সন্তান প্রসবের পর মা-বাবাকে জানানো হয়েছিল নবজাতক ‘মৃত’। বলা হয়েছিল, মৃত শিশুটিকে হাসপাতালের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনার চার বছর পর জানা গেল, শিশুটি আসলে মারা যায়নি, তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর জেলার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে (আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী চার বছর আগে) ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী আকলিমা বেগম প্রসববেদনা নিয়ে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সন্তান প্রসবের পরপরই একটি দালালচক্র শিশুটিকে সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। পরে আকলিমা ও তার স্বজনদের জানানো হয় যে শিশুটি মারা গেছে। এমনকি মরদেহ দেখতে চাইলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলা হয়, মৃত শিশুটিকে হাসপাতালের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
সন্তান হারানোর শোক বুকে চেপে বাড়ি ফিরে যান এই দম্পতি। কিন্তু সম্প্রতি কিছু তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তাদের সেই সন্তানটি বেঁচে আছে এবং তাকে অন্য কোথাও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হলে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতের একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে অভিযুক্ত মমতা বেগমসহ কয়েকজন নবজাতক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সন্তানকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) মদনেরপাড়া বাজারে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে আকলিমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'চার বছর ধরে ভেবেছি আমার সন্তান মারা গেছে। এখন শুনছি তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার কলিজার টুকরাকে ফেরত চাই।'
পরিবারের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী দালালচক্র হাসপাতালের একশ্রেণির অসাধু কর্মীদের যোগসাজশে এমন জঘন্য কাজ করেছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য ফুলছড়ি থানায় সুপারিশ করা হয়েছে। তবে শিশুটি বর্তমানে কার কাছে বা কোথায় আছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফুলছড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। লিখিত অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে।

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
সন্তান প্রসবের পর মা-বাবাকে জানানো হয়েছিল নবজাতক ‘মৃত’। বলা হয়েছিল, মৃত শিশুটিকে হাসপাতালের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনার চার বছর পর জানা গেল, শিশুটি আসলে মারা যায়নি, তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর জেলার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে (আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী চার বছর আগে) ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী আকলিমা বেগম প্রসববেদনা নিয়ে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সন্তান প্রসবের পরপরই একটি দালালচক্র শিশুটিকে সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। পরে আকলিমা ও তার স্বজনদের জানানো হয় যে শিশুটি মারা গেছে। এমনকি মরদেহ দেখতে চাইলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলা হয়, মৃত শিশুটিকে হাসপাতালের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
সন্তান হারানোর শোক বুকে চেপে বাড়ি ফিরে যান এই দম্পতি। কিন্তু সম্প্রতি কিছু তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তাদের সেই সন্তানটি বেঁচে আছে এবং তাকে অন্য কোথাও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হলে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতের একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে অভিযুক্ত মমতা বেগমসহ কয়েকজন নবজাতক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সন্তানকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) মদনেরপাড়া বাজারে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে আকলিমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'চার বছর ধরে ভেবেছি আমার সন্তান মারা গেছে। এখন শুনছি তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার কলিজার টুকরাকে ফেরত চাই।'
পরিবারের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী দালালচক্র হাসপাতালের একশ্রেণির অসাধু কর্মীদের যোগসাজশে এমন জঘন্য কাজ করেছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য ফুলছড়ি থানায় সুপারিশ করা হয়েছে। তবে শিশুটি বর্তমানে কার কাছে বা কোথায় আছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফুলছড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। লিখিত অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন