সংবাদ

পাহাড়ের বুক চিরে নামা অপরূপ পরিকুণ্ড


প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: ২ জুন ২০২৬, ১০:৩০ এএম

পাহাড়ের বুক চিরে নামা অপরূপ পরিকুণ্ড
মাধবকুণ্ডের পাশেই এক শান্ত ও মনোরম পরিবেশ পরিকুণ্ডে। ছবি : সংবাদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের নাম ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অতি পরিচিত। তবে এই মাধবকুণ্ডের ঠিক পাশেই পাহাড়ের নিভৃতে বয়ে চলা আরেক সৌন্দর্যের নাম ‘পরিকুণ্ড’ জলপ্রপাত। একসময় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে ঝরনাটি এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়লেখা উপজেলার কাঠালিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া পাহাড়ের বুক চিরে প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে পরিকুণ্ডের জলধারা। মাধবকুণ্ডের তুলনায় এই এলাকাটি কিছুটা নির্জন ও শান্ত। এই নির্জনতাই এখন অনেক পর্যটককে টেনে আনছে এখানে।

স্থানীয়রা জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও পরিকুণ্ডের কথা সাধারণ পর্যটকেরা জানতেন না। মূলত অভিযাত্রী ও স্থানীয় তরুণদের মধ্যেই এর পরিচিতি সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি ফেসবুক ও ইউটিউবে ঝরনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এটি পর্যটকদের নজরে আসে। এখন সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পরিকুণ্ডে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়।

মাধবকুণ্ডের শিবমন্দিরের বিপরীত দিকের পাহাড়ি ছড়া ও পাথুরে পথ ধরে কিছুটা পথ হেঁটে গেলেই দেখা মেলে এই জলপ্রপাতের। বিশেষ করে বর্ষাকালে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা সাদা জলধারা এক অন্যরকম রূপ ধারণ করে। সিলেট থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শ্যামল কান্তি বৈদ্য বলেন, ‘মাধবকুণ্ডে অনেকবার এসেছি, কিন্তু পরিকুণ্ডের শান্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অনন্য। পাথুরে ঝিরিপথ দিয়ে এখানে আসার অভিজ্ঞতাও দারুণ রোমাঞ্চকর।’

এদিকে পর্যটক বাড়ার ফলে স্থানীয় ব্যবসা ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও পরিবেশ নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। পর্যটকদের ফেলে আসা প্লাস্টিক বর্জ্য ও খাবারের প্যাকেটে ঝরনা এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো গেলে পরিকুণ্ড জলপ্রপাত দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


পাহাড়ের বুক চিরে নামা অপরূপ পরিকুণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের নাম ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অতি পরিচিত। তবে এই মাধবকুণ্ডের ঠিক পাশেই পাহাড়ের নিভৃতে বয়ে চলা আরেক সৌন্দর্যের নাম ‘পরিকুণ্ড’ জলপ্রপাত। একসময় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে ঝরনাটি এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়লেখা উপজেলার কাঠালিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া পাহাড়ের বুক চিরে প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে পরিকুণ্ডের জলধারা। মাধবকুণ্ডের তুলনায় এই এলাকাটি কিছুটা নির্জন ও শান্ত। এই নির্জনতাই এখন অনেক পর্যটককে টেনে আনছে এখানে।

স্থানীয়রা জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও পরিকুণ্ডের কথা সাধারণ পর্যটকেরা জানতেন না। মূলত অভিযাত্রী ও স্থানীয় তরুণদের মধ্যেই এর পরিচিতি সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি ফেসবুক ও ইউটিউবে ঝরনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এটি পর্যটকদের নজরে আসে। এখন সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পরিকুণ্ডে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়।

মাধবকুণ্ডের শিবমন্দিরের বিপরীত দিকের পাহাড়ি ছড়া ও পাথুরে পথ ধরে কিছুটা পথ হেঁটে গেলেই দেখা মেলে এই জলপ্রপাতের। বিশেষ করে বর্ষাকালে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা সাদা জলধারা এক অন্যরকম রূপ ধারণ করে। সিলেট থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শ্যামল কান্তি বৈদ্য বলেন, ‘মাধবকুণ্ডে অনেকবার এসেছি, কিন্তু পরিকুণ্ডের শান্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অনন্য। পাথুরে ঝিরিপথ দিয়ে এখানে আসার অভিজ্ঞতাও দারুণ রোমাঞ্চকর।’

এদিকে পর্যটক বাড়ার ফলে স্থানীয় ব্যবসা ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও পরিবেশ নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। পর্যটকদের ফেলে আসা প্লাস্টিক বর্জ্য ও খাবারের প্যাকেটে ঝরনা এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো গেলে পরিকুণ্ড জলপ্রপাত দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত