সংবাদ

রাজবাড়ীতে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রির অভিযোগে উত্তেজনা


প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

রাজবাড়ীতে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রির অভিযোগে উত্তেজনা
রাজবাড়ীর পাংশায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধন পণ্ড করে দেওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা। ছবি : সংবাদ

রাজবাড়ীর পাংশায় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার (২১ জুন) সকালে এসব অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন করতে গেলে স্থানীয় একদল নেতাকর্মী তাতে বাধা দেন এবং কর্মসূচি পণ্ড করে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের পুঁইজোর আশুরহাট গোলাবাড়ী মুছিদাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী ও সাবেক সভাপতি ইউনুস হোসাইনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও জমিদাতা পরিবারের সদস্য ইমন হাসান রনি। 

বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হলে মৌরাট ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিএনপি নেতা আজমল হক তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নেন এবং আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন।

ইমন হাসান রনি অভিযোগ করেন, তার পরিবার এই বিদ্যালয়ের জমি দান করেছিল। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী ও সাবেক সভাপতি ইউনুস হোসাইন যোগসাজশ করে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া ভুয়া দাতা সদস্য বানানো এবং বিদ্যালয়ের ৪৭ শতাংশ জমির ২৭টি মেহগনি গাছ কেটে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

তবে বাধা দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতা আজমল হক বলেন, ‘অনিয়ম হলে আমরা এলাকাবাসী বসে সমাধান করব। কিন্তু আমাদের না জানিয়েই মানববন্ধন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাই বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাদের আজকে কর্মসূচি পালন করতে নিষেধ করেছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের জমি বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। মানববন্ধন পণ্ড হওয়ার সময় আমি বিদ্যালয়ে ছিলাম না, ইউএনও মহোদয় ডাকায় তার কার্যালয়ে গিয়েছিলাম।’

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রিফাতুল হক বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


রাজবাড়ীতে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রির অভিযোগে উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর পাংশায় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার (২১ জুন) সকালে এসব অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন করতে গেলে স্থানীয় একদল নেতাকর্মী তাতে বাধা দেন এবং কর্মসূচি পণ্ড করে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের পুঁইজোর আশুরহাট গোলাবাড়ী মুছিদাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী ও সাবেক সভাপতি ইউনুস হোসাইনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও জমিদাতা পরিবারের সদস্য ইমন হাসান রনি। 

বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হলে মৌরাট ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিএনপি নেতা আজমল হক তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নেন এবং আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন।

ইমন হাসান রনি অভিযোগ করেন, তার পরিবার এই বিদ্যালয়ের জমি দান করেছিল। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী ও সাবেক সভাপতি ইউনুস হোসাইন যোগসাজশ করে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া ভুয়া দাতা সদস্য বানানো এবং বিদ্যালয়ের ৪৭ শতাংশ জমির ২৭টি মেহগনি গাছ কেটে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

তবে বাধা দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতা আজমল হক বলেন, ‘অনিয়ম হলে আমরা এলাকাবাসী বসে সমাধান করব। কিন্তু আমাদের না জানিয়েই মানববন্ধন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাই বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাদের আজকে কর্মসূচি পালন করতে নিষেধ করেছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের জমি বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। মানববন্ধন পণ্ড হওয়ার সময় আমি বিদ্যালয়ে ছিলাম না, ইউএনও মহোদয় ডাকায় তার কার্যালয়ে গিয়েছিলাম।’

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রিফাতুল হক বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত