সংবাদ

আশুরের দুর্দান্ত হেডে সকারুজদের স্তব্ধ করে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিশর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ এএম

আশুরের দুর্দান্ত হেডে সকারুজদের স্তব্ধ করে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিশর

​চলতি বিশ্বকাপে শক্তি ও সামর্থ্যের লড়াইয়ে যেন মুখোমুখি এশিয়া ও আফ্রিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরলিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু করেছে মিশর। ম্যাচের শুরু থেকে মাঠের দখল ও আক্রমণে অস্ট্রেলিয়া দাপট দেখালেও সুযোগ কাজে লাগানোর দিক থেকে বাজিমাত করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

খেলার মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায় ইমাম আশুরের করা দুর্দান্ত এক হেডে ম্যাচে লিড নেয় হোসাম হাসানের দল। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও মাঠের খেলায় অস্ট্রেলিয়াই তুলনামূলক ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে।
​ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল কিছুটা সতর্ক ফুটবল খেলতে শুরু করে। তবে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করেছিল সকারুজরাই। খেলার পঞ্চম মিনিটে মাঝমাঠে আলেসান্দ্রো সিরকাতির কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান ক্রিস্টিয়ান ভলপাতো। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শুবিরকে পরাস্ত করলেও বল ক্রসবারের ওপরের অংশে লেগে ফিরে আসে।
এর ঠিক দুই মিনিট পর আবারও বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলে টনি পপোভিচের দল। জর্ডান বস বক্সের ভেতরে ঢুকে শট নেওয়ার প্রস্তুতি নিলে শেষ মুহূর্তে অসাধারণ এক ট্যাকলে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ইজিপ্টের ডিফেন্ডার রামি রাবিয়া।
​খেলার শুরুর দিকে মিশরের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন। ১১তম মিনিটে গোলরক্ষক মোস্তফা শুবিরের একটি ঢিলেঢালা টাচে বল প্রায় গোললাইন পর্যন্ত গড়িয়ে যায়, যদিও দ্রুতই তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে বিপদমুক্ত করেন।
তবে সকারুজদের সব আক্রমণ ও দাপটকে স্তব্ধ করে দিয়ে ম্যাচের ১৩তম মিনিটে প্রথম কার্যকর আক্রমণ থেকেই গোল তুলে নেয় মিশর। ফ্রি-কিক থেকে আসা প্রথম আক্রমণটি ব্যর্থ হলেও বল পুনরায় পেয়ে ডান দিক থেকে নিখুঁত ক্রস করেন করিম হাফেজ। বক্সের পেছনের পোস্টে দারুণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নেন ইমাম আশুর। চলতি বিশ্বকাপে এটি আশুরের দ্বিতীয় গোল।
​১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে হোসাম হাসানের শিষ্যরা। ১৭তম মিনিটে ওমর মারমোশের একটি শট গুরুত্বপূর্ণ ব্লকে ঠেকিয়ে দেন হ্যারি সাউত্তার। এরপর ২১তম মিনিটে হামদি ফাথির দারুণ থ্রু পাসে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মোস্তফা জিকো, তবে তিনি বল বাইরে মারেন এবং পরে অফসাইডের পতাকাও ওঠে।
২৩ মিনিটে দেওয়া হাইড্রেশন বিরতির পর আবারও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় অস্ট্রেলিয়া। ৩২তম মিনিটে নেস্টরি ইরানকুন্ডা ফ্রি-কিক আদায় করলে সেই সেট-পিস থেকে তৈরি হওয়া বিপদ কোনোমতে কাটিয়ে ওঠে মিশরের রক্ষণভাগ।
​প্রথমার্ধের শেষ ১০ মিনিটে অস্ট্রেলিয়া সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণের চাপ আরও বাড়ায়। ৩৮তম মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার দুর্দান্ত ট্যাকলে বসের একটি বিপজ্জনক ক্রস থমকে যায়। যোগ করা সময়ে আবারও দূরপাল্লার শটে ভাগ্য পরীক্ষা করেন ভলপাতো, তবে এবারও তিনি লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।
অন্যদিকে মিশরের রক্ষণে রামি রাবিয়া ও ইয়াসের ইব্রাহিম ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স ও এয়ারিয়াল ডুয়েলে জিতে অস্ট্রেলিয়ার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য আরও দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে পায়ে চোট পেয়ে মাঠে পড়ে যান দলের অন্যতম ভরসা জর্ডান বস। বিরতির কম সুযোগ পেয়েও ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের কল্যাণে ইমাম আশুরের সেই একমাত্র গোলে শেষ ষোলোর পথে এক ধাপ এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে মিশর।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


আশুরের দুর্দান্ত হেডে সকারুজদের স্তব্ধ করে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিশর

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

​চলতি বিশ্বকাপে শক্তি ও সামর্থ্যের লড়াইয়ে যেন মুখোমুখি এশিয়া ও আফ্রিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরলিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু করেছে মিশর। ম্যাচের শুরু থেকে মাঠের দখল ও আক্রমণে অস্ট্রেলিয়া দাপট দেখালেও সুযোগ কাজে লাগানোর দিক থেকে বাজিমাত করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

খেলার মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায় ইমাম আশুরের করা দুর্দান্ত এক হেডে ম্যাচে লিড নেয় হোসাম হাসানের দল। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও মাঠের খেলায় অস্ট্রেলিয়াই তুলনামূলক ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে।
​ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল কিছুটা সতর্ক ফুটবল খেলতে শুরু করে। তবে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করেছিল সকারুজরাই। খেলার পঞ্চম মিনিটে মাঝমাঠে আলেসান্দ্রো সিরকাতির কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান ক্রিস্টিয়ান ভলপাতো। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শুবিরকে পরাস্ত করলেও বল ক্রসবারের ওপরের অংশে লেগে ফিরে আসে।
এর ঠিক দুই মিনিট পর আবারও বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলে টনি পপোভিচের দল। জর্ডান বস বক্সের ভেতরে ঢুকে শট নেওয়ার প্রস্তুতি নিলে শেষ মুহূর্তে অসাধারণ এক ট্যাকলে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ইজিপ্টের ডিফেন্ডার রামি রাবিয়া।
​খেলার শুরুর দিকে মিশরের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন। ১১তম মিনিটে গোলরক্ষক মোস্তফা শুবিরের একটি ঢিলেঢালা টাচে বল প্রায় গোললাইন পর্যন্ত গড়িয়ে যায়, যদিও দ্রুতই তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে বিপদমুক্ত করেন।
তবে সকারুজদের সব আক্রমণ ও দাপটকে স্তব্ধ করে দিয়ে ম্যাচের ১৩তম মিনিটে প্রথম কার্যকর আক্রমণ থেকেই গোল তুলে নেয় মিশর। ফ্রি-কিক থেকে আসা প্রথম আক্রমণটি ব্যর্থ হলেও বল পুনরায় পেয়ে ডান দিক থেকে নিখুঁত ক্রস করেন করিম হাফেজ। বক্সের পেছনের পোস্টে দারুণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নেন ইমাম আশুর। চলতি বিশ্বকাপে এটি আশুরের দ্বিতীয় গোল।
​১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে হোসাম হাসানের শিষ্যরা। ১৭তম মিনিটে ওমর মারমোশের একটি শট গুরুত্বপূর্ণ ব্লকে ঠেকিয়ে দেন হ্যারি সাউত্তার। এরপর ২১তম মিনিটে হামদি ফাথির দারুণ থ্রু পাসে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মোস্তফা জিকো, তবে তিনি বল বাইরে মারেন এবং পরে অফসাইডের পতাকাও ওঠে।
২৩ মিনিটে দেওয়া হাইড্রেশন বিরতির পর আবারও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় অস্ট্রেলিয়া। ৩২তম মিনিটে নেস্টরি ইরানকুন্ডা ফ্রি-কিক আদায় করলে সেই সেট-পিস থেকে তৈরি হওয়া বিপদ কোনোমতে কাটিয়ে ওঠে মিশরের রক্ষণভাগ।
​প্রথমার্ধের শেষ ১০ মিনিটে অস্ট্রেলিয়া সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণের চাপ আরও বাড়ায়। ৩৮তম মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার দুর্দান্ত ট্যাকলে বসের একটি বিপজ্জনক ক্রস থমকে যায়। যোগ করা সময়ে আবারও দূরপাল্লার শটে ভাগ্য পরীক্ষা করেন ভলপাতো, তবে এবারও তিনি লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।
অন্যদিকে মিশরের রক্ষণে রামি রাবিয়া ও ইয়াসের ইব্রাহিম ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স ও এয়ারিয়াল ডুয়েলে জিতে অস্ট্রেলিয়ার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য আরও দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে পায়ে চোট পেয়ে মাঠে পড়ে যান দলের অন্যতম ভরসা জর্ডান বস। বিরতির কম সুযোগ পেয়েও ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের কল্যাণে ইমাম আশুরের সেই একমাত্র গোলে শেষ ষোলোর পথে এক ধাপ এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে মিশর।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত