স্কুলব্যাগটা ঝোপের আড়ালে অবহেলায় পড়ে ছিল। যে ব্যাগে একদিন স্বপ্ন আর বইখাতার মলাট ছিল, আজ সেটি পড়ে ছিল নিথর দেহের পাশে। মানিকগঞ্জের সিংগাইরের চন্দননগর এলাকার নির্জন কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে রোববার (২১ জুন) উদ্ধার করা হয়েছে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়ার মরদেহ। ছয় দিন আগে যে কিশোরীটি অভিমান করে ঘর ছেড়েছিল, সে ফিরল ঠিকই, তবে প্রাণহীন দেহে।
মারিয়া সিংগাইরের সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। প্রবাসী বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে বড় হবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু গত ১৫ জুনের একটি ঘটনা ওলটপালট করে দিল সবকিছু। বিদ্যালয়ের সহপাঠীদের সঙ্গে তুচ্ছ কোনো আচরণের জেরে স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের ডেকে পাঠিয়েছিল। হয়তো কিশোরী মনের কোনো সূক্ষ্ম অভিমানেই সেদিন বাড়ি ফিরে মুঠোফোনটি রেখে নিরুদ্দেশ হয়েছিল সে।
গত ছয়টি দিন ছিল মারিয়ার পরিবারের জন্য এক দুঃসহ প্রতীক্ষার প্রহর। স্বজনেরা ভেবেছিলেন, হয়তো কোথাও রাগ করে আছে, ঠিক ফিরে আসবে। কিন্তু আজ বিকেলে চন্দননগরের সেই ঝোপ থেকে আসা এক দুঃসংবাদ সব আশা কেড়ে নিল। স্থানীয়রা ঝোপের পাশে একটি স্কুলব্যাগ ও মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে শনাক্ত করেন তাদের প্রিয় মারিয়াকে।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, মরদেহের সুরতহাল দেখে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্কুলপড়ুয়া এক কিশোরীর এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
মরদেহটি এখন হাসপাতালের হিমঘরে। যে মেয়েটির হাসিতে ঘর আলোকিত হতো, তার নিথর দেহ ঘিরে এখন কেবল স্বজনদের কান্নার রোল। কেন এমন হলো, এটি কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড-সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চন্দননগরের প্রতিটি মানুষের মুখে।
আপনার মতামত লিখুন