ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে এবং পরে বাবার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এই সামাজিক অপমান, মারধর ও লাগাতার হুমকি সহ্য করতে না পেরে আবুল কাশেম (৪২) নামে এক মুদি ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে ওই ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবুল কাশেম স্থানীয় একজন মুদিদোকানি ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে আবুল কাশেমের মেয়েকে প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম অপহরণ করেন। পরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন কাগজে সই করিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করেন। রাজি না হলে মেয়েটির বাবা ও ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ১ জুলাই মেয়েটি বাড়িতে ফিরে এলে সাইফুল তাকে পুনরায় নিজের বাড়িতে পাঠানোর চাপ দেন এবং ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আবুল কাশেমকে বাড়ির সামনে মারধর করা হয় এবং পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়।
নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার বলেন, ‘সাইফুল ও তার লোকজনের ভয়ে আমরা চার দিন ধরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। তারা বারবার ফোন করে টাকা ও মেয়েকে চাইছিল। রোববার সকালে আমার স্বামী বাড়ি ফেরেন। পরে ঘরে তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।’
নিহতের ভাই আবুল কালাম জানান, ভয় ও অপমান সহ্য করতে না পেরেই তার ভাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়ের বিয়ে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। প্ররোচনার অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন