সংবাদ

বসতভিটা উঁচু করে ভাগ্যবদল


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

বসতভিটা উঁচু করে ভাগ্যবদল
ছবি : সংবাদ

বন্যা আর নদীভাঙনের চরাঞ্চলে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জামফুল বেগম। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার রতনপুর গ্রামের এই নারী একসময় প্রতিবছর বন্যার করাল গ্রাসে সর্বস্ব হারাতেন। তবে বসতভিটা উঁচুকরণ ও সবজি চাষ এখন তার জীবনের চিত্র বদলে দিয়েছে।

জামফুলের পরিবারে সদস্য সংখ্যা ছয়। আগে প্রতিবছর বন্যায় বসতভিটা তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতো এবং পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটত তার। বসবাসের নিরাপত্তা না থাকায় বাড়ির আঙিনায় কোনো সবজি চাষ করাও সম্ভব হতো না।

জামফুলের এই সংকটময় সময়ে পাশে দাঁড়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র’ (জিইউকে)। সংস্থাটির বাস্তবায়িত ‘প্রুফস’ প্রকল্পের আওতায় তার বসতভিটা উঁচুকরণ করা হয়। এতে ঘরবাড়ি বন্যার ঝুঁকি থেকে মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ খুলে যায়।

ভিটা উঁচু করার পর বাড়ির চারপাশের পতিত ও খালি জায়গায় আধুনিক পদ্ধতিতে মৌসুমি সবজি চাষ শুরু করেন জামফুল। বর্তমানে তার বাড়ির আঙিনায় লাউ, পুঁইশাক, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও করলাসহ নানা পদের পুষ্টিকর ও বিষমুক্ত সবজি শোভা পাচ্ছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তিনি।

সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে জামফুল বেগম বলেন, ‘প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ ও উন্নত মানের বীজ পেয়ে সবজি চাষে খুব ভালো ফলন হয়েছে। এখন আর বন্যায় ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার ভয় নেই। আমার এই ঘুরে দাঁড়ানো দেখে এখন প্রতিবেশীরাও বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বসতভিটা উঁচুকরণের মাধ্যমে চরাঞ্চলের গ্রামীণ নারীদের এমন স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা টেকসই উন্নয়নের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


বসতভিটা উঁচু করে ভাগ্যবদল

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

বন্যা আর নদীভাঙনের চরাঞ্চলে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জামফুল বেগম। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার রতনপুর গ্রামের এই নারী একসময় প্রতিবছর বন্যার করাল গ্রাসে সর্বস্ব হারাতেন। তবে বসতভিটা উঁচুকরণ ও সবজি চাষ এখন তার জীবনের চিত্র বদলে দিয়েছে।

জামফুলের পরিবারে সদস্য সংখ্যা ছয়। আগে প্রতিবছর বন্যায় বসতভিটা তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতো এবং পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটত তার। বসবাসের নিরাপত্তা না থাকায় বাড়ির আঙিনায় কোনো সবজি চাষ করাও সম্ভব হতো না।

জামফুলের এই সংকটময় সময়ে পাশে দাঁড়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র’ (জিইউকে)। সংস্থাটির বাস্তবায়িত ‘প্রুফস’ প্রকল্পের আওতায় তার বসতভিটা উঁচুকরণ করা হয়। এতে ঘরবাড়ি বন্যার ঝুঁকি থেকে মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ খুলে যায়।

ভিটা উঁচু করার পর বাড়ির চারপাশের পতিত ও খালি জায়গায় আধুনিক পদ্ধতিতে মৌসুমি সবজি চাষ শুরু করেন জামফুল। বর্তমানে তার বাড়ির আঙিনায় লাউ, পুঁইশাক, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও করলাসহ নানা পদের পুষ্টিকর ও বিষমুক্ত সবজি শোভা পাচ্ছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তিনি।

সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে জামফুল বেগম বলেন, ‘প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ ও উন্নত মানের বীজ পেয়ে সবজি চাষে খুব ভালো ফলন হয়েছে। এখন আর বন্যায় ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার ভয় নেই। আমার এই ঘুরে দাঁড়ানো দেখে এখন প্রতিবেশীরাও বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বসতভিটা উঁচুকরণের মাধ্যমে চরাঞ্চলের গ্রামীণ নারীদের এমন স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা টেকসই উন্নয়নের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত