সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে সুপার কম্পিউটার উদ্ভাবনে শীর্ষে চীন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে সুপার কম্পিউটার উদ্ভাবনে শীর্ষে চীন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অস্ত্রে’ পরিণত করে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সুপারকম্পিউটার ‘লাইনশাইন’ শীর্ষস্থান দখল করেছে। জিপিইউ ছাড়াই ২.১৯৮ এক্সাফ্লপস গতি অর্জন করে নতুন রেকর্ড করেছে নতুন এই মডেল।

জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত আইএসসি ২০২৬ কনফারেন্সে বৈশ্বিক সুপারকম্পিউটার র্যাঙ্কিং ‘টপ-৫০০’-এর সবশেষ সংস্করণে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম চীনের কোনো সুপার কম্পিউটার বিশ্বের এক নম্বর স্থান ফিরে পেল।

চীনের শেনঝেনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে স্থাপিত ‘লাইনশাইন’ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.১৯৮ এক্সাফ্লপস গতিতে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ, এটি প্রতি সেকেন্ডে ২ কুইন্টিলিয়নেরও বেশি হিসাব সম্পন্ন করতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘এল ক্যাপিটান’-এর তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন।

সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, লাইনশাইন তৈরিতে কোনো মার্কিন চিপ ব্যবহার করা হয়নি। মার্কিন প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চীন এই বিশাল সফলতা দেখিয়েছে। এটি সম্পূর্ণভাবে চীনের নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি ‘হুয়াওয়ে এলএক্স২’ প্রসেসর দিয়ে পরিচালিত।

সাধারণত শীর্ষ সারির সুপারকম্পিউটারগুলো ভারী হিসাবের জন্য গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) ব্যবহার করে। তবে লাইনশাইন কোনো জিপিইউ ছাড়াই কেবল স্ট্যান্ডার্ড মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করে এই অবিশ্বাস্য গতি অর্জন করেছে।

লাইনশাইন মোট ২০ হাজার ৪৮০টি কম্পিউটিং নোড নিয়ে গঠিত। প্রতিটি নোডে দুটি করে ‘এলএক্স২’ প্রসেসর রয়েছে এবং প্রতিটি প্রসেসরে ৩০৪টি করে কোরে রয়েছে। অর্থাৎ পুরো সিস্টেমে রয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ সিপিইউ কোর। এটি লিংকি নামের অত্যন্ত দ্রুতগতির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত।

এই সিস্টেমের ভিত্তি তৈরি করেছে চীনের নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি ‘হুয়াওয়ে এলএক্স২’ প্রসেসর। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি পুরো স্ট্যাকেই ‘সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীলতা’ অর্জনের একটি প্রকল্প।

২০২৩ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন টপ-৫০০ তালিকায় তাদের সিস্টেমের তথ্য দেওয়া বন্ধ রেখেছিল। লাইনশাইনকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে বেইজিং বিশ্বকে বার্তা দিল যে, মার্কিন প্রযুক্তি ছাড়াও তারা শীর্ষ কম্পিউটিং ক্ষমতা অর্জনে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো শীর্ষ ৪টি পজিশনের মধ্যে ৩টি ধরে রাখলেও, চীনের এই প্রত্যাবর্তনকে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার প্রযুক্তিগত স্নায়ুযুদ্ধের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

যদিও এআই-ভিত্তিক কাজের পরীক্ষায় ‘লাইনশাইন’ বৈশ্বিকভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে, তবে জলবায়ু পরিবর্তন, পারমাণবিক গবেষণা এবং জটিল বৈজ্ঞানিক সিমুলেশনের মতো মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে এই সুপারকম্পিউটার চীনকে অনেক দূর এগিয়ে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে সুপার কম্পিউটার উদ্ভাবনে শীর্ষে চীন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অস্ত্রে’ পরিণত করে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সুপারকম্পিউটার ‘লাইনশাইন’ শীর্ষস্থান দখল করেছে। জিপিইউ ছাড়াই ২.১৯৮ এক্সাফ্লপস গতি অর্জন করে নতুন রেকর্ড করেছে নতুন এই মডেল।

জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত আইএসসি ২০২৬ কনফারেন্সে বৈশ্বিক সুপারকম্পিউটার র্যাঙ্কিং ‘টপ-৫০০’-এর সবশেষ সংস্করণে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম চীনের কোনো সুপার কম্পিউটার বিশ্বের এক নম্বর স্থান ফিরে পেল।

চীনের শেনঝেনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে স্থাপিত ‘লাইনশাইন’ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.১৯৮ এক্সাফ্লপস গতিতে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ, এটি প্রতি সেকেন্ডে ২ কুইন্টিলিয়নেরও বেশি হিসাব সম্পন্ন করতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘এল ক্যাপিটান’-এর তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন।

সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, লাইনশাইন তৈরিতে কোনো মার্কিন চিপ ব্যবহার করা হয়নি। মার্কিন প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চীন এই বিশাল সফলতা দেখিয়েছে। এটি সম্পূর্ণভাবে চীনের নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি ‘হুয়াওয়ে এলএক্স২’ প্রসেসর দিয়ে পরিচালিত।

সাধারণত শীর্ষ সারির সুপারকম্পিউটারগুলো ভারী হিসাবের জন্য গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) ব্যবহার করে। তবে লাইনশাইন কোনো জিপিইউ ছাড়াই কেবল স্ট্যান্ডার্ড মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করে এই অবিশ্বাস্য গতি অর্জন করেছে।

লাইনশাইন মোট ২০ হাজার ৪৮০টি কম্পিউটিং নোড নিয়ে গঠিত। প্রতিটি নোডে দুটি করে ‘এলএক্স২’ প্রসেসর রয়েছে এবং প্রতিটি প্রসেসরে ৩০৪টি করে কোরে রয়েছে। অর্থাৎ পুরো সিস্টেমে রয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ সিপিইউ কোর। এটি লিংকি নামের অত্যন্ত দ্রুতগতির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত।

এই সিস্টেমের ভিত্তি তৈরি করেছে চীনের নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি ‘হুয়াওয়ে এলএক্স২’ প্রসেসর। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি পুরো স্ট্যাকেই ‘সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীলতা’ অর্জনের একটি প্রকল্প।

২০২৩ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন টপ-৫০০ তালিকায় তাদের সিস্টেমের তথ্য দেওয়া বন্ধ রেখেছিল। লাইনশাইনকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে বেইজিং বিশ্বকে বার্তা দিল যে, মার্কিন প্রযুক্তি ছাড়াও তারা শীর্ষ কম্পিউটিং ক্ষমতা অর্জনে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো শীর্ষ ৪টি পজিশনের মধ্যে ৩টি ধরে রাখলেও, চীনের এই প্রত্যাবর্তনকে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার প্রযুক্তিগত স্নায়ুযুদ্ধের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

যদিও এআই-ভিত্তিক কাজের পরীক্ষায় ‘লাইনশাইন’ বৈশ্বিকভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে, তবে জলবায়ু পরিবর্তন, পারমাণবিক গবেষণা এবং জটিল বৈজ্ঞানিক সিমুলেশনের মতো মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে এই সুপারকম্পিউটার চীনকে অনেক দূর এগিয়ে দেবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত