সংবাদ

গোলশূন্য প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল ও নরওয়ে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৪ এএম

গোলশূন্য প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল ও নরওয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমার্ধেই জমে উঠেছে ব্রাজিল ও নরওয়ের লড়াই। কখনো গোল বাতিল, আবার কখনো পেনাল্টি মিস—নানা নাটকীয়তায় ঠাসা প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়েছে ০-০ গোলশূন্য সমতায়। বল দখলের লড়াইয়ে নরওয়ে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে ধার বেশি ছিল ব্রাজিলের।

​খেলার তৃতীয় মিনিটেই প্রথম উল্লাসে মেতে ওঠে নরওয়ে। একটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে বক্সের ভেতরে আলেকজান্ডার সোরলথ বল বাড়িয়ে দেন প্যাট্রিক বের্গের দিকে। বের্গের নিখুঁত শট ব্রাজিলের জালে জড়ালে উৎসবে ভাসেন নরওয়ের সমর্থকেরা।
তবে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলায় সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে সোরলথ অফসাইডে ছিলেন, ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।
​এর ঠিক সাত মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ১০ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাজিল। বক্সের ভেতরে মাতেউস কুনিয়াকে ফাউল করেন নরওয়ের ক্রিস্টোফার আইয়ার।
প্রথমে রেফারি সাড়া না দিলেও ভিএআরের (VAR) সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সতীর্থ ভিনিসিয়ুসের কাছ থেকে বল চেয়ে নিয়ে পেনাল্টি শট নিতে এগিয়ে যান ব্রুনো গিমারায়েস। রান-আপের গতি কমিয়ে গোলরক্ষককে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
তবে নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিল্যান্ড দারুণ দক্ষতায় দিক অনুমান করে শটটি আটকে দেন। এই পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে ব্রাজিল চার দশকের এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি করল।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে জিকোর পেনাল্টি মিসের পর বিশ্বকাপের মূল সময়ে আর কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেনাল্টি মিস করেননি।
​খেলার ১৮ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বক্সে থাকা মাতেউস কুনহার উদ্দেশ্যে চমৎকার ক্রস বাড়ালেও নরওয়ের রক্ষণভাগ তা ক্লিয়ার করে। বিরতির ঠিক আগে নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ফ্রি-কিক থেকে ছোট পাস খেললেও ব্রাজিলের কুনিয়া বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন।
তবে ডেভিড মোলার উলফের চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। ৩৭ মিনিটে নরওয়ের আন্তোনিও নুসার ক্রস থেকে আর্লিং হালান্ডের লব শটটি সহজে লুফে নেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার।
৪০ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জোরালো শট পোস্টের বাইরে দিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ে গোলরক্ষক নিল্যান্ড।
​প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই দলই গোলক্ষকদের বীরত্বে রক্ষা পায়। ৪২ মিনিটে ওডেগার্ডের একটি বিপজ্জনক শট দারুণভাবে রুখে দেন আলিসন।
এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে হালান্ডের পাস থেকে ওডেগার্ড আবারও গোলমুখে শট নিলে অবিশ্বাস্য এক সেভ করেন আলিসন বেকার। ঠিক তার দুই মিনিট পর, ডান প্রান্ত থেকে কাসেমিরোর বাড়ানো চমৎকার ক্রসে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় সেলেসাওরাও।
ফলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চ ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা পায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


গোলশূন্য প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল ও নরওয়ে

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমার্ধেই জমে উঠেছে ব্রাজিল ও নরওয়ের লড়াই। কখনো গোল বাতিল, আবার কখনো পেনাল্টি মিস—নানা নাটকীয়তায় ঠাসা প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়েছে ০-০ গোলশূন্য সমতায়। বল দখলের লড়াইয়ে নরওয়ে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে ধার বেশি ছিল ব্রাজিলের।

​খেলার তৃতীয় মিনিটেই প্রথম উল্লাসে মেতে ওঠে নরওয়ে। একটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে বক্সের ভেতরে আলেকজান্ডার সোরলথ বল বাড়িয়ে দেন প্যাট্রিক বের্গের দিকে। বের্গের নিখুঁত শট ব্রাজিলের জালে জড়ালে উৎসবে ভাসেন নরওয়ের সমর্থকেরা।
তবে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলায় সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে সোরলথ অফসাইডে ছিলেন, ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।
​এর ঠিক সাত মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ১০ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাজিল। বক্সের ভেতরে মাতেউস কুনিয়াকে ফাউল করেন নরওয়ের ক্রিস্টোফার আইয়ার।
প্রথমে রেফারি সাড়া না দিলেও ভিএআরের (VAR) সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সতীর্থ ভিনিসিয়ুসের কাছ থেকে বল চেয়ে নিয়ে পেনাল্টি শট নিতে এগিয়ে যান ব্রুনো গিমারায়েস। রান-আপের গতি কমিয়ে গোলরক্ষককে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
তবে নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিল্যান্ড দারুণ দক্ষতায় দিক অনুমান করে শটটি আটকে দেন। এই পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে ব্রাজিল চার দশকের এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি করল।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে জিকোর পেনাল্টি মিসের পর বিশ্বকাপের মূল সময়ে আর কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেনাল্টি মিস করেননি।
​খেলার ১৮ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বক্সে থাকা মাতেউস কুনহার উদ্দেশ্যে চমৎকার ক্রস বাড়ালেও নরওয়ের রক্ষণভাগ তা ক্লিয়ার করে। বিরতির ঠিক আগে নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ফ্রি-কিক থেকে ছোট পাস খেললেও ব্রাজিলের কুনিয়া বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন।
তবে ডেভিড মোলার উলফের চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। ৩৭ মিনিটে নরওয়ের আন্তোনিও নুসার ক্রস থেকে আর্লিং হালান্ডের লব শটটি সহজে লুফে নেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার।
৪০ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জোরালো শট পোস্টের বাইরে দিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ে গোলরক্ষক নিল্যান্ড।
​প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই দলই গোলক্ষকদের বীরত্বে রক্ষা পায়। ৪২ মিনিটে ওডেগার্ডের একটি বিপজ্জনক শট দারুণভাবে রুখে দেন আলিসন।
এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে হালান্ডের পাস থেকে ওডেগার্ড আবারও গোলমুখে শট নিলে অবিশ্বাস্য এক সেভ করেন আলিসন বেকার। ঠিক তার দুই মিনিট পর, ডান প্রান্ত থেকে কাসেমিরোর বাড়ানো চমৎকার ক্রসে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় সেলেসাওরাও।
ফলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চ ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা পায়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত