কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়ির অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সাধুরা। দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে চলা লালন একাডেমির কর্মকাণ্ডকে ‘ফকির ছাড়া লালন ব্যবসা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘লালন মাজার শরীফ ও সেবাসদন কমিটি’।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ছেঁউড়িয়ার লালন মাজার শরীফ ও সেবাসদন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সভাপতি মো. আহসান আলী তুফান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফকির শামসুল আউয়াল।সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, লালন শাহের অসাম্প্রদায়িক দর্শনের মূলে আঘাত হেনে আখড়াবাড়ির ভেতরে নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনা কাঠামো ও অজুর স্থান নির্মাণের চেষ্টা চলছে। বক্তারা বলেন, ইউনেস্কো স্বীকৃত এই বিশ্ব ঐতিহ্যকে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের ছকে বেঁধে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। একাডেমির এমন একপেশে পদক্ষেপকে লালন দর্শনের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে তারা সতর্ক করে দেন যে, সাধনা ও তত্ত্ব চর্চার পরিবেশ নষ্ট করে আখড়াবাড়িকে ‘নিরাপদ বিনোদন কেন্দ্র’ বা ‘রিসোর্টে’ পরিণত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে তোয়াক্কা না করে একাডেমি কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর ফলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায়ভার লালন একাডেমিকেই নিতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যমান সংকট নিরসনে চার দফা দাবি পেশ করা হয়েছে:১. মাজার ও সেবাসদন কমিটির নেতৃত্বে মাজার পরিচালনা ও রওজায় খাদেম নিয়োগ নিশ্চিত করা।২. লালন একাডেমিকে কেবল গবেষণা ও প্রচারের কাজে সীমাবদ্ধ রাখা এবং আখড়ার সীমানার বাইরে একাডেমির নিজস্ব জমিতে উপাসনার ব্যবস্থা করা।৩. গুরু-শিষ্য পরম্পরা ও অতিথিশালার মতো আশ্রমিক ঐতিহ্যগুলো ফিরিয়ে আনা।৪. মাজারকে কেন্দ্র করে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর চক্রান্ত ও বখাটে-মাদকসেবীদের উৎপাত বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।সাধুদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যখন লালন দর্শন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে, তখন খোদ তার ধামেই সাধনার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়া দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য চরম অবমাননাকর।