সংবাদ

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ‘সোনালি ৫০ বছর’: জলবায়ু মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের আহ্বান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ‘সোনালি ৫০ বছর’: জলবায়ু মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের আহ্বান

মালয়েশিয়ায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন তিনি। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফর। বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ‘সোনালি ৫০ বছর’-এ প্রবেশের মুখে এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টারা।

সফরের প্রথম অংশে সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট দালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হোটেল শাংগ্রি-লা’তে নিয়ে যাওয়া হয়।

সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলোইস জভিংগি।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই তিনি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ডব্লিউইএফ-এর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উদ্যোগের প্রশংসা করে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ডেল্টা রাষ্ট্র ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও বন্যার ঝুঁকি কমাতে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এসব দূরদর্শী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে আলোইস জভিংগি বলেন, ‘বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করবে।’ তিনি বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

এই সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

চীনে পৌঁছানোর আগে মালয়েশিয়া সফরের শেষ অংশে কুয়ালালামপুরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক একান্ত বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এছাড়া কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক শীর্ষ করপোরেট নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ‘এমএমসি পোর্টস’-এর চেয়ারম্যান সৈয়দ মোখতার আল-বুখারি বাংলাদেশে উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ‘রবি আজিয়াটা গ্রুপ’-এর সিইও নিক রিজাল কামিল দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও দ্রুত ফাইভ-জি চালুর বিষয়ে আলোচনা করেন এবং বিনিয়োগবান্ধব বাজেটের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ‘এয়ারএশিয়া’র গ্রুপ সিইও বো লিংগাম বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

#### বেইজিংয়ে মূল দ্বিপক্ষীয় সফর ও প্রতিনিধিদলের যোগদান

দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর বার্ষিক সভা ও জলবায়ু বিষয়ক সেমিনারে অংশ নেওয়া এবং চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার কর্তৃক স্বাগত সংবর্ধনায় যোগ দেওয়া শেষে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বেইজিংয়েই শুরু হবে এই সফরের মূল দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম।

প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত হতে মঙ্গলবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার চায়নার একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সভায় অংশগ্রহণ করবেন।

সফরের অন্যতম প্রধান দিক হিসেবে, দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তথ্যমন্ত্রী চীনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)’ এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি’-এর সাথে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিষয়ক কয়েকটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করবেন।

বর্তমানে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের আরও কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন। সফর শেষে আগামী ২৬ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ‘সোনালি ৫০ বছর’: জলবায়ু মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

মালয়েশিয়ায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন তিনি। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফর। বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ‘সোনালি ৫০ বছর’-এ প্রবেশের মুখে এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টারা।

সফরের প্রথম অংশে সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট দালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হোটেল শাংগ্রি-লা’তে নিয়ে যাওয়া হয়।

সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলোইস জভিংগি।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই তিনি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ডব্লিউইএফ-এর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উদ্যোগের প্রশংসা করে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ডেল্টা রাষ্ট্র ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও বন্যার ঝুঁকি কমাতে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এসব দূরদর্শী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে আলোইস জভিংগি বলেন, ‘বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করবে।’ তিনি বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

এই সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

চীনে পৌঁছানোর আগে মালয়েশিয়া সফরের শেষ অংশে কুয়ালালামপুরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক একান্ত বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এছাড়া কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক শীর্ষ করপোরেট নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ‘এমএমসি পোর্টস’-এর চেয়ারম্যান সৈয়দ মোখতার আল-বুখারি বাংলাদেশে উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ‘রবি আজিয়াটা গ্রুপ’-এর সিইও নিক রিজাল কামিল দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও দ্রুত ফাইভ-জি চালুর বিষয়ে আলোচনা করেন এবং বিনিয়োগবান্ধব বাজেটের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ‘এয়ারএশিয়া’র গ্রুপ সিইও বো লিংগাম বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

#### বেইজিংয়ে মূল দ্বিপক্ষীয় সফর ও প্রতিনিধিদলের যোগদান

দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর বার্ষিক সভা ও জলবায়ু বিষয়ক সেমিনারে অংশ নেওয়া এবং চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার কর্তৃক স্বাগত সংবর্ধনায় যোগ দেওয়া শেষে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বেইজিংয়েই শুরু হবে এই সফরের মূল দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম।

প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত হতে মঙ্গলবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার চায়নার একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সভায় অংশগ্রহণ করবেন।

সফরের অন্যতম প্রধান দিক হিসেবে, দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তথ্যমন্ত্রী চীনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)’ এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি’-এর সাথে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিষয়ক কয়েকটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করবেন।

বর্তমানে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের আরও কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন। সফর শেষে আগামী ২৬ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত