সংবাদ

বাংলাদেশে চলবে বুলেট ট্রেন, জানালেন চীনা রাষ্ট্রদূত


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

বাংলাদেশে চলবে বুলেট ট্রেন, জানালেন চীনা রাষ্ট্রদূত

চীনের উচ্চগতির রেল প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহারের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

​শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সমিতি’ আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

​সেমিনারে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার এক বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করা, বুলেট ট্রেন চালুর সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সক্রিয় মধ্যস্থতার বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা ও বুলেট ট্রেনের সম্ভাবনা নিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, "বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম) নিয়ে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।" উন্নয়ন, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দিতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন আন্তরিকভাবে কাজ করছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, "প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে বেইজিং পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।" এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশের তাজা কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে আমের পর এবার দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালও চীনের বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, "মিয়ানমারে বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে এবং একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে চীন তার মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


বাংলাদেশে চলবে বুলেট ট্রেন, জানালেন চীনা রাষ্ট্রদূত

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

চীনের উচ্চগতির রেল প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহারের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

​শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সমিতি’ আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

​সেমিনারে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার এক বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করা, বুলেট ট্রেন চালুর সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সক্রিয় মধ্যস্থতার বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা ও বুলেট ট্রেনের সম্ভাবনা নিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, "বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম) নিয়ে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।" উন্নয়ন, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দিতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন আন্তরিকভাবে কাজ করছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, "প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে বেইজিং পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।" এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশের তাজা কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে আমের পর এবার দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালও চীনের বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, "মিয়ানমারে বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে এবং একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে চীন তার মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।"



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত