দেশের মিঠা পানির মাছ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার মাছ চাষে অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বাড়ছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) আয়োজনে ‘মিঠা পানির মাছের মড়ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন’ প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপে এসব তথ্য জানানো হয়। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে এই ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএফআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত খামারে মাছের প্রজাতিভিত্তিক রোগের সংক্রমণের হার- শিং ও মাগুর: ৬১ শতাংশ, গুলশা ও পাবদা: ৪২ শতাংশ, তেলাপিয়া: ৩৮ শতাংশ, পাঙ্গাস: ৩৬ শতাংশ আর কার্প: ১৮ শতাংশ।
অতীতে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, শিং, মাগুর, কৈ- এই মাছগুলোকে রোগ প্রতিরোধী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, রোগজীবাণুর নতুন স্ট্রেইনের আবির্ভাব ও ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার রোগসৃষ্টি ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, নতুন রোগের সংক্রমণে চাষের পুকুরে ৫ থেকে ১২ দিনের মধ্যে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ মাছ মারা যাচ্ছে। এতে মাছের মোট উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে এবং খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বিএফআরআইয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশে মাছের রোগের কারণে মৎস্যচাষিদের আয়ের প্রায় ১৪.০৫ শতাংশ ক্ষতি হয়। বিশ্ব অ্যাকুয়াকালচারে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয় রোগের প্রাদুর্ভাবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘মাছ চাষে অযৌক্তিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অনেকে গবাদি পশুর জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক মাছের খামারে প্রয়োগ করছেন। রোগ নির্ণয় ছাড়াই ওষুধ প্রয়োগ, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার বাড়ছে। এতে অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বাড়ছে, যা মাছের স্বাস্থ্য ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা সমাধান করতে ব্যর্থ হলে ২০৫০ সালের মধ্যে বহু মানুষ (১০ মিলিয়ন) মৃত্যু হতে পারে। খরচ হতে পারে প্রায় ৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
এই পরিস্থিতিতে মাছের রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএফআরআই। প্রকল্পের আউটপুট হিসেবে- আণবিক পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের উৎস ও বৈশিষ্ট্য উদ্ভাবন করা হবে। দেশীয় প্যাথোজেনিক স্ট্রেইনের উপযোগী কার্যকর ভ্যাকসিন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করা হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘দেশে মৎস্য খাতে বিপুল সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। এই খাতের উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘পানির গুণগত মান মাছ চাষের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। পানিকে মাছের উপযোগী করে তুলতে পারলে মাছের রোগবালাই অনেকাংশে কমানো সম্ভব।’
মন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের প্রাকৃতিক মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
দেশের মিঠা পানির মাছ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার মাছ চাষে অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বাড়ছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) আয়োজনে ‘মিঠা পানির মাছের মড়ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন’ প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপে এসব তথ্য জানানো হয়। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে এই ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএফআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত খামারে মাছের প্রজাতিভিত্তিক রোগের সংক্রমণের হার- শিং ও মাগুর: ৬১ শতাংশ, গুলশা ও পাবদা: ৪২ শতাংশ, তেলাপিয়া: ৩৮ শতাংশ, পাঙ্গাস: ৩৬ শতাংশ আর কার্প: ১৮ শতাংশ।
অতীতে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, শিং, মাগুর, কৈ- এই মাছগুলোকে রোগ প্রতিরোধী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, রোগজীবাণুর নতুন স্ট্রেইনের আবির্ভাব ও ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার রোগসৃষ্টি ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, নতুন রোগের সংক্রমণে চাষের পুকুরে ৫ থেকে ১২ দিনের মধ্যে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ মাছ মারা যাচ্ছে। এতে মাছের মোট উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে এবং খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বিএফআরআইয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশে মাছের রোগের কারণে মৎস্যচাষিদের আয়ের প্রায় ১৪.০৫ শতাংশ ক্ষতি হয়। বিশ্ব অ্যাকুয়াকালচারে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয় রোগের প্রাদুর্ভাবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘মাছ চাষে অযৌক্তিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অনেকে গবাদি পশুর জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক মাছের খামারে প্রয়োগ করছেন। রোগ নির্ণয় ছাড়াই ওষুধ প্রয়োগ, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার বাড়ছে। এতে অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বাড়ছে, যা মাছের স্বাস্থ্য ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা সমাধান করতে ব্যর্থ হলে ২০৫০ সালের মধ্যে বহু মানুষ (১০ মিলিয়ন) মৃত্যু হতে পারে। খরচ হতে পারে প্রায় ৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
এই পরিস্থিতিতে মাছের রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএফআরআই। প্রকল্পের আউটপুট হিসেবে- আণবিক পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের উৎস ও বৈশিষ্ট্য উদ্ভাবন করা হবে। দেশীয় প্যাথোজেনিক স্ট্রেইনের উপযোগী কার্যকর ভ্যাকসিন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করা হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘দেশে মৎস্য খাতে বিপুল সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। এই খাতের উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘পানির গুণগত মান মাছ চাষের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। পানিকে মাছের উপযোগী করে তুলতে পারলে মাছের রোগবালাই অনেকাংশে কমানো সম্ভব।’
মন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের প্রাকৃতিক মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন