আগে বাজেট ঘোষণার পর ‘গরিব মারার বাজেট মানি না’ বলে মিছিল হলেও এখন কেবল মদ ও সিগারেটের দাম বাড়লে মিছিল হয় বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ পৌরসভায় একটি অত্যাধুনিক কসাইখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনকল্যাণমুখী বাজেট দিয়েছে। আগে আমরা দেখেছি, বাজেট ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল হতো। মিছিলের স্লোগান হতো-গরিব মারার বাজেট মানি না। আর এখন বাজেট ঘোষণার পর মিছিল হয়-সিগারেটের দাম বাড়ল কেন, মদের দাম বাড়ল কেন?’
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভোটের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। ইতিমধ্যে সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। আজ ১৯টি জেলায় এই কার্ড উদ্বোধন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, সরকার ইতিমধ্যে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেছে এবং ইমামদের ভাতার কর্মসূচিও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এবারের বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের কর্মসূচিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে পশু জবাই করা হলে মাংসের গুণগত মান বজায় থাকে। ঝিনাইদহবাসীর জন্য এই কসাইখানা একটি মাইলফলক। সরকার জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মাদক নির্মূলে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি দেখেন প্রশাসন কাজ করছে না, তবে আমার নম্বরে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠাবেন। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায় ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪৯ শতক জমির ওপর এই আধুনিক কসাইখানাটি নির্মিত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট এর নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিস্টালটেক-এনএকে (জেভি)’। আড়াই হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই কসাইখানাটি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন