আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি নয়, বরং শুধু প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সারা দেশের আদালতগুলোতে মামলাজট কমাতে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগ এবং পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে আইনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। আইনমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালেই নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পলাতক আসামিদেরও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০ অনুযায়ী ১৭টি মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে ৪৪ জন ‘স্টেট ডিফেন্স’ আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, এই আইনে জাতিসংঘসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের বিচার পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শুনানি, ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে পলাতক আসামির সম্পদ জব্দ করার ক্ষমতাও ট্রাইব্যুনালকে দেওয়া হয়েছে।
মামলাজট নিরসন নিয়ে সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৫ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত আছেন। সংবিধান অনুযায়ী আরও বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অধস্তন আদালতের বিষয়ে তিনি জানান, অনুমোদিত ২ হাজার ৬২০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক কর্মরত আছেন। শূন্যপদ পূরণে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ১৯তম বিজেএসের মাধ্যমে আরও ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএসের মাধ্যমে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকা আসামিদের মামলা দ্রুত শেষ করতে তদন্ত কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত কার্যক্রম তদারকির জন্য কগনিজেন্স ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত জব্দ ও ফরেনসিক মতামত সংগ্রহের বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা এবং পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি সম্মেলনের মাধ্যমে বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি নয়, বরং শুধু প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সারা দেশের আদালতগুলোতে মামলাজট কমাতে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগ এবং পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে আইনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। আইনমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালেই নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পলাতক আসামিদেরও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০ অনুযায়ী ১৭টি মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে ৪৪ জন ‘স্টেট ডিফেন্স’ আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, এই আইনে জাতিসংঘসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের বিচার পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শুনানি, ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে পলাতক আসামির সম্পদ জব্দ করার ক্ষমতাও ট্রাইব্যুনালকে দেওয়া হয়েছে।
মামলাজট নিরসন নিয়ে সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৫ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত আছেন। সংবিধান অনুযায়ী আরও বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অধস্তন আদালতের বিষয়ে তিনি জানান, অনুমোদিত ২ হাজার ৬২০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক কর্মরত আছেন। শূন্যপদ পূরণে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ১৯তম বিজেএসের মাধ্যমে আরও ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএসের মাধ্যমে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকা আসামিদের মামলা দ্রুত শেষ করতে তদন্ত কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত কার্যক্রম তদারকির জন্য কগনিজেন্স ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত জব্দ ও ফরেনসিক মতামত সংগ্রহের বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা এবং পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি সম্মেলনের মাধ্যমে বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন