সংবাদ

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান জাহেদ উর রহমানের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান জাহেদ উর রহমানের

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশের কিছু গণমাধ্যমে তা প্রচার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি এটিকে আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী উল্লেখ করে গণমাধ্যমগুলোকে আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি কয়েকটি দেশীয় গণমাধ্যম তার একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে, যা সরকারের নজরে এসেছে।

এই বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন: "প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করা হবে এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে। আমরা এখনই কোনো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছি না। তবে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে মানুষ বিদেশি গণমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনেক তথ্যই জানতে পারে; তবে তার মানে এই নয় যে, সেটি দেশীয় গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা তৈরি করে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত এ ধরনের প্রচার অনুচিত এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সরকার এই নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।

ব্রিফিংয়ে ‘রিফর্মড’ বা নতুন কোনো নামে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ থাকবে, ততদিন দলটি 'রিফর্মড আওয়ামী লীগ', 'তৃণমূল আওয়ামী লীগ' বা অন্য যে নামেই আসুক না কেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার সুযোগ নেই। ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের সংশোধিত বিধান কার্যকর রেখেই আওয়ামী লীগের কর্মসূচির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অনেক অধ্যাদেশ বর্তমানে আইন হিসেবে বহাল না থাকলেও এই সংশোধনীটি বহাল রাখা হয়েছে, যা সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে প্রমাণ করে।

দলটি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে আদালত। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দলটির সব রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা উচিত বলেই সরকার মনে করে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে এই নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিচ্ছে না। অতীতে চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার নিয়ম থাকলেও বর্তমান সরকার সেই ব্যবস্থা বাতিল করেছে। ফলে বিএনপি, জামায়াত কিংবা আওয়ামী লীগ কোনো দলই এখন দলীয়ভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান জাহেদ উর রহমানের

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশের কিছু গণমাধ্যমে তা প্রচার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি এটিকে আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী উল্লেখ করে গণমাধ্যমগুলোকে আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি কয়েকটি দেশীয় গণমাধ্যম তার একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে, যা সরকারের নজরে এসেছে।

এই বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন: "প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করা হবে এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে। আমরা এখনই কোনো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছি না। তবে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে মানুষ বিদেশি গণমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনেক তথ্যই জানতে পারে; তবে তার মানে এই নয় যে, সেটি দেশীয় গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা তৈরি করে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত এ ধরনের প্রচার অনুচিত এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সরকার এই নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।

ব্রিফিংয়ে ‘রিফর্মড’ বা নতুন কোনো নামে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ থাকবে, ততদিন দলটি 'রিফর্মড আওয়ামী লীগ', 'তৃণমূল আওয়ামী লীগ' বা অন্য যে নামেই আসুক না কেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার সুযোগ নেই। ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের সংশোধিত বিধান কার্যকর রেখেই আওয়ামী লীগের কর্মসূচির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অনেক অধ্যাদেশ বর্তমানে আইন হিসেবে বহাল না থাকলেও এই সংশোধনীটি বহাল রাখা হয়েছে, যা সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে প্রমাণ করে।

দলটি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে আদালত। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দলটির সব রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা উচিত বলেই সরকার মনে করে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে এই নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিচ্ছে না। অতীতে চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার নিয়ম থাকলেও বর্তমান সরকার সেই ব্যবস্থা বাতিল করেছে। ফলে বিএনপি, জামায়াত কিংবা আওয়ামী লীগ কোনো দলই এখন দলীয়ভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত