রংপুরের পীরগাছায় পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও প্রেম করে বিয়ে করায় বাসায় ডেকে এনে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত নারীর ভাই মিলু ও ভাবি দিশাকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) পীরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে বিকেলে রংপুরের আদালতে চালান দেওয়া হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পীরগাছা থানার ওসি মহিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলার সতন্তরা গ্রামের নুরুন্নবী মিয়ার মেয়ে নুপুর এবং পার্শ্ববর্তী পাঠক শিকড় গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে আহাদ হোসেন প্রায় আট মাস আগে পারিবারিক আপত্তি উপেক্ষা করে নিজেরা গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নুপুরের পরিবার তাকে স্বামীর সঙ্গে সংসার না করতে চাপ দিয়ে আসছিল। বিভিন্নভাবে নুপুরের স্বামীকে তারা হুমকিও দিতেন।
নুপুরের স্বামী আহাদ হোসেন জানান, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তার শাশুড়ি ফোন করে শ্বশুরের অসুস্থতার কথা জানিয়ে নুপুরকে বাবার বাড়িতে পাঠাতে বলেন। নুপুর যাওয়ার দুই দিন পর তাকেও ডাকা হয়। সেখানে গেলে নুপুরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে তার পরিবারের লোকজন। পরে নুপুরের কাছে জোর করে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
আহাদ আরও জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে ফোন করে জানানো হয় নুপুর আত্মহত্যা করেছে। তাকে হত্যা করে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশে মরদেহটি একটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। খবর পেয়ে পীরগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহত গৃহবধূ নুপুরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় সেই সময় মামলা না হলেও পুলিশ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
এ ব্যাপারে পীরগাছা থানার ওসি মহিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তাদের কাছে আসে। সেখানে নুপুরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তার শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে, সেই সঙ্গে আঘাতজনিত কারণে নুপুরের মৃত্যু হয়েছে- প্রতিবেদন পাওয়ার পর শুক্রবার ভোরে নিহত নুপুরের ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫) ও তার স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিশাকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত নুপুরের স্বামী আহাদ আলী বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে পীরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহত নুপুরের মা মিতু বেগম (৫০), ফুফু ফেরদৌসি বেগম (৪৫), ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫), ভাবি দিলরুবা আক্তার দিশা (২২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি জানান, আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন আদালতে রোববার করা হবে। আদালত আদেশ পাওয়ার পর রিমান্ডে এনে ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
রংপুরের পীরগাছায় পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও প্রেম করে বিয়ে করায় বাসায় ডেকে এনে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত নারীর ভাই মিলু ও ভাবি দিশাকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) পীরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে বিকেলে রংপুরের আদালতে চালান দেওয়া হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পীরগাছা থানার ওসি মহিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলার সতন্তরা গ্রামের নুরুন্নবী মিয়ার মেয়ে নুপুর এবং পার্শ্ববর্তী পাঠক শিকড় গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে আহাদ হোসেন প্রায় আট মাস আগে পারিবারিক আপত্তি উপেক্ষা করে নিজেরা গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নুপুরের পরিবার তাকে স্বামীর সঙ্গে সংসার না করতে চাপ দিয়ে আসছিল। বিভিন্নভাবে নুপুরের স্বামীকে তারা হুমকিও দিতেন।
নুপুরের স্বামী আহাদ হোসেন জানান, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তার শাশুড়ি ফোন করে শ্বশুরের অসুস্থতার কথা জানিয়ে নুপুরকে বাবার বাড়িতে পাঠাতে বলেন। নুপুর যাওয়ার দুই দিন পর তাকেও ডাকা হয়। সেখানে গেলে নুপুরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে তার পরিবারের লোকজন। পরে নুপুরের কাছে জোর করে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
আহাদ আরও জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে ফোন করে জানানো হয় নুপুর আত্মহত্যা করেছে। তাকে হত্যা করে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশে মরদেহটি একটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। খবর পেয়ে পীরগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহত গৃহবধূ নুপুরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় সেই সময় মামলা না হলেও পুলিশ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
এ ব্যাপারে পীরগাছা থানার ওসি মহিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তাদের কাছে আসে। সেখানে নুপুরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তার শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে, সেই সঙ্গে আঘাতজনিত কারণে নুপুরের মৃত্যু হয়েছে- প্রতিবেদন পাওয়ার পর শুক্রবার ভোরে নিহত নুপুরের ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫) ও তার স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিশাকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত নুপুরের স্বামী আহাদ আলী বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে পীরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহত নুপুরের মা মিতু বেগম (৫০), ফুফু ফেরদৌসি বেগম (৪৫), ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫), ভাবি দিলরুবা আক্তার দিশা (২২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি জানান, আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন আদালতে রোববার করা হবে। আদালত আদেশ পাওয়ার পর রিমান্ডে এনে ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন