শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুরে অভিযান চালিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আটক করা হয়। মামলার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন এবং র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্ত রিপন একই এলাকার প্রতিবেশী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির সুবাদে কিশোরীকে ভাইরাল করে দেওয়ার প্রলোভন ও কুপ্রস্তাব দেওয়া হতো। গত ৩০ জুলাই রাত আটটার দিকে জরুরি কথা আছে বলে কিশোরীকে বাড়ির পাশের জঙ্গলে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট নেত্রকোনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার রিপনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পান এবং তার পেজে ১৯ লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাতে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় রিপন জোর করে তাকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং চিৎকার শুনে লোকজন এগিয়ে এলে পালিয়ে যান। ভিডিও বানানোর কথা বলে তাকে আগে থেকেই উত্ত্যক্ত করা হতো। পরে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে একটি সালিস বসে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত ওই সালিসে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়। সালিসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে রিপনকে বলতে শোনা যায়, "ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।"
এছাড়া তিনি ক্ষমা চাওয়ার জন্য ফজলুর রহমানের পায়ে ধরেন। ফজলুর রহমান জানান, মেয়ের পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় এবং তারা বিচার নিয়ে আসায় এলাকাবাসী মিলে সালিস বসেছিলেন।
রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, "ঘটনার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। মানুষের মুখে বিষয়টি শুনেছি। আমার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার ওপর অন্যায়ভাবে অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।"
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা জানান, তিনি ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না এবং পরে লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুরে অভিযান চালিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আটক করা হয়। মামলার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন এবং র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্ত রিপন একই এলাকার প্রতিবেশী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির সুবাদে কিশোরীকে ভাইরাল করে দেওয়ার প্রলোভন ও কুপ্রস্তাব দেওয়া হতো। গত ৩০ জুলাই রাত আটটার দিকে জরুরি কথা আছে বলে কিশোরীকে বাড়ির পাশের জঙ্গলে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট নেত্রকোনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার রিপনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পান এবং তার পেজে ১৯ লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাতে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় রিপন জোর করে তাকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং চিৎকার শুনে লোকজন এগিয়ে এলে পালিয়ে যান। ভিডিও বানানোর কথা বলে তাকে আগে থেকেই উত্ত্যক্ত করা হতো। পরে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে একটি সালিস বসে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত ওই সালিসে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়। সালিসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে রিপনকে বলতে শোনা যায়, "ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।"
এছাড়া তিনি ক্ষমা চাওয়ার জন্য ফজলুর রহমানের পায়ে ধরেন। ফজলুর রহমান জানান, মেয়ের পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় এবং তারা বিচার নিয়ে আসায় এলাকাবাসী মিলে সালিস বসেছিলেন।
রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, "ঘটনার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। মানুষের মুখে বিষয়টি শুনেছি। আমার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার ওপর অন্যায়ভাবে অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।"
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা জানান, তিনি ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না এবং পরে লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মতামত লিখুন