গাইবান্ধার সংবাদপত্রজগৎ, সাহিত্য-সংস্কৃতি আর প্রগতিশীল নাগরিক আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য নাম সাংবাদিক আবু জাফর সাবু। আজ ২৯ আগস্ট তার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২১ সালের এই দিনে তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তিনি কেবল একজন প্রথিতযশা সাংবাদিকই ছিলেন না; ছিলেন উত্তর জনপদের গণমাধ্যম অঙ্গনের অভিভাবক, দক্ষ সংগঠক ও প্রগতিশীল চেতনার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।
আবু জাফর সাবু দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক আজকের জনগণ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন তিনি।
ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনার করাল গ্রাসে নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া মানুষ, বন্যাপীড়িত চরাঞ্চলের জীবনসংগ্রাম আর পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলের উন্নয়নের দাবিগুলো তিনি সাহসিকতার সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরেছেন। পক্ষপাতহীন দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাদারত্ব তাকে নিয়ে গিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতায়।
গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের একাধিক মেয়াদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবু জাফর সাবু স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও ঐক্য বজায় রাখতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। মফস্বল সাংবাদিকদের কাছে তিনি ছিলেন বটবৃক্ষের মতো। নতুন প্রজন্মের সংবাদকর্মীদের সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা ও মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি ছিলেন পরম পরামর্শদাতা।
সাংবাদিকতার বাইরে তার ছিল এক সংবেদনশীল শিল্পমনা সত্তা। তিনি নিয়মিত কবিতা লিখতেন। খেলাঘর, উদীচী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। গাইবান্ধার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের প্রতিটি নাগরিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা।
ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত রুচিশীল ও পরিপাটি এই মানুষটির স্নেহশীল আচরণ ও নিঃস্বার্থ মানসিকতা সহকর্মীদের হৃদয়ে আজও অমলিন। সশরীরে তিনি নেই, কিন্তু তার সততা ও নির্ভীক সাংবাদিকতার আদর্শ উত্তর জনপদের সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
আপনার মতামত লিখুন