টানা ২০ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে নওগাঁ শহর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে ১ দিনে সর্বোচ্চ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে শহরের সিও অফিস এলাকা, নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বর, সুপারিপট্টি, বাটার মোড়, পুরাতন হাসপাতাল রোডসহ অন্তত ২০টি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনের নোংরা পানি উপচে রাস্তায় আসায় পথচারীদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিও অফিস এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং ড্রেন দখল হয়ে থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না।’
পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগ বলছে, নওগাঁ পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৮০ টন বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য থাকে ৩-৫ টন। যার ফলে খাল ও ড্রেনগুলোতে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য জমে থাকায় পানি সরতে পারছে না। এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী ড্রেনের ওপর রাখায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নওগাঁ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, জনবলসংকট ও বাসিন্দাদের অসচেতনতার কারণে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে থাকে, যা জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ।
এদিকে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে আত্রাই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১ দশমিক ৮৭ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, পানি বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
\

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
টানা ২০ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে নওগাঁ শহর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে ১ দিনে সর্বোচ্চ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে শহরের সিও অফিস এলাকা, নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বর, সুপারিপট্টি, বাটার মোড়, পুরাতন হাসপাতাল রোডসহ অন্তত ২০টি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনের নোংরা পানি উপচে রাস্তায় আসায় পথচারীদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিও অফিস এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং ড্রেন দখল হয়ে থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না।’
পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগ বলছে, নওগাঁ পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৮০ টন বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য থাকে ৩-৫ টন। যার ফলে খাল ও ড্রেনগুলোতে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য জমে থাকায় পানি সরতে পারছে না। এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী ড্রেনের ওপর রাখায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নওগাঁ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, জনবলসংকট ও বাসিন্দাদের অসচেতনতার কারণে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে থাকে, যা জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ।
এদিকে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে আত্রাই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১ দশমিক ৮৭ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, পানি বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
\

আপনার মতামত লিখুন