ছোট ছোট দু’কক্ষ বিশিষ্ট আধাপাকা ঘর আর সেই জমির মালিকানা। এতটুকুই ছিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক পরিবারের বাসিন্দাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
নদীভাঙন, দরিদ্রতা আর ঠিকানাহীন জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাথা গোঁজার যে শেষ আশ্রয়স্থল তারা পেয়েছিলেন, আজ তা ধ্বংসের মুখে। ডুমুরিয়ার চুকনগর ও কাঁঠালতলার বরাতিয়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প লাগোয়া বুড়িভদ্রা নদী খননের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই মানবিক বিপর্যয়ের সূচনা।
২০২১ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় তিনটি ধাপে ডুমুরিয়ার চুকনগর, কাঁঠালতলা-বরাতিয়া ও খর্নিয়া এলাকায় শতাধিক ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করে সরকার। তাদের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি-পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, বুড়িভদ্রা নদীর চরে চুকনগর অংশে ১৪৫টি এবং কাঁঠালতলা-বরাতিয়া অংশে ১২৪টি ঘর নির্মাণ করেছিল সরকার। কিন্তু পাঁচ মাস আগে বুড়িভদ্রা নদী খনন শুরু হওয়ায় চুকনগর অংশে উচ্ছেদ করা হয় ১৪৩টি ঘর। বর্তমানে সেখানে অক্ষত আছে মাত্র দুটি ঘর। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো চুকনগর বাজারের পাশে সাপ্তাহিক গরুর হাটে খোলা মাঠে বাস করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরনো টিন, পলিথিন আর কাপড় দিয়ে বানানো ছোট ছোট ঝুপড়িতে প্রচণ্ড রোদ, কাদা-বৃষ্টির মধ্যেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।
আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রায় এক হাজার মানুষ কয়েক মাস ধরে চুকনগর বাজারের পাশে খোলা একটি মাঠে বাস করছে। সেখানে বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, নিরাপত্তা নেই, খাবারের কষ্টও আছে।
বিষয়টি অনেক বার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে হেলাল বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা; কিন্তু ডুমুরিয়ার চুকনগরে সেই প্রকল্পের বাসিন্দাদেরই এখন খোলা মাঠে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল বলেন, একদিকে নদী খনন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে আশ্রয়হীন মানুষের মানবিক সংকট- দুই বাস্তবতার মাঝখানে আটকে পড়েছে প্রায় এক হাজার মানুষের জীবন। পুনর্বাসনের আশ্বাস মিললেও কবে তারা আবার স্থায়ী ঠিকানায় ফিরতে পারবেন- সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
এদিকে, চুকনগরে উচ্ছেদের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন সংকটে পড়েছেন কাঁঠালতলা-বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। নদী খননের বিপুল পরিমাণ মাটি বাসিন্দাদের ঘরগুলোর পাশে রাখা হয়েছে স্তূপ করে। সেই মাটির চাপেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১২টি ঘর। বন্ধ হয়েছে বাসিন্দাদের চলাচলের পথ। বর্ষা শুরু হওয়ায় মাটির স্তূপ ঘিরে শঙ্কা তৈরী হয়েছে। নদীতে ধসে পড়ার হুমকিতে পড়েছে অনেক ঘর।
সরেজমিনে বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, নদী খননের মাটি একেবারেই নদীর পাড়ে ফেলার কারণে কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে মাটির বিশাল স্তূপ।যা বৃষ্টিতে ধুয়ে নামছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের উপর। পলিমাটিতে অনেক ঘরের পেছনের দেয়াল ও জানালা ভেঙে ভেতরে কাদা ঢুকে গেছে। মাটির ভারে ঘরের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল ধরেছে। বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের ঘরের খাট, হাঁড়ি-পাতিলসহ আসবাবপত্র বাইরে বের করে খোলা আকাশের নিচে এনে রেখেছেন।
কাঁঠালতলার স্থানীয় বাসিন্দা রোজিনা বেগম জানালেন, নদী খননের মাটি পাহাড়ের মতো উঁচু করে রাখা হয়েছে। এতে বন্ধ হয়েছে বাসিন্দাদের চলাচলের পথ। কয়েক দিন আগে বৃষ্টির সময় সেই মাটি ধসে তিন বছরের এক শিশু চাপা পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করায় বেঁচে যায়।
বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী রহিমা বেগম অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, নদী ভাঙনে সব হারিয়ে এইহানে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইছিলাম। সরকার ঘর দিছিল। এহন নদীর কাঁদা-মাটি এনে আমাদের ঘরের ওপর ফেলছে। ঘরের দেয়াল চড়চড় করে ফাটতেছে। রাইতে ঘুমাতে পারি না, মনে হয় এই বুঝি মাটি চাপা পড়ে মরে গেলাম।
রহিমা বলেন, খননের সময় মেশিন দিয়ে ঘরের একদম গোড়া পর্যন্ত কাটা হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরগুলো নদীতে ধসে পড়বে। মাটির অতিরিক্ত চাপের কারণে ঘরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিজেরাই ঘরের ভেতর থেকে মাটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রকল্পের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী ময়না বেগম বলেন, প্রচন্ড গরমে ঘরে থাহার উপায় নেই। ঘরে দরজার অংশ ভাঙে গেছে। কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। শিশুদের নিয়ে ঘরে নিরাপদে থাকতি পারতিছি নে। রান্না করার জায়গা নেই। বাথরুম, টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের জিনিসপত্রও সরিয়ে রাখতে হয়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তথ্য বলছে, খুলনা ও যশোর অঞ্চলে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার খননকাজ চলছে।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, যশোরের সদর উপজেলার আংশিক, অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয় শ্রীনদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে। কিন্তু পলি পড়ে এলাকার মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর বুক উঁচু হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে এলাকার বিলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বোরো আবাদ হচ্ছে না। এতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী বলেন, ইতোমধ্যে নদী খননের ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হবে। খননের মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর পাশে রাখায় মানুষের যাতায়াতে একটু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পুনর্বাসনে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। তবে মাটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোও মেরামত করা হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার এ বিষয়ে বলেন, নদী খননের প্রকল্পটি যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। বরাতিয়ায় আশ্রয়ণের ঘরের পাশে যে মাটি ফেলা হয়েছে, তিনি নিজে গিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে।ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাধানে মাটি সরানো শুরু হয়েছে। কারও ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।
চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে বিষয়টি; কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
ছোট ছোট দু’কক্ষ বিশিষ্ট আধাপাকা ঘর আর সেই জমির মালিকানা। এতটুকুই ছিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক পরিবারের বাসিন্দাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
নদীভাঙন, দরিদ্রতা আর ঠিকানাহীন জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাথা গোঁজার যে শেষ আশ্রয়স্থল তারা পেয়েছিলেন, আজ তা ধ্বংসের মুখে। ডুমুরিয়ার চুকনগর ও কাঁঠালতলার বরাতিয়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প লাগোয়া বুড়িভদ্রা নদী খননের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই মানবিক বিপর্যয়ের সূচনা।
২০২১ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় তিনটি ধাপে ডুমুরিয়ার চুকনগর, কাঁঠালতলা-বরাতিয়া ও খর্নিয়া এলাকায় শতাধিক ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করে সরকার। তাদের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি-পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, বুড়িভদ্রা নদীর চরে চুকনগর অংশে ১৪৫টি এবং কাঁঠালতলা-বরাতিয়া অংশে ১২৪টি ঘর নির্মাণ করেছিল সরকার। কিন্তু পাঁচ মাস আগে বুড়িভদ্রা নদী খনন শুরু হওয়ায় চুকনগর অংশে উচ্ছেদ করা হয় ১৪৩টি ঘর। বর্তমানে সেখানে অক্ষত আছে মাত্র দুটি ঘর। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো চুকনগর বাজারের পাশে সাপ্তাহিক গরুর হাটে খোলা মাঠে বাস করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরনো টিন, পলিথিন আর কাপড় দিয়ে বানানো ছোট ছোট ঝুপড়িতে প্রচণ্ড রোদ, কাদা-বৃষ্টির মধ্যেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।
আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রায় এক হাজার মানুষ কয়েক মাস ধরে চুকনগর বাজারের পাশে খোলা একটি মাঠে বাস করছে। সেখানে বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, নিরাপত্তা নেই, খাবারের কষ্টও আছে।
বিষয়টি অনেক বার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে হেলাল বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা; কিন্তু ডুমুরিয়ার চুকনগরে সেই প্রকল্পের বাসিন্দাদেরই এখন খোলা মাঠে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল বলেন, একদিকে নদী খনন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে আশ্রয়হীন মানুষের মানবিক সংকট- দুই বাস্তবতার মাঝখানে আটকে পড়েছে প্রায় এক হাজার মানুষের জীবন। পুনর্বাসনের আশ্বাস মিললেও কবে তারা আবার স্থায়ী ঠিকানায় ফিরতে পারবেন- সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
এদিকে, চুকনগরে উচ্ছেদের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন সংকটে পড়েছেন কাঁঠালতলা-বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। নদী খননের বিপুল পরিমাণ মাটি বাসিন্দাদের ঘরগুলোর পাশে রাখা হয়েছে স্তূপ করে। সেই মাটির চাপেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১২টি ঘর। বন্ধ হয়েছে বাসিন্দাদের চলাচলের পথ। বর্ষা শুরু হওয়ায় মাটির স্তূপ ঘিরে শঙ্কা তৈরী হয়েছে। নদীতে ধসে পড়ার হুমকিতে পড়েছে অনেক ঘর।
সরেজমিনে বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, নদী খননের মাটি একেবারেই নদীর পাড়ে ফেলার কারণে কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে মাটির বিশাল স্তূপ।যা বৃষ্টিতে ধুয়ে নামছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের উপর। পলিমাটিতে অনেক ঘরের পেছনের দেয়াল ও জানালা ভেঙে ভেতরে কাদা ঢুকে গেছে। মাটির ভারে ঘরের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল ধরেছে। বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের ঘরের খাট, হাঁড়ি-পাতিলসহ আসবাবপত্র বাইরে বের করে খোলা আকাশের নিচে এনে রেখেছেন।
কাঁঠালতলার স্থানীয় বাসিন্দা রোজিনা বেগম জানালেন, নদী খননের মাটি পাহাড়ের মতো উঁচু করে রাখা হয়েছে। এতে বন্ধ হয়েছে বাসিন্দাদের চলাচলের পথ। কয়েক দিন আগে বৃষ্টির সময় সেই মাটি ধসে তিন বছরের এক শিশু চাপা পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করায় বেঁচে যায়।
বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী রহিমা বেগম অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, নদী ভাঙনে সব হারিয়ে এইহানে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইছিলাম। সরকার ঘর দিছিল। এহন নদীর কাঁদা-মাটি এনে আমাদের ঘরের ওপর ফেলছে। ঘরের দেয়াল চড়চড় করে ফাটতেছে। রাইতে ঘুমাতে পারি না, মনে হয় এই বুঝি মাটি চাপা পড়ে মরে গেলাম।
রহিমা বলেন, খননের সময় মেশিন দিয়ে ঘরের একদম গোড়া পর্যন্ত কাটা হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরগুলো নদীতে ধসে পড়বে। মাটির অতিরিক্ত চাপের কারণে ঘরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিজেরাই ঘরের ভেতর থেকে মাটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রকল্পের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী ময়না বেগম বলেন, প্রচন্ড গরমে ঘরে থাহার উপায় নেই। ঘরে দরজার অংশ ভাঙে গেছে। কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। শিশুদের নিয়ে ঘরে নিরাপদে থাকতি পারতিছি নে। রান্না করার জায়গা নেই। বাথরুম, টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের জিনিসপত্রও সরিয়ে রাখতে হয়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তথ্য বলছে, খুলনা ও যশোর অঞ্চলে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার খননকাজ চলছে।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, যশোরের সদর উপজেলার আংশিক, অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয় শ্রীনদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে। কিন্তু পলি পড়ে এলাকার মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর বুক উঁচু হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে এলাকার বিলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বোরো আবাদ হচ্ছে না। এতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী বলেন, ইতোমধ্যে নদী খননের ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হবে। খননের মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর পাশে রাখায় মানুষের যাতায়াতে একটু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পুনর্বাসনে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। তবে মাটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোও মেরামত করা হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার এ বিষয়ে বলেন, নদী খননের প্রকল্পটি যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। বরাতিয়ায় আশ্রয়ণের ঘরের পাশে যে মাটি ফেলা হয়েছে, তিনি নিজে গিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে।ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাধানে মাটি সরানো শুরু হয়েছে। কারও ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।
চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে বিষয়টি; কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

আপনার মতামত লিখুন