সংবাদ

৫ মাসে ৮২৩ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার, মামলা ৬৯৬


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

৫ মাসে ৮২৩ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার, মামলা ৬৯৬
প্রতীকী ছবি।

চাঁদাবাজির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের কঠোর অবস্থানে গত ৫ মাসে সারাদেশে ৮২৩ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৬৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রামের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি)।

সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে একের পর এক চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে প্রথমে এককালীন দুই কোটি টাকা ও পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় প্রথমে হুমকি ও পরে প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় চাঁদাবাজরা। এই হামলার সিসি টিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তর কঠোর অবস্থানে আছে। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে গ্রেপ্তারসহ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে সারাদেশে চাঁদাবাজির ঘটনায় ৬৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৮২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিদিন মামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ছে।

সিএমপি মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়েছে, চকবাজার থানাধীন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন)-এ গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল করে নিজেকে ‘ডেবিট ইমন’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গত ১৩ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চকবাজার থানাধীন ১২১, মনুমিয়াজী লেইন, চন্দনপুরা, বাকলিয়া এক্সেস রোডস্থ মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের অফিসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবেশ করে। 

সন্ত্রাসীরা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গার মেশিন, আসবাবপত্র, গ্লাসের দরজাসহ অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সিএমপি কমিশনারের পরিকল্পনায় পুলিশের চৌকশ টিম ও র্যাব-৭ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এর আগে বরিশালে একজন ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তার ওপর হামলা চালিয়ে চেকে সই করিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তদন্ত করে মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করে। এভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে, যা ব্যবসায়ীদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজদের হামলা।

দেশের একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের গডফাদারদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। চাঁদাবাজরা যাতে জামিনে ছাড়া না পায়, সেজন্য দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং রাজনৈতিকভাবে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং তাদের সন্তানরা কী করছে, সে সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতে হবে বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


৫ মাসে ৮২৩ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার, মামলা ৬৯৬

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

চাঁদাবাজির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের কঠোর অবস্থানে গত ৫ মাসে সারাদেশে ৮২৩ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৬৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রামের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি)।

সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে একের পর এক চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে প্রথমে এককালীন দুই কোটি টাকা ও পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় প্রথমে হুমকি ও পরে প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় চাঁদাবাজরা। এই হামলার সিসি টিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তর কঠোর অবস্থানে আছে। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে গ্রেপ্তারসহ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে সারাদেশে চাঁদাবাজির ঘটনায় ৬৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৮২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিদিন মামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ছে।

সিএমপি মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়েছে, চকবাজার থানাধীন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন)-এ গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল করে নিজেকে ‘ডেবিট ইমন’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গত ১৩ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চকবাজার থানাধীন ১২১, মনুমিয়াজী লেইন, চন্দনপুরা, বাকলিয়া এক্সেস রোডস্থ মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের অফিসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবেশ করে। 

সন্ত্রাসীরা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গার মেশিন, আসবাবপত্র, গ্লাসের দরজাসহ অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সিএমপি কমিশনারের পরিকল্পনায় পুলিশের চৌকশ টিম ও র্যাব-৭ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এর আগে বরিশালে একজন ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তার ওপর হামলা চালিয়ে চেকে সই করিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তদন্ত করে মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করে। এভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে, যা ব্যবসায়ীদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজদের হামলা।

দেশের একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের গডফাদারদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। চাঁদাবাজরা যাতে জামিনে ছাড়া না পায়, সেজন্য দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং রাজনৈতিকভাবে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং তাদের সন্তানরা কী করছে, সে সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতে হবে বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত