ভারতের একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর শর্তের প্রভাবে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পণ্য রপ্তানিতে ভয়াবহ ধস নেমেছে। গত ২ বছরে বন্দরটি দিয়ে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন। এর ফলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেনাপোল বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টনে। আর সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টনে।
বন্দরের তথ্যমতে, ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ১৩ কর্মদিবসে ভারত থেকে ৩ হাজার ৩৮টি পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে মাত্র ৭৫৩ ট্রাক পণ্য। আগে যেখানে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হতো, এখন তা দিনে ২০ থেকে ১০০ ট্রাকের নিচে নেমে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এরপর মে মাস থেকে গার্মেন্টস পণ্য, তুলা, প্লাস্টিক ও কাঠের আসবাবপত্র এবং জুন মাস থেকে পাটজাত পণ্য স্থলপথে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটি। সর্বশেষ ১১ আগস্ট নতুন করে পাটকাঠি ও চার ধরনের পাটজাত পণ্য আমদানিতে ‘না’ বলে দিয়েছে ভারত।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, “ভারত বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ালে আমাদের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে বিকল্প বাজার সম্প্রসারণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্টাস এন্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান ট্রানজিট সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এছাড়া স্থলপথে যে সব পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেগুলো পুনরায় চালু করা।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত কমেছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় প্রভাব পড়েছে। রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
\

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
ভারতের একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর শর্তের প্রভাবে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পণ্য রপ্তানিতে ভয়াবহ ধস নেমেছে। গত ২ বছরে বন্দরটি দিয়ে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন। এর ফলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেনাপোল বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টনে। আর সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টনে।
বন্দরের তথ্যমতে, ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ১৩ কর্মদিবসে ভারত থেকে ৩ হাজার ৩৮টি পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে মাত্র ৭৫৩ ট্রাক পণ্য। আগে যেখানে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হতো, এখন তা দিনে ২০ থেকে ১০০ ট্রাকের নিচে নেমে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এরপর মে মাস থেকে গার্মেন্টস পণ্য, তুলা, প্লাস্টিক ও কাঠের আসবাবপত্র এবং জুন মাস থেকে পাটজাত পণ্য স্থলপথে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটি। সর্বশেষ ১১ আগস্ট নতুন করে পাটকাঠি ও চার ধরনের পাটজাত পণ্য আমদানিতে ‘না’ বলে দিয়েছে ভারত।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, “ভারত বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ালে আমাদের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে বিকল্প বাজার সম্প্রসারণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্টাস এন্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান ট্রানজিট সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এছাড়া স্থলপথে যে সব পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেগুলো পুনরায় চালু করা।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত কমেছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় প্রভাব পড়েছে। রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
\

আপনার মতামত লিখুন