন্তান তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী পেশায় চিকিৎসক।
ব্রজমোহন কলেজে স্নাতক শেষে তোফায়েল আহমেদ ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে; মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্পন্ন করেন স্নাতকোত্তর। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন ইকবাল হল (শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, পরের বছর মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি থাকাকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা কর্মসূচি ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তিদানে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান বাধ্য হন। পরদিন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসেবে তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেন। গণঅভ্যুত্থানেই আইয়ুব খানের পতন ঘটে, অবসান হয় মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার।
উনসত্তরেই তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। আবাসিক হল ও ডাকসুর ভিপি থাকাকালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহচর্যে আসেন। পরের বছরের ২ জুন শেখ মুজিবের নির্দেশে তোফায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন। সে বছর ভোলার দৌলতখান-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
মুক্তিযুদ্ধে ‘মুজিব বাহিনী’র অঞ্চলভিত্তিক চার প্রধানের একজন ছিলেন তোফায়েল। তিনি ছিলেন বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা সমন্বয়ে গঠিত পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে।
মুজিবনগর সরকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংগঠক তোফায়েল দেশ স্বাধীনের পর সংবিধান প্রণয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন।
এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে তিনি ভোলা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পঁচাত্তরের ২৫ জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ‘রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী’ নিযুক্ত হন তোফায়েল। সে বছরই বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল গঠিত হলে এর যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর তোফায়েল আহমেদ দুই বছর ৯ মাসের মতো কারাবন্দী ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালে তোফায়েল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন তিনি।
তোফায়েল আহমেদ নৌকা প্রতীক নিয়ে মোট ১২ বার জাতীয় নির্বাচন করেছেন। সবমিলিয়ে তিনি নয়বার সংসদ সদস্য হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তোফায়েল আহমেদ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪ সাল থেকে থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
বাদ মাগরিব ঢাকায় ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদের প্রথম জানাজা হয়। তোফায়েল আহমেদের স্ত্রীর বড় ভাই মামুন তালুকদার শেখ জানান, মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে করে লাশ ভোলায় নেওয়া হবে। সেখানে বাদ জোহর দ্বিতীয় জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে।
স্কয়ার হাসপাতালের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রায়হান রাব্বানীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আট মাস আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় তার মৃত্যু হয়।’
হাসপাতালের তরফে ডা. রায়হান রাব্বানী এবং ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তৌহিদুজ্জামান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার চিকিৎসার তথ্য তুলে ধরেন।
ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির ’উজ্জ্বল নক্ষত্র’ তোফায়েল আহমেদ ‘এক সময়’ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী ছিলেন। কলেজ জীবনেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এ রাজনীতিক দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ফোরাম- সভাপতিম-লীর সদস্য ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
তোফায়েল আহমেদের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর, দ্বীপ জেলা ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম আজহার আলী এবং মাতার নাম ফাতেমা খানম। ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে ১৯৬০ সালে তৎকালীন ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর ভর্তি হন বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে। সেখান থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি এবং ১৯৬৪ সালে বিএসসি সম্পন্ন করেন। সে বছরই তিনি ভোলা শহরের আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র সন্তান তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী পেশায় চিকিৎসক।
ব্রজমোহন কলেজে স্নাতক শেষে তোফায়েল আহমেদ ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে; মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্পন্ন করেন স্নাতকোত্তর। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন ইকবাল হল (শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, পরের বছর মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি থাকাকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা কর্মসূচি ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তিদানে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান বাধ্য হন। পরদিন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসেবে তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেন। গণঅভ্যুত্থানেই আইয়ুব খানের পতন ঘটে, অবসান হয় মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার।
উনসত্তরেই তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। আবাসিক হল ও ডাকসুর ভিপি থাকাকালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহচর্যে আসেন। পরের বছরের ২ জুন শেখ মুজিবের নির্দেশে তোফায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন। সে বছর ভোলার দৌলতখান-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
মুক্তিযুদ্ধে ‘মুজিব বাহিনী’র অঞ্চলভিত্তিক চার প্রধানের একজন ছিলেন তোফায়েল। তিনি ছিলেন বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা সমন্বয়ে গঠিত পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে।
মুজিবনগর সরকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংগঠক তোফায়েল দেশ স্বাধীনের পর সংবিধান প্রণয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন।
এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে তিনি ভোলা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পঁচাত্তরের ২৫ জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ‘রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী’ নিযুক্ত হন তোফায়েল। সে বছরই বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল গঠিত হলে এর যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর তোফায়েল আহমেদ দুই বছর ৯ মাসের মতো কারাবন্দী ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালে তোফায়েল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন তিনি।
তোফায়েল আহমেদ নৌকা প্রতীক নিয়ে মোট ১২ বার জাতীয় নির্বাচন করেছেন। সবমিলিয়ে তিনি নয়বার সংসদ সদস্য হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তোফায়েল আহমেদ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪ সাল থেকে থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

আপনার মতামত লিখুন