সংবাদ

বন্যায় বান্দরবানে ৭ দিনে ক্ষতি ৪০ কোটি টাকার


সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

বন্যায় বান্দরবানে ৭ দিনে ক্ষতি ৪০ কোটি টাকার
বান্দরবানে বন্যায় ২১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, প্রাথমিক ক্ষতি ৪০ কোটি টাকা

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বান্দরবানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক, কালভার্ট, সেতু, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করেছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগে জেলার প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৫টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ২৮ কোটি টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টগুলো মেরামতে আরও ১২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

এদিকে, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাটা এলাকায় একটি সেতু ধসে পড়ায় দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া জেলার সাতটি উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাওয়া, পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কালভার্ট ধসে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

টংকাবতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাংয়াং মুরুং বলেন, “টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে লামা-সুয়ালক সড়কের টংকাবতি এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে এলজিইডি বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, “টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এলজিইডির আওতাধীন প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক ও ১৫টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীরা মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করে বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করছেন।”

প্রতিপদ দেওয়ান আরও বলেন, “খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দের আবেদন পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করলেও এখন সামনে আসছে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


বন্যায় বান্দরবানে ৭ দিনে ক্ষতি ৪০ কোটি টাকার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বান্দরবানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক, কালভার্ট, সেতু, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করেছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগে জেলার প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৫টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ২৮ কোটি টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টগুলো মেরামতে আরও ১২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

এদিকে, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাটা এলাকায় একটি সেতু ধসে পড়ায় দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া জেলার সাতটি উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাওয়া, পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কালভার্ট ধসে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

টংকাবতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাংয়াং মুরুং বলেন, “টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে লামা-সুয়ালক সড়কের টংকাবতি এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে এলজিইডি বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, “টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এলজিইডির আওতাধীন প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক ও ১৫টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীরা মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করে বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করছেন।”

প্রতিপদ দেওয়ান আরও বলেন, “খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দের আবেদন পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করলেও এখন সামনে আসছে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত