সংবাদ

‘পাচার বন্ধ করা গেলে টাকার সমস্যা হবে না’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

‘পাচার বন্ধ করা গেলে টাকার সমস্যা হবে না’

  • সংসদে বিএনপি-জামায়াতের ঐক্যে ‘কোন খেলা নেই’

বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ করা গেলে দেশ চালাতে সরকারের টাকার সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাজেটে সবকিছুতে কর কমিয়ে দিলে সরকার কীভাবে চলবে- চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নিজেই এ তথ্য জানান। হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাজেটের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, “৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা মানুষের বাজেট, জনবান্ধব বাজেট এবং জনগণের কল্যাণ ও তাদের বাঁচিয়ে রাখার বাজেট।”

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে বা পাসের পরে ‘বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি’ দাবি করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “খাদ্যদ্রব্যসহ প্রয়োজনীয় ৬৩টি পণ্যে কর বাড়ানো হয়নি।” কিছু ক্ষেত্রে কর কমানো হয়েছে। যেসব পণ্যে কর কমেছে, সেগুলোর দামও কমা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান একটি পণ্যে করছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেটিও বিবেচনায় নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সবকিছুতে কর কমালে সরকার চলবে কীভাবে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিবছর যে ‘১৬ বিলিয়ন ডলা’ পাচার হয়েছে, তা বন্ধ করা গেলে অর্থের সমস্যা হবে না।

‘ফ্রেন্ডলি গেইম’

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারি দল ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের ‘ঐক্যবদ্ধভাবে’ এগিয়ে যাওয়ার বার্তায় ‘কোন খেলা নেই, গেমও নেই’। তিনি বলেন, এ ধরণের কথা কেউ বলে থাকলে সেটা তার ব্যক্তিগত মতামত।

একজন সাংবাদিক বলেন, “সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে।” তিনি আরো বলেন, “বাজেট আলোচনায় সরকারি দল বিএনপির এক সংসদ সদস্য মেসি ও রোনালদোর ‘ফ্রেন্ডলি গেইমের’ উদাহরণ টেনে বলেছেন, পার্লামেন্টে যে গেইমটা হচ্ছে, এই গেইমটা চললে কিন্তু কিছুদিন পরে মাঠ খালি পড়ে থাকবে।”

সংসদে এ রকম কোনো ‘ফ্রেন্ডলি গেইম’ চলছে কি না- ওই সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, “রোনালদো আর মেসি ফুটবল খেলায় আছে, বিশ্বকাপে। আর বাংলাদেশের পার্লামেন্টে ডক্টর শফিকুর রহমান অপজিশনে (বিরোধী দলে) আর তারেক রহমান পজিশনে (সরকারি দলে)। এখানে কোনো খেলা নাই, গেমও নাই। কেউ যদি বলে থাকে, সেটা তার ব্যক্তিগত মতামত।”

সরকারি দল ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে সমস্যা সমাধান করুক- জনগণ ‘এটা চায়’ বলে মন্তব্য করেন চিফ হুইপ। সংবাদ সম্মেলনে  তিনি বলেন, “বিরোধী দল যৌক্তিক বিষয়ে সহযোগিতা করবে, আবার প্রয়োজন হলে সরকারের সমালোচনাও করবে। যেটা ‘জেনুইন’, সেটাতে তারা সরকারের পাশে থাকবেন। যেটা ‘জেনুইন’ নয়, সেটাতে সমালোচনা করবেন যাতে সরকার সংশোধন করতে পারে।”

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলের কাজ সব সময় সরকারের বিরোধিতা করা নয়। কারণ, বিরোধী দলও একদিন সরকারে যেতে পারে। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে চায়।

বাজেট অধিবেশনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সহযোগিতাকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেন চিফ হুইপ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে ‘পুশ-ইন’, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের না থাকা, সংসদীয় কমিটি গঠনে বিলম্ব, আইন প্রণয়নে বিল দেরিতে দেওয়া-সহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন নূরল ইসলাম মনি।

সংবিধান সংশোধন

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোন সদস্য না দেওয়া হলে, তাদের ছাড়াই কমিটি করা হবে কি না- এক সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, “সংস্কারের প্রশ্ন থাকলে সংসদের বাইরে সরকার, বিরোধী দল ও অন্য দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে। আর সংবিধান সংশোধনের কাজ সংসদের ভেতরে চলবে।”

‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগ

সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে দুই সপ্তাহ অনুপস্থিত ছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তথ্য দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিরোধী দল বা সরকারি দল যে-ই হোক, কেউ যাতে অপমানিত বোধ না করেন, সে চেষ্টা করা হবে।

এবারের বাজেটের প্রশংসা করে চিফ হুইপ বলেন, “স্বাধীনতার পর এমন জনকল্যাণমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আর কখনো প্রণীত হয়নি। বাজেট ঘোষণার আগে বা পাসের পরে বাজারে দাম বাড়েনি। বাজেটের পর কোনো বিক্ষোভ হয়নি।”

‘পুশ ইন’

ভারতের ‘পুশ ইন’ নিয়ে বিরোধী দলের আনা একটি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নে নূরুল ইসলাম মনি, প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘পুশ ইন’ জাতীয় সমস্যা। অন্য দেশের মানুষ বাংলাদেশে আসুক, তা কেউ চায় না।

আইন প্রণয়নে ‘কম সময়’

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে, আইন প্রণয়নের সময় বিলগুলো দেরিতে দেওয়া হচ্ছে, এমন কথার জবাবে চিফ হুইপ বলেন, চলতি অধিবেশনে আনা তিন-চারটি বিল সময়মতো দেওয়া যায়নি। তবে বিল পাসের আগে সদস্যদের পড়া, আলোচনা ও বিশ্লেষণের সুযোগ দিতে সময় রাখা হয়েছে।

নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেন, এবারের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দল তাদের নির্ধারিত সময়ের চেয়েও ‘বেশি সময়’ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের জন্য মোট সময়ের ২৬ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য দিয়েছে।

তার দাবি, বিরোধী দলের নেতারা ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট করেও বক্তব্য দিয়েছেন। চিফ হুইপের ভাষায়, “সকল নেতাদের কথা শুনেছি। তারা যেভাবে বলতে চেয়েছেন, সেভাবে শুনেছি।”

সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন সম্পন্ন করতে হয়। এখন দ্বিতীয় অধিবেশন চলছে। এখনো সে সময় শেষ হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


‘পাচার বন্ধ করা গেলে টাকার সমস্যা হবে না’

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

  • সংসদে বিএনপি-জামায়াতের ঐক্যে ‘কোন খেলা নেই’

বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ করা গেলে দেশ চালাতে সরকারের টাকার সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাজেটে সবকিছুতে কর কমিয়ে দিলে সরকার কীভাবে চলবে- চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নিজেই এ তথ্য জানান। হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাজেটের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, “৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা মানুষের বাজেট, জনবান্ধব বাজেট এবং জনগণের কল্যাণ ও তাদের বাঁচিয়ে রাখার বাজেট।”

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে বা পাসের পরে ‘বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি’ দাবি করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “খাদ্যদ্রব্যসহ প্রয়োজনীয় ৬৩টি পণ্যে কর বাড়ানো হয়নি।” কিছু ক্ষেত্রে কর কমানো হয়েছে। যেসব পণ্যে কর কমেছে, সেগুলোর দামও কমা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান একটি পণ্যে করছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেটিও বিবেচনায় নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সবকিছুতে কর কমালে সরকার চলবে কীভাবে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিবছর যে ‘১৬ বিলিয়ন ডলা’ পাচার হয়েছে, তা বন্ধ করা গেলে অর্থের সমস্যা হবে না।

‘ফ্রেন্ডলি গেইম’

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারি দল ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের ‘ঐক্যবদ্ধভাবে’ এগিয়ে যাওয়ার বার্তায় ‘কোন খেলা নেই, গেমও নেই’। তিনি বলেন, এ ধরণের কথা কেউ বলে থাকলে সেটা তার ব্যক্তিগত মতামত।

একজন সাংবাদিক বলেন, “সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে।” তিনি আরো বলেন, “বাজেট আলোচনায় সরকারি দল বিএনপির এক সংসদ সদস্য মেসি ও রোনালদোর ‘ফ্রেন্ডলি গেইমের’ উদাহরণ টেনে বলেছেন, পার্লামেন্টে যে গেইমটা হচ্ছে, এই গেইমটা চললে কিন্তু কিছুদিন পরে মাঠ খালি পড়ে থাকবে।”

সংসদে এ রকম কোনো ‘ফ্রেন্ডলি গেইম’ চলছে কি না- ওই সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, “রোনালদো আর মেসি ফুটবল খেলায় আছে, বিশ্বকাপে। আর বাংলাদেশের পার্লামেন্টে ডক্টর শফিকুর রহমান অপজিশনে (বিরোধী দলে) আর তারেক রহমান পজিশনে (সরকারি দলে)। এখানে কোনো খেলা নাই, গেমও নাই। কেউ যদি বলে থাকে, সেটা তার ব্যক্তিগত মতামত।”

সরকারি দল ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে সমস্যা সমাধান করুক- জনগণ ‘এটা চায়’ বলে মন্তব্য করেন চিফ হুইপ। সংবাদ সম্মেলনে  তিনি বলেন, “বিরোধী দল যৌক্তিক বিষয়ে সহযোগিতা করবে, আবার প্রয়োজন হলে সরকারের সমালোচনাও করবে। যেটা ‘জেনুইন’, সেটাতে তারা সরকারের পাশে থাকবেন। যেটা ‘জেনুইন’ নয়, সেটাতে সমালোচনা করবেন যাতে সরকার সংশোধন করতে পারে।”

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলের কাজ সব সময় সরকারের বিরোধিতা করা নয়। কারণ, বিরোধী দলও একদিন সরকারে যেতে পারে। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে চায়।

বাজেট অধিবেশনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সহযোগিতাকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেন চিফ হুইপ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে ‘পুশ-ইন’, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের না থাকা, সংসদীয় কমিটি গঠনে বিলম্ব, আইন প্রণয়নে বিল দেরিতে দেওয়া-সহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন নূরল ইসলাম মনি।

সংবিধান সংশোধন

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোন সদস্য না দেওয়া হলে, তাদের ছাড়াই কমিটি করা হবে কি না- এক সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, “সংস্কারের প্রশ্ন থাকলে সংসদের বাইরে সরকার, বিরোধী দল ও অন্য দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে। আর সংবিধান সংশোধনের কাজ সংসদের ভেতরে চলবে।”

‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগ

সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে দুই সপ্তাহ অনুপস্থিত ছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তথ্য দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিরোধী দল বা সরকারি দল যে-ই হোক, কেউ যাতে অপমানিত বোধ না করেন, সে চেষ্টা করা হবে।

এবারের বাজেটের প্রশংসা করে চিফ হুইপ বলেন, “স্বাধীনতার পর এমন জনকল্যাণমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আর কখনো প্রণীত হয়নি। বাজেট ঘোষণার আগে বা পাসের পরে বাজারে দাম বাড়েনি। বাজেটের পর কোনো বিক্ষোভ হয়নি।”

‘পুশ ইন’

ভারতের ‘পুশ ইন’ নিয়ে বিরোধী দলের আনা একটি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নে নূরুল ইসলাম মনি, প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘পুশ ইন’ জাতীয় সমস্যা। অন্য দেশের মানুষ বাংলাদেশে আসুক, তা কেউ চায় না।

আইন প্রণয়নে ‘কম সময়’

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে, আইন প্রণয়নের সময় বিলগুলো দেরিতে দেওয়া হচ্ছে, এমন কথার জবাবে চিফ হুইপ বলেন, চলতি অধিবেশনে আনা তিন-চারটি বিল সময়মতো দেওয়া যায়নি। তবে বিল পাসের আগে সদস্যদের পড়া, আলোচনা ও বিশ্লেষণের সুযোগ দিতে সময় রাখা হয়েছে।

নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেন, এবারের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দল তাদের নির্ধারিত সময়ের চেয়েও ‘বেশি সময়’ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের জন্য মোট সময়ের ২৬ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য দিয়েছে।

তার দাবি, বিরোধী দলের নেতারা ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট করেও বক্তব্য দিয়েছেন। চিফ হুইপের ভাষায়, “সকল নেতাদের কথা শুনেছি। তারা যেভাবে বলতে চেয়েছেন, সেভাবে শুনেছি।”

সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন সম্পন্ন করতে হয়। এখন দ্বিতীয় অধিবেশন চলছে। এখনো সে সময় শেষ হয়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত