একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে প্রথমে স্থিতিশীলতা, আর তারপর টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক নতুন লড়াই শুরু হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যবদল এবং অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার এই মহাপরিকল্পনাকে সরকার আখ্যায়িত করছে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’ হিসেবে। এবারের বাজেটে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক প্রতিটি নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যেন উন্নয়নের সুফল শুধু নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পৌঁছায় সবার দুয়ারে।
সোমবার
সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স
রুমে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে এক
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ
চৌধুরী সরকারের এই মানবিক ও
গতিশীল অর্থনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেন।
তিনি
অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, "বাজেটে
ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতি,
স্থিতিশীল অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধির অর্থনীতি
খুব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। প্রথম
দিকে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। একবারে
স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা
সমৃদ্ধির পথে যাবো। তখন
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।"
ফ্যামিলি
কার্ডের মতো জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের
কার্যকারিতা সরাসরি তদারকি করার ওপর জোর
দিয়ে অর্থমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তার মানবিক দিকটি উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, "টাকাটা
দেওয়ার পরে আমরা জানতে
চাচ্ছি তাদের জীবনের পরিবর্তনটা কতটুকু। এটার একটা মেজারমেন্ট
দরকার। কারণ, আমাদের তো জানতে হবে
যে এই টাকাটা পাওয়ার
পর তার জীবনের পরিবর্তনটা
কিভাবে এলো। আমরা তো
চাচ্ছি তার জীবনে পরিবর্তন
আনার জন্য এবং সেটা
কতটুকু আসছে সেটা আমাদের
জানতে হবে।"
পিছিয়ে
পড়া মানুষদের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ
করে তিনি আরও যোগ
করেন, "আবার কেউ যদি
পিছিয়ে যায়, তাহলে কেন
পিছিয়ে গেল সেটাও বিশ্লেষণ
করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে
আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।"
বিশাল
এই বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন
তুললে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে তা নাকচ
করে দিয়ে বলেন, "চ্যালেঞ্জ
খুব সোজা। এই যে বলেছি,
ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতি,
স্থিতিশীল অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধির অর্থনীতি
খুব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। এর
আগে কোনো বাজেটে এভাবে
পরিষ্কার করে বলা হয়েছে
আমরা শুনিনি। একেবারে নাম ধরে ধরে
বলা হয়েছে। কাদের জন্য কী অ্যালোকেশন,
কাদের জীবনে পরিবর্তন করার জন্য আমাদের
উদ্যোগ কী, একেবারে পরিষ্কারভাবে
বলা হয়েছে। সমাজের, দেশের কোনো একজন নাগরিককে
বাদ রেখে এই বাজেট
হয়নি। প্রত্যেককে মাথায় রেখে বাজেট হয়েছে।"
অর্থনৈতিক
বৈষম্য দূর করে একটি
সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকার
ব্যক্ত করে আমির খসরু
মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "পুরো বিষয়টিকে আমরা
বলছি ডেমোক্র্যাটাইজেশন অফ দি ইকোনমি
অর্থাৎ অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ। একটা গ্রুপ বেনিফিট
পাবে, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি হবে; আর বাকি
দেশের লোক অর্থনীতির কোনো
সুযোগ পাবে না, তাদের
কাছে অর্থনীতির সুফল যাবে না,
সে অংশগ্রহণ করতে পারবে না,
সেটা তো একটা গণতান্ত্রিক
দেশের অর্থনীতির জন্য কাম্য নয়।
এজন্য আমরা এই পরিবর্তনটা
আনার চেষ্টা করছি।"

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে প্রথমে স্থিতিশীলতা, আর তারপর টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক নতুন লড়াই শুরু হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যবদল এবং অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার এই মহাপরিকল্পনাকে সরকার আখ্যায়িত করছে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’ হিসেবে। এবারের বাজেটে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক প্রতিটি নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যেন উন্নয়নের সুফল শুধু নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পৌঁছায় সবার দুয়ারে।
সোমবার
সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স
রুমে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে এক
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ
চৌধুরী সরকারের এই মানবিক ও
গতিশীল অর্থনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেন।
তিনি
অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, "বাজেটে
ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতি,
স্থিতিশীল অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধির অর্থনীতি
খুব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। প্রথম
দিকে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। একবারে
স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা
সমৃদ্ধির পথে যাবো। তখন
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।"
ফ্যামিলি
কার্ডের মতো জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের
কার্যকারিতা সরাসরি তদারকি করার ওপর জোর
দিয়ে অর্থমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তার মানবিক দিকটি উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, "টাকাটা
দেওয়ার পরে আমরা জানতে
চাচ্ছি তাদের জীবনের পরিবর্তনটা কতটুকু। এটার একটা মেজারমেন্ট
দরকার। কারণ, আমাদের তো জানতে হবে
যে এই টাকাটা পাওয়ার
পর তার জীবনের পরিবর্তনটা
কিভাবে এলো। আমরা তো
চাচ্ছি তার জীবনে পরিবর্তন
আনার জন্য এবং সেটা
কতটুকু আসছে সেটা আমাদের
জানতে হবে।"
পিছিয়ে
পড়া মানুষদের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ
করে তিনি আরও যোগ
করেন, "আবার কেউ যদি
পিছিয়ে যায়, তাহলে কেন
পিছিয়ে গেল সেটাও বিশ্লেষণ
করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে
আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।"
বিশাল
এই বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন
তুললে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে তা নাকচ
করে দিয়ে বলেন, "চ্যালেঞ্জ
খুব সোজা। এই যে বলেছি,
ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতি,
স্থিতিশীল অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধির অর্থনীতি
খুব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। এর
আগে কোনো বাজেটে এভাবে
পরিষ্কার করে বলা হয়েছে
আমরা শুনিনি। একেবারে নাম ধরে ধরে
বলা হয়েছে। কাদের জন্য কী অ্যালোকেশন,
কাদের জীবনে পরিবর্তন করার জন্য আমাদের
উদ্যোগ কী, একেবারে পরিষ্কারভাবে
বলা হয়েছে। সমাজের, দেশের কোনো একজন নাগরিককে
বাদ রেখে এই বাজেট
হয়নি। প্রত্যেককে মাথায় রেখে বাজেট হয়েছে।"
অর্থনৈতিক
বৈষম্য দূর করে একটি
সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকার
ব্যক্ত করে আমির খসরু
মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "পুরো বিষয়টিকে আমরা
বলছি ডেমোক্র্যাটাইজেশন অফ দি ইকোনমি
অর্থাৎ অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ। একটা গ্রুপ বেনিফিট
পাবে, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি হবে; আর বাকি
দেশের লোক অর্থনীতির কোনো
সুযোগ পাবে না, তাদের
কাছে অর্থনীতির সুফল যাবে না,
সে অংশগ্রহণ করতে পারবে না,
সেটা তো একটা গণতান্ত্রিক
দেশের অর্থনীতির জন্য কাম্য নয়।
এজন্য আমরা এই পরিবর্তনটা
আনার চেষ্টা করছি।"

আপনার মতামত লিখুন