সংবাদ

স্বাদে অতুলনীয় নরসিংদীর কাঁঠাল, নায্য দাম না পেয়ে হতাশ চাষি


প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

স্বাদে অতুলনীয় নরসিংদীর কাঁঠাল, নায্য দাম না পেয়ে হতাশ চাষি
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সৃষ্টিগড় বাজারে জমে উঠেছে কাঁঠালের কেনাবেচা। ছবি : সংবাদ

মিষ্টি স্বাদ, সুগন্ধ, কম আঁশ আর আকর্ষণীয় রঙের কারণে নরসিংদীর কাঁঠালের খ্যাতি দেশজুড়ে। জেলার শিবপুর, বেলাব, পলাশ ও রায়পুরার পাহাড়ি লাল মাটিতে উৎপাদিত কাঁঠালের চাহিদা এখন তুঙ্গে। তবে বাজারে কাঁঠালের বাম্পার ফলন ও জমজমাট কেনাবেচা চললেও ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। অভিযোগ রয়েছে, লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও পাইকারদের পকেটে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুষ্টিগুণে ভরপুর এই কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন ‘এ’। নরসিংদীতে মূলত খাজা, আদ্যরসা ও গালা—এই তিন জাতের কাঁঠাল চাষ হয়। জেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সৃষ্টিগড়, চৈতন্য, কামারটেক, যোশর বাজার, মরজাল ও বারৈচাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন ভোর থেকে বসছে কাঁঠালের বিশাল হাট। এসব হাটে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে।

তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। শিবপুর উপজেলার সৃষ্টিগড় এলাকার চাষি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এবার গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। কিন্তু দাম এত কম যে উৎপাদন খরচই উঠছে না। যে কাঁঠাল ঢাকায় ২০০ টাকায় বিক্রি হয়, আমরা তা এখানে মাত্র ৩০-৫০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।’

রায়পুরার ভিটি মরজাল গ্রামের কৃষক জসিমউদ্দীন জানান, কাঁঠাল পচনশীল ফল হওয়ায় দ্রুত বিক্রি করে দিতে হয়। এলাকায় কোনো হিমাগার বা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র না থাকায় পাইকাররা যে দাম হাঁকেন, সেই দামেই ছেড়ে দিতে হয়।

স্থানীয় পাইকারদের দাবি, তারা বাগান কিনে এনে হাটে তোলেন এবং পরে ঢাকা, সিলেট ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠান। এতে পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে খুব বেশি লাভ থাকে না।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজল হক বলেন, ‘কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এবার সরকার নরসিংদীর কাঁঠাল চীনে রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি, এর ফলে বাগানমালিকেরা ভালো দাম পাবেন।’

তবে সাধারণ চাষিদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, সরকারি পর্যায়ে ঋণ সুবিধা, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তা না হলে সম্ভাবনাময় এই কৃষি খাতটি দিন দিন গুরুত্ব হারাবে।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


স্বাদে অতুলনীয় নরসিংদীর কাঁঠাল, নায্য দাম না পেয়ে হতাশ চাষি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

মিষ্টি স্বাদ, সুগন্ধ, কম আঁশ আর আকর্ষণীয় রঙের কারণে নরসিংদীর কাঁঠালের খ্যাতি দেশজুড়ে। জেলার শিবপুর, বেলাব, পলাশ ও রায়পুরার পাহাড়ি লাল মাটিতে উৎপাদিত কাঁঠালের চাহিদা এখন তুঙ্গে। তবে বাজারে কাঁঠালের বাম্পার ফলন ও জমজমাট কেনাবেচা চললেও ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। অভিযোগ রয়েছে, লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও পাইকারদের পকেটে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুষ্টিগুণে ভরপুর এই কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন ‘এ’। নরসিংদীতে মূলত খাজা, আদ্যরসা ও গালা—এই তিন জাতের কাঁঠাল চাষ হয়। জেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সৃষ্টিগড়, চৈতন্য, কামারটেক, যোশর বাজার, মরজাল ও বারৈচাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন ভোর থেকে বসছে কাঁঠালের বিশাল হাট। এসব হাটে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে।

তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। শিবপুর উপজেলার সৃষ্টিগড় এলাকার চাষি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এবার গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। কিন্তু দাম এত কম যে উৎপাদন খরচই উঠছে না। যে কাঁঠাল ঢাকায় ২০০ টাকায় বিক্রি হয়, আমরা তা এখানে মাত্র ৩০-৫০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।’

রায়পুরার ভিটি মরজাল গ্রামের কৃষক জসিমউদ্দীন জানান, কাঁঠাল পচনশীল ফল হওয়ায় দ্রুত বিক্রি করে দিতে হয়। এলাকায় কোনো হিমাগার বা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র না থাকায় পাইকাররা যে দাম হাঁকেন, সেই দামেই ছেড়ে দিতে হয়।

স্থানীয় পাইকারদের দাবি, তারা বাগান কিনে এনে হাটে তোলেন এবং পরে ঢাকা, সিলেট ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠান। এতে পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে খুব বেশি লাভ থাকে না।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজল হক বলেন, ‘কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এবার সরকার নরসিংদীর কাঁঠাল চীনে রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি, এর ফলে বাগানমালিকেরা ভালো দাম পাবেন।’

তবে সাধারণ চাষিদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, সরকারি পর্যায়ে ঋণ সুবিধা, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তা না হলে সম্ভাবনাময় এই কৃষি খাতটি দিন দিন গুরুত্ব হারাবে।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত