কলা সংগ্রহের পর যে গাছটি একসময় কৃষকের কাছে ছিল মূল্যহীন ও পরিত্যক্ত, সেই গাছের বাকল থেকেই এখন তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের সুতা। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন এক শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের সোহেল (২৮)।
কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই কেবল ইউটিউব দেখে নিজের আগ্রহ ও পরিশ্রমে কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির প্রযুক্তি আয়ত্ত করেছেন সোহেল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তিনি এখন সফলভাবে সুতা উৎপাদন করছেন। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সরেজমিনে চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কের পাশে নিজের বাড়ির প্রবেশমুখে একটি সুতা তৈরির যন্ত্র বসিয়েছেন সোহেল। সেখানে প্রতিদিন কলাগাছের বাকল প্রক্রিয়াজাত করে সুতা তৈরি করা হচ্ছে। এই অভিনব পদ্ধতি দেখতে প্রতিদিন আশপাশের মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
উদ্যোক্তা সোহেল জানান, সাধারণত কলা কাটার পর গাছটি কেটে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ সেই পরিত্যক্ত অংশই এখন মূল্যবান কাঁচামাল। তিনি বলেন, “প্রায় ৬০ কেজি কলাগাছ থেকে এক কেজি সুতা পাওয়া যায়। মানের ওপর ভিত্তি করে এই সুতা প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। এই সুতা দিয়ে ব্যাগ, দড়ি, পাপোশসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প তৈরি করা যায়।”
সোহেল আরও জানান, সুতা তৈরির পর অবশিষ্ট বর্জ্য থেকেও আয়ের পথ রয়েছে। সেই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হচ্ছে জৈব সার। এ ছাড়া বাকল থেকে কাগজ, কয়েল ও মাছের খাবার তৈরিরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
সোহেলের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পেলে এই উদ্যোগকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব। এতে বেকারদের কর্মসংস্থান যেমন হবে, তেমনি কৃষকরাও বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিবছর প্রচুর কলাগাছ নষ্ট হয়। এসব গাছের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, “লাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ নতুন শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে। সরকারি সহযোগিতার সুযোগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
\

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
কলা সংগ্রহের পর যে গাছটি একসময় কৃষকের কাছে ছিল মূল্যহীন ও পরিত্যক্ত, সেই গাছের বাকল থেকেই এখন তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের সুতা। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন এক শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের সোহেল (২৮)।
কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই কেবল ইউটিউব দেখে নিজের আগ্রহ ও পরিশ্রমে কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির প্রযুক্তি আয়ত্ত করেছেন সোহেল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তিনি এখন সফলভাবে সুতা উৎপাদন করছেন। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সরেজমিনে চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কের পাশে নিজের বাড়ির প্রবেশমুখে একটি সুতা তৈরির যন্ত্র বসিয়েছেন সোহেল। সেখানে প্রতিদিন কলাগাছের বাকল প্রক্রিয়াজাত করে সুতা তৈরি করা হচ্ছে। এই অভিনব পদ্ধতি দেখতে প্রতিদিন আশপাশের মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
উদ্যোক্তা সোহেল জানান, সাধারণত কলা কাটার পর গাছটি কেটে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ সেই পরিত্যক্ত অংশই এখন মূল্যবান কাঁচামাল। তিনি বলেন, “প্রায় ৬০ কেজি কলাগাছ থেকে এক কেজি সুতা পাওয়া যায়। মানের ওপর ভিত্তি করে এই সুতা প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। এই সুতা দিয়ে ব্যাগ, দড়ি, পাপোশসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প তৈরি করা যায়।”
সোহেল আরও জানান, সুতা তৈরির পর অবশিষ্ট বর্জ্য থেকেও আয়ের পথ রয়েছে। সেই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হচ্ছে জৈব সার। এ ছাড়া বাকল থেকে কাগজ, কয়েল ও মাছের খাবার তৈরিরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
সোহেলের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পেলে এই উদ্যোগকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব। এতে বেকারদের কর্মসংস্থান যেমন হবে, তেমনি কৃষকরাও বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিবছর প্রচুর কলাগাছ নষ্ট হয়। এসব গাছের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, “লাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ নতুন শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে। সরকারি সহযোগিতার সুযোগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
\

আপনার মতামত লিখুন