সংবাদ

সুন্দরবনে অস্ত্রসহ ‘ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী’র ২৭ দস্যুর আত্মসমর্পণ


প্রতিনিধি, শরণখোলা (বাগেরহাট)
প্রতিনিধি, শরণখোলা (বাগেরহাট)
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

সুন্দরবনে অস্ত্রসহ ‘ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী’র ২৭ দস্যুর আত্মসমর্পণ
বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করা ২৭ বনদস্যু। ছবি : সংবাদ

সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন বনদস্যু বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের চরপুটিয়া এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় দস্যুরা ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩৪০ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি জমা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানান, সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ধারাবাহিক অভিযানের মুখে দস্যু বাহিনীগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। জীবন বাঁচাতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় তারা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছে।

জমা দেওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান ও ২টি চায়না পাইপগান। আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বাড়ি খুলনা, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

কোস্ট গার্ড জানায়, এই দস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে বর্তমানে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ এবং ৬৯ জন দস্যুকে আটক করা হয়েছে। এর আগে গত ৯ জুলাই ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তিন সদস্য এবং ২১ মে ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধানসহ সাতজন আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


সুন্দরবনে অস্ত্রসহ ‘ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী’র ২৭ দস্যুর আত্মসমর্পণ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন বনদস্যু বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের চরপুটিয়া এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় দস্যুরা ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩৪০ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি জমা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানান, সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ধারাবাহিক অভিযানের মুখে দস্যু বাহিনীগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। জীবন বাঁচাতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় তারা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছে।

জমা দেওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান ও ২টি চায়না পাইপগান। আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বাড়ি খুলনা, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

কোস্ট গার্ড জানায়, এই দস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে বর্তমানে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ এবং ৬৯ জন দস্যুকে আটক করা হয়েছে। এর আগে গত ৯ জুলাই ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তিন সদস্য এবং ২১ মে ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধানসহ সাতজন আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত