সংবাদ

শীতলক্ষ্যায় জাল ফেললেই বিপদ, জেলেদের মাথায় হাত


প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

শীতলক্ষ্যায় জাল ফেললেই বিপদ, জেলেদের মাথায় হাত
ছবি : সংবাদ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে এখন আর আগের মতো দেশি মাছের ঝাঁক দেখা যায় না। জেলেদের জালে রুই, কাতলা বা টেংরার বদলে উঠে আসছে এক অচেনা ও ভয়ংকর আকৃতির মাছ-সাকার ফিশ। স্থানীয়দের কাছে মাছটি এখন নদীর ‘নতুন আতঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে এই ক্ষতিকর মাছ। এর ধারালো কাঁটায় অনেক সময় জেলেরা আহতও হচ্ছেন। স্থানীয়রা মাছগুলো নদী থেকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলেও এর কোনো বাণিজ্যিক চাহিদা নেই।

শীতলক্ষ্যা নদীতে নিয়মিত মাছ ধরেন লিটন মিয়া। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘শিল্পকারখানার বর্জ্যে নদীর পানি নষ্ট হয়ে গেছে। আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। গত এক সপ্তাহ ধরে অন্য মাছের আশায় জাল ফেললেও প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সাকার ফিশ উঠছে। এই মাছ কেউ কিনতেও চায় না।’

ভাদার্ত্তী দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুর রহমান ও আল আমিন সরকার জানান, সাকার ফিশ দেশি মাছের ডিম ও ছোট মাছ খেয়ে সাবাড় করে দিচ্ছে। এর চেহারা যেমন ভয়ংকর, তেমনি এর প্রভাবও ভয়াবহ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শীতলক্ষ্যার দেশি মাছ শুধু গল্প হয়ে থাকবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সামা বলেন, ‘সাকার ফিশ একটি বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতি এবং এটি খাওয়ার উপযোগী নয়। এটি নদীর অন্যান্য মাছের খাদ্য ও জলজ পরিবেশ নষ্ট করে ফেলে। ফলে আমাদের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।’

তিনি আরও জানান, এই মাছ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এটি পুরোপুরি নির্মূল করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একসময়ের প্রাণবন্ত শীতলক্ষ্যা নদী দূষণ আর সাকার ফিশের আক্রমণে এখন মৃতপ্রায়। স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা নদী বাঁচাতে এবং দেশি মাছ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬


শীতলক্ষ্যায় জাল ফেললেই বিপদ, জেলেদের মাথায় হাত

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে এখন আর আগের মতো দেশি মাছের ঝাঁক দেখা যায় না। জেলেদের জালে রুই, কাতলা বা টেংরার বদলে উঠে আসছে এক অচেনা ও ভয়ংকর আকৃতির মাছ-সাকার ফিশ। স্থানীয়দের কাছে মাছটি এখন নদীর ‘নতুন আতঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে এই ক্ষতিকর মাছ। এর ধারালো কাঁটায় অনেক সময় জেলেরা আহতও হচ্ছেন। স্থানীয়রা মাছগুলো নদী থেকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলেও এর কোনো বাণিজ্যিক চাহিদা নেই।

শীতলক্ষ্যা নদীতে নিয়মিত মাছ ধরেন লিটন মিয়া। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘শিল্পকারখানার বর্জ্যে নদীর পানি নষ্ট হয়ে গেছে। আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। গত এক সপ্তাহ ধরে অন্য মাছের আশায় জাল ফেললেও প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সাকার ফিশ উঠছে। এই মাছ কেউ কিনতেও চায় না।’

ভাদার্ত্তী দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুর রহমান ও আল আমিন সরকার জানান, সাকার ফিশ দেশি মাছের ডিম ও ছোট মাছ খেয়ে সাবাড় করে দিচ্ছে। এর চেহারা যেমন ভয়ংকর, তেমনি এর প্রভাবও ভয়াবহ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শীতলক্ষ্যার দেশি মাছ শুধু গল্প হয়ে থাকবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সামা বলেন, ‘সাকার ফিশ একটি বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতি এবং এটি খাওয়ার উপযোগী নয়। এটি নদীর অন্যান্য মাছের খাদ্য ও জলজ পরিবেশ নষ্ট করে ফেলে। ফলে আমাদের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।’

তিনি আরও জানান, এই মাছ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এটি পুরোপুরি নির্মূল করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একসময়ের প্রাণবন্ত শীতলক্ষ্যা নদী দূষণ আর সাকার ফিশের আক্রমণে এখন মৃতপ্রায়। স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা নদী বাঁচাতে এবং দেশি মাছ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত