জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করা এখন আর ঐচ্ছিক থাকছে না। জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে তা নবায়ন করা বাধ্যতামূলক করার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইন ও বিধিমালায় বিষয়টি আগে থেকেই থাকলেও তা বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি বাধ্যতামূলক করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইসি কর্মকর্তাদের মতে, ১৫ বছর একটি দীর্ঘ সময়। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মানুষের চেহারায় নানাবিধ পরিবর্তন আসে। অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে চেহারা পরিবর্তন করেন, আবার অনেকে সার্জারির মাধ্যমে জেন্ডার বা লিঙ্গ পরিবর্তন করে থাকেন। এছাড়া বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের আঙুলের ছাপের মান (কোয়ালিটি) কমে যাওয়ার কারণেও পরিবর্তন আসে। ফলে বায়োমেট্রিক ও চেহারার অমিলের কারণে ব্যক্তির সঠিক পরিচিতি নিশ্চিত করতে নানা ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই জটিলতা এড়াতেই মূলত নবায়ন বাধ্যতামূলক করার আলোচনা চলছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০১০ এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী, একজন নাগরিককে দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ প্রদানের তারিখ থেকে ১৫ বছর। এছাড়া আইনের ২ ধারায় বলা হয়েছে, এনআইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি প্রদান করে কমিশনের কাছে নবায়নের আবেদন করতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র বিধিমালার ৫ বিধি অনুযায়ী, নবায়নের জন্য নাগরিক বা তার আইনানুগ অভিভাবককে ফরম-৫ পূরণ করে সরাসরি অথবা ইসির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, এনআইডি নবায়নের আবেদন দুইভাবে করা যায়: জরুরি এবং সাধারণ।
সাধারণ আবেদন: স্থানীয় কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে। এর জন্য সময় লাগবে ৩০ দিন এবং নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা।
জরুরি আবেদন: সরাসরি নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হবে। এর জন্য সময় লাগবে ৭ দিন এবং নির্ধারিত ফি ১৫০ টাকা।
অনলাইন বা সরাসরি উভয় ক্ষেত্রেই ফি পরিশোধের রসিদ আবেদনের সাথে যুক্ত করতে হবে। আবেদন জমা হওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনকারীকে একটি প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ (অংশ ‘ক’) দেবেন বা অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে মোবাইল/ই-মেইলে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, "এটা হচ্ছেই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানেও কেউ চাইলে হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে আবেদন করে নতুন এনআইডি নিতে পারছেন।
সাধারণত এনআইডি নষ্ট বা পুরনো হয়ে গেলে মানুষ নিজ উদ্যোগে নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। তবে সে ক্ষেত্রে ফি কিছুটা ভিন্ন ও বেশি।

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করা এখন আর ঐচ্ছিক থাকছে না। জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে তা নবায়ন করা বাধ্যতামূলক করার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইন ও বিধিমালায় বিষয়টি আগে থেকেই থাকলেও তা বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি বাধ্যতামূলক করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইসি কর্মকর্তাদের মতে, ১৫ বছর একটি দীর্ঘ সময়। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মানুষের চেহারায় নানাবিধ পরিবর্তন আসে। অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে চেহারা পরিবর্তন করেন, আবার অনেকে সার্জারির মাধ্যমে জেন্ডার বা লিঙ্গ পরিবর্তন করে থাকেন। এছাড়া বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের আঙুলের ছাপের মান (কোয়ালিটি) কমে যাওয়ার কারণেও পরিবর্তন আসে। ফলে বায়োমেট্রিক ও চেহারার অমিলের কারণে ব্যক্তির সঠিক পরিচিতি নিশ্চিত করতে নানা ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই জটিলতা এড়াতেই মূলত নবায়ন বাধ্যতামূলক করার আলোচনা চলছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০১০ এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী, একজন নাগরিককে দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ প্রদানের তারিখ থেকে ১৫ বছর। এছাড়া আইনের ২ ধারায় বলা হয়েছে, এনআইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি প্রদান করে কমিশনের কাছে নবায়নের আবেদন করতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র বিধিমালার ৫ বিধি অনুযায়ী, নবায়নের জন্য নাগরিক বা তার আইনানুগ অভিভাবককে ফরম-৫ পূরণ করে সরাসরি অথবা ইসির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, এনআইডি নবায়নের আবেদন দুইভাবে করা যায়: জরুরি এবং সাধারণ।
সাধারণ আবেদন: স্থানীয় কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে। এর জন্য সময় লাগবে ৩০ দিন এবং নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা।
জরুরি আবেদন: সরাসরি নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হবে। এর জন্য সময় লাগবে ৭ দিন এবং নির্ধারিত ফি ১৫০ টাকা।
অনলাইন বা সরাসরি উভয় ক্ষেত্রেই ফি পরিশোধের রসিদ আবেদনের সাথে যুক্ত করতে হবে। আবেদন জমা হওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনকারীকে একটি প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ (অংশ ‘ক’) দেবেন বা অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে মোবাইল/ই-মেইলে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, "এটা হচ্ছেই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানেও কেউ চাইলে হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে আবেদন করে নতুন এনআইডি নিতে পারছেন।
সাধারণত এনআইডি নষ্ট বা পুরনো হয়ে গেলে মানুষ নিজ উদ্যোগে নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। তবে সে ক্ষেত্রে ফি কিছুটা ভিন্ন ও বেশি।

আপনার মতামত লিখুন