দুই দেশের সীমানা নির্ধারণী পিলারের মাঝখানের জায়গাটুকুকে বলা হয় ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা শূন্যরেখা। গত সাত দিন ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভুন্দুরচর সীমান্তের এই শূন্যরেখাই ঠিকানা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজন মানুষের। তাদের মাথার ওপর কোনো ছাদ নেই, নেই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিচয়। আছে শুধু দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর অবস্থান আর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
গত রোববার ভোর চারটা। চারদিকে যখন শেষ রাতের নিস্তব্ধতা, তখনই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এই পাঁচ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় গ্রামবাসী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সতর্ক পাহারায় সেই পুশইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় এক অমানবিক অপেক্ষার পালা।
এক সপ্তাহ ধরে এই পাঁচজন পুরুষ খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি সয়ে পড়ে আছেন। এদের মধ্যে দুজন গয়টাপাড়া সীমান্তে এবং তিনজন ভুন্দুরচর সীমান্তে অবস্থান করছেন। বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘ত্রিশঙ্কু’ অবস্থায়।
সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়ায় ভিজে এবং খোলা প্রান্তরে রাত কাটিয়ে মানুষগুলো শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাদের খাবার বা চিকিৎসার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। সীমান্তের ওপার থেকে বিএসএফ যেমন তাদের গ্রহণ করছে না, তেমনি নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এপার থেকেও তাদের প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা জিরো পয়েন্টে কড়া নজরদারি রাখছে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক বা আলোচনার চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।
কাটাতারের বেড়া আর পিলারের মাঝখানে পড়ে থাকা এই পাঁচটি প্রাণ এখন কেবলই এক কূটনৈতিক জটিলতার সাক্ষী। কতদিন এভাবে খোলা মাঠে পড়ে থাকতে হবে, কিংবা শেষ পর্যন্ত তাদের গন্তব্য কোথায় হবে—সেই উত্তর কারোরই জানা নেই। আপাতত ধু ধু মাঠ আর সীমান্তের নীরবতাই তাদের একমাত্র সঙ্গী।
আপনার মতামত লিখুন