সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সহায়তার তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের সচ্ছল আত্মীয়স্বজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা।
অভিযোগ উঠেছে, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও শাল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় তালিকা তৈরিতে আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে যাদের কোনো কৃষিজমি নেই, এমনকি মৃত ব্যক্তি ও প্রবাসীদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নামের প্রস্তাব পাঠানো হলেও শেষ পর্যন্ত ৬৪ হাজার জনের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা টানা তিন মাস মাসে তিন হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল পাবেন।
শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামে তালিকায় অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কৃষকেরা।
ভাটগাঁও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মাসুক, আলেক মিয়া ও মাসুক তালুকদার বলেন, গ্রামে প্রায় আড়াই শ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাত্র ৯টি কার্ড এসেছে। এর মধ্যে তিনজনই ভূমিহীন এবং তারা ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রভাব খাটিয়ে টাকার বিনিময়ে নিজের আত্মীয়দের নাম তালিকায় দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তালিকায় পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের ছোট ভাই সাজ্জাদুল হক, বিএনপি নেতা মাহবুব মুর্শেদ ও তার ভাইদের নাম রয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ভাই ও আত্মীয়দের নামও তালিকায় স্থান পেয়েছে। নওধার গ্রামের কৃষক কাজী নুর জানান, আবু শ্যামা আকন্দ নামের এক ব্যক্তি ঢাকায় থাকেন, অথচ তার নামও কৃষি তালিকায় উঠেছে।
পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক কিছু ভুলের কথা স্বীকার করেছেন। ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ থাকায় বর্তমানে বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে তালিকা সংশোধন করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, স্থানীয় প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা মিলেই তালিকা করেছেন। তবে কোনো অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (সার্বিক) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন