সংবাদ

ইরানে কি এবার স্থল অভিযানের পথে ট্রাম্প?


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

ইরানে কি এবার স্থল অভিযানের পথে ট্রাম্প?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে বিমান ও নৌবাহিনীর অভিযানে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এবার দেশটিতে স্থলবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং প্রখ্যাত সামরিক বিশ্লেষক রবার্ট পেপ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন।
তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থানকে এক ভয়াবহ ‘সংঘাত বিস্তারের ফাঁদ’ বা ‘এসক্যালেশন ট্র্যাপ’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রবার্ট পেপ বলেন, ট্রাম্প হয়তো এখনই স্থল অভিযান শুরু করবেন না, তবে আকাশ ও নৌপথের সীমাবদ্ধতা তার সামনে এখন স্পষ্ট।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক শক্তি ধ্বংস করতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ইসরায়েলি ‘রোয়ারিং লায়ন’ অভিযান ইরানকে পুরোপুরি দমাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে পরাজয় এড়াতে ট্রাম্পের সামনে এখন স্থলযুদ্ধ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সশস্ত্র সংঘাতে ইতোমধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে তেহরান। প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন ছেলে মোজতবা খামেনি। এরপরই পাল্টে যায় যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি। পাল্টা জবাবে ইরান অন্তত ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েক হাজার ড্রোন ছুড়েছে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের দিকে। বন্দর আব্বাসে একটি
বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় ১৭০ ছাত্রীর প্রাণহানি বিশ্বজুড়ে ওয়াশিংটনকে কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছে।

জ্বালানি সংকট ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা
যুদ্ধের প্রবাদে বিশ্বের প্রধান জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করলেও তাতে কাজ হয়নি। গত এপ্রিলে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও জুন মাসে কূটনৈতিক আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
রবার্ট পেপ মনে করেন, ট্রাম্প এখন এক কঠিন দোটানায়। হয় তাকে ইরানে স্থলবাহিনী নামিয়ে চূড়ান্ত ঝুঁকি নিতে হবে, নতুবা এই যুদ্ধে পরাজয় মেনে নিতে হবে। আর ইরান যদি এই সংঘাতের ধাক্কা সামলে টিকে যায়, তবে দেশটি বিশ্বশক্তির অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হবে—যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও মার্কিন আধিপত্যের জন্য বড় হুমকি। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য এখন এক প্রলয়ঙ্কারী স্থল যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬


ইরানে কি এবার স্থল অভিযানের পথে ট্রাম্প?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইরানের বিরুদ্ধে বিমান ও নৌবাহিনীর অভিযানে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এবার দেশটিতে স্থলবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং প্রখ্যাত সামরিক বিশ্লেষক রবার্ট পেপ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন।
তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থানকে এক ভয়াবহ ‘সংঘাত বিস্তারের ফাঁদ’ বা ‘এসক্যালেশন ট্র্যাপ’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রবার্ট পেপ বলেন, ট্রাম্প হয়তো এখনই স্থল অভিযান শুরু করবেন না, তবে আকাশ ও নৌপথের সীমাবদ্ধতা তার সামনে এখন স্পষ্ট।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক শক্তি ধ্বংস করতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ইসরায়েলি ‘রোয়ারিং লায়ন’ অভিযান ইরানকে পুরোপুরি দমাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে পরাজয় এড়াতে ট্রাম্পের সামনে এখন স্থলযুদ্ধ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সশস্ত্র সংঘাতে ইতোমধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে তেহরান। প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন ছেলে মোজতবা খামেনি। এরপরই পাল্টে যায় যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি। পাল্টা জবাবে ইরান অন্তত ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েক হাজার ড্রোন ছুড়েছে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের দিকে। বন্দর আব্বাসে একটি
বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় ১৭০ ছাত্রীর প্রাণহানি বিশ্বজুড়ে ওয়াশিংটনকে কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছে।

জ্বালানি সংকট ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা
যুদ্ধের প্রবাদে বিশ্বের প্রধান জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করলেও তাতে কাজ হয়নি। গত এপ্রিলে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও জুন মাসে কূটনৈতিক আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
রবার্ট পেপ মনে করেন, ট্রাম্প এখন এক কঠিন দোটানায়। হয় তাকে ইরানে স্থলবাহিনী নামিয়ে চূড়ান্ত ঝুঁকি নিতে হবে, নতুবা এই যুদ্ধে পরাজয় মেনে নিতে হবে। আর ইরান যদি এই সংঘাতের ধাক্কা সামলে টিকে যায়, তবে দেশটি বিশ্বশক্তির অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হবে—যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও মার্কিন আধিপত্যের জন্য বড় হুমকি। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য এখন এক প্রলয়ঙ্কারী স্থল যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত