ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসার পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকার এই কূটনৈতিক অগ্রাধিকারকে বেইজিং কীভাবে দেখছে? বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে যখন ভূরাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র, তখন চীনের মূলধারার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে চলছে ব্যাপক চুলচেরা বিশ্লেষণ।
চীনের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও থিংক-ট্যাংকগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে উঠে এসেছে নানা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া এবং চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) তাদের প্রধান বুলেটিনগুলোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
চীনা বিশ্লেষকরা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করছেন যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর। বেইজিং মনে করে, প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে ঢাকার নতুন সরকার এই বার্তা দিয়েছে যে- চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
কেবল অবকাঠামো নয়, নজর এবার প্রযুক্তিতে। চীনের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রধান নজর এই সফরে হতে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোর দিকে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে মেগা অবকাঠামো, শিল্পায়ন, গ্রিন এনার্জি এবং বৈদ্যুতিক যান উৎপাদনসহ অন্তত ১৫টি বড় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
এছাড়া চীনের শক্তিশালী গণমাধ্যম সংস্থা চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিশেষ প্রচার ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তিকে বেইজিং দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত মেলবন্ধনের বড় ধাপ হিসেবে দেখছে।
এই সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভূরাজনৈতিক দিকটি উন্মোচন করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় মুখপত্র হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস। তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের উদ্বেগের কড়া সমালোচনা করে একটি বিশেষ সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে।
গ্লোবাল টাইমসের স্পষ্ট বক্তব্য- “বাংলাদেশের এই সফর নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর অহেতুক হইচই করার কোনো কারণ নেই।”
চীনা মিডিয়া জোর দিয়ে বলছে, ঢাকা ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক এবং এটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে বা আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য নয়। বরং বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে, যাকে চীনের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
চীনের কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের কলামগুলোতে একটি বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তা হলো- চীনের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উন্নয়ন রূপরেখা ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (জিডিআই)।
বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের এই প্রস্তাবে এর আগে ঢাকা কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও, চীনা মিডিয়ার দাবি- বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে এই সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে জিডিআই-তে যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।
চীনের মিডিয়াগুলোর প্রতিবেদন ও দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট যে, বেইজিং তারেক রহমানের এই সফরকে কেবল একটি প্রথাগত কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখছে না। তারা এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারের সঙ্গে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করছে।
একইসঙ্গে এই সফর ভারতের প্রভাব বলয়কে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে বিশ্লেষণ করছে চীনা মিডিয়া।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসার পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকার এই কূটনৈতিক অগ্রাধিকারকে বেইজিং কীভাবে দেখছে? বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে যখন ভূরাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র, তখন চীনের মূলধারার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে চলছে ব্যাপক চুলচেরা বিশ্লেষণ।
চীনের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও থিংক-ট্যাংকগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে উঠে এসেছে নানা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া এবং চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) তাদের প্রধান বুলেটিনগুলোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
চীনা বিশ্লেষকরা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করছেন যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর। বেইজিং মনে করে, প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে ঢাকার নতুন সরকার এই বার্তা দিয়েছে যে- চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
কেবল অবকাঠামো নয়, নজর এবার প্রযুক্তিতে। চীনের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রধান নজর এই সফরে হতে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোর দিকে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে মেগা অবকাঠামো, শিল্পায়ন, গ্রিন এনার্জি এবং বৈদ্যুতিক যান উৎপাদনসহ অন্তত ১৫টি বড় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
এছাড়া চীনের শক্তিশালী গণমাধ্যম সংস্থা চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিশেষ প্রচার ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তিকে বেইজিং দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত মেলবন্ধনের বড় ধাপ হিসেবে দেখছে।
এই সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভূরাজনৈতিক দিকটি উন্মোচন করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় মুখপত্র হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস। তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের উদ্বেগের কড়া সমালোচনা করে একটি বিশেষ সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে।
গ্লোবাল টাইমসের স্পষ্ট বক্তব্য- “বাংলাদেশের এই সফর নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর অহেতুক হইচই করার কোনো কারণ নেই।”
চীনা মিডিয়া জোর দিয়ে বলছে, ঢাকা ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক এবং এটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে বা আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য নয়। বরং বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে, যাকে চীনের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
চীনের কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের কলামগুলোতে একটি বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তা হলো- চীনের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উন্নয়ন রূপরেখা ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (জিডিআই)।
বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের এই প্রস্তাবে এর আগে ঢাকা কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও, চীনা মিডিয়ার দাবি- বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে এই সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে জিডিআই-তে যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।
চীনের মিডিয়াগুলোর প্রতিবেদন ও দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট যে, বেইজিং তারেক রহমানের এই সফরকে কেবল একটি প্রথাগত কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখছে না। তারা এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারের সঙ্গে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করছে।
একইসঙ্গে এই সফর ভারতের প্রভাব বলয়কে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে বিশ্লেষণ করছে চীনা মিডিয়া।

আপনার মতামত লিখুন