সংবাদ

তীব্র গরমে স্বস্তি দিচ্ছে তালের কচি শাঁস


প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

তীব্র গরমে স্বস্তি দিচ্ছে তালের কচি শাঁস
বাজারে হরেক ফলের ভিড়ে কদর বেড়েছে তালের শাঁসের। ছবি : সংবাদ

নরসিংদীতে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ। এই কাঠফাটা গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ও শরীর ঠান্ডা রাখতে জেলার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তালের কচি শাঁস। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় শহর থেকে গ্রাম সবখানেই এখন তালের শাঁসের কদর বেড়েছে।

জ্যৈষ্ঠের এই সময়ে বাজারে আম, জাম, লিচু ও কাঁঠালের দেখা মিললেও তালের শাঁসের চাহিদা অন্য সব ফলের চেয়ে বেশি। জেলার বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও জনাকীর্ণ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দোকানে তালের শাঁস বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। নরসিংদী রেল স্টেশন, কাউরিয়া পাড়া ঈদগাহ, শিক্ষা চত্বর, শাপলা চত্বর, নতুন বাসস্ট্যান্ড, জেলখানা মোড় ও ভেলানগর বাজারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।

চাহিদা বেশি থাকায় দামও কিছুটা চড়া। প্রতিটি তাল আকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা ধারালো দা দিয়ে তাল কেটে শাঁস বের করে দিচ্ছেন তৃষ্ণার্ত ক্রেতাদের। অনেকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে খাচ্ছেন, আবার অনেকে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

শহরের শিক্ষা চত্বরে তালের শাঁস কিনতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী তারিন আক্তার বলেন, ‘গরমে একটু স্বস্তি পেতে ৬০ টাকায় দুটি তাল কিনলাম। মাঝেমধ্যে বাড়িতেও নিয়ে যাই।’ জেলখানা মোড়ের বিক্রেতা আল আমিন জানান, প্রতিটি তালে ৩ থেকে ৪টি শাঁস থাকে। প্রতি পিস শাঁস ১০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি শাঁস বিক্রি হয় তার।

ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিটি তাল ৫-১০ টাকায় কিনে এনে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়েই এই ব্যবসা জমজমাট থাকে। শিবপুরের বাসিন্দা মাজারুল ইসলাম বলেন, এখন কচি তালের সময়। কয়েক দিন পর শাঁস শক্ত হয়ে গেলে তা দিয়ে পিঠা তৈরি করা হয়।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবীর বলেন, তালের শাঁস শরীর ও পেট ঠান্ডা রাখে। এতে প্রয়োজনীয় আমিষ, শর্করা ও খাদ্যআঁশ আছে, যা হজমে সহায়ক। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনসমৃদ্ধ তালের শাঁস হাড় গঠনেও ভূমিকা রাখে। তবে রাস্তার ধারের খোলা দোকানে ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে বিক্রেতাদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


তীব্র গরমে স্বস্তি দিচ্ছে তালের কচি শাঁস

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

নরসিংদীতে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ। এই কাঠফাটা গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ও শরীর ঠান্ডা রাখতে জেলার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তালের কচি শাঁস। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় শহর থেকে গ্রাম সবখানেই এখন তালের শাঁসের কদর বেড়েছে।

জ্যৈষ্ঠের এই সময়ে বাজারে আম, জাম, লিচু ও কাঁঠালের দেখা মিললেও তালের শাঁসের চাহিদা অন্য সব ফলের চেয়ে বেশি। জেলার বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও জনাকীর্ণ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দোকানে তালের শাঁস বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। নরসিংদী রেল স্টেশন, কাউরিয়া পাড়া ঈদগাহ, শিক্ষা চত্বর, শাপলা চত্বর, নতুন বাসস্ট্যান্ড, জেলখানা মোড় ও ভেলানগর বাজারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।

চাহিদা বেশি থাকায় দামও কিছুটা চড়া। প্রতিটি তাল আকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা ধারালো দা দিয়ে তাল কেটে শাঁস বের করে দিচ্ছেন তৃষ্ণার্ত ক্রেতাদের। অনেকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে খাচ্ছেন, আবার অনেকে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

শহরের শিক্ষা চত্বরে তালের শাঁস কিনতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী তারিন আক্তার বলেন, ‘গরমে একটু স্বস্তি পেতে ৬০ টাকায় দুটি তাল কিনলাম। মাঝেমধ্যে বাড়িতেও নিয়ে যাই।’ জেলখানা মোড়ের বিক্রেতা আল আমিন জানান, প্রতিটি তালে ৩ থেকে ৪টি শাঁস থাকে। প্রতি পিস শাঁস ১০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি শাঁস বিক্রি হয় তার।

ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিটি তাল ৫-১০ টাকায় কিনে এনে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়েই এই ব্যবসা জমজমাট থাকে। শিবপুরের বাসিন্দা মাজারুল ইসলাম বলেন, এখন কচি তালের সময়। কয়েক দিন পর শাঁস শক্ত হয়ে গেলে তা দিয়ে পিঠা তৈরি করা হয়।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবীর বলেন, তালের শাঁস শরীর ও পেট ঠান্ডা রাখে। এতে প্রয়োজনীয় আমিষ, শর্করা ও খাদ্যআঁশ আছে, যা হজমে সহায়ক। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনসমৃদ্ধ তালের শাঁস হাড় গঠনেও ভূমিকা রাখে। তবে রাস্তার ধারের খোলা দোকানে ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে বিক্রেতাদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত