সংবাদ

বিদেশি বিনিয়োগে উগান্ডা-ঘানার চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

বিদেশি বিনিয়োগে উগান্ডা-ঘানার চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ১.৮ বিলিয়ন ডলার। অথচ আফ্রিকার দেশ উগান্ডা একই সময়ে পেয়েছে ৩.৪ বিলিয়ন ডলার, আর ঘানা ও ডিআর কঙ্গো পেয়েছে ১.৯ বিলিয়ন ডলার করে। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়েও ফিদে উগান্ডা-ঘানার চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এই হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে।

সোমবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার এই তিন দেশ জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংক্রান্ত বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ পেলেও বাংলাদেশ তার ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ টানতে হিমশিম খাচ্ছে।

বিনিয়োগের পরিমাণে পিছিয়ে থাকলেও ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এফডিআই প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ১.২৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২০২৫ সালে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। তবে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য পর্যাপ্ত নয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট স্থাবর মূলধন গঠনের (জিএফসিএফ) মাত্র ১.৪ শতাংশ আসছে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে। অর্থাৎ, দেশের বিনিয়োগের বিশাল অংশ এখনো অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরশীল।

নতুন বা ‘স্ক্র্যাচ থেকে’ শুরু হওয়া গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের মূল্য ছিল ১.৭৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫ সালে তা ২২.৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলারে। এটি নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর বিদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। ২০২৪ সালের ১৫০ মিলিয়ন ডলার থেকে ৭২.৬ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালে এটি দাঁড়িয়েছে ২৫০ মিলিয়ন ডলারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘানা, উগান্ডা এবং কঙ্গোর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বড় ধরনের নীতি সংস্কার।

ঘানা কর খরচ কমিয়েছে, স্বর্ণ কেনার জন্য সরকারি সংস্থা গঠন করেছে এবং ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অথরিটি অ্যাক্ট ২০২৬’ পাস করে বিদেশি বিনিয়োগের ন্যূনতম মূলধনের শর্ত তুলে দিয়েছে। উগান্ডা তাদের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষকে ‘ওয়ান স্টপ সেন্টারে’ রূপান্তর করেছে। ডিআর কঙ্গো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ খাতের উদারীকরণ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া অঞ্চল বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য। ২০২৫ সালে এই অঞ্চলে মোট ৬৪৪ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই এসেছে। বিশ্বজুড়ে এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (২৭৭ বিলিয়ন ডলার)। শীর্ষ পাঁচে রয়েছে সিঙ্গাপুর (১৫১ বিলিয়ন), হংকং (১১৭ বিলিয়ন), চীন (১০৫ বিলিয়ন) এবং ব্রাজিল (৭৭ বিলিয়ন ডলার)।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


বিদেশি বিনিয়োগে উগান্ডা-ঘানার চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

২০২৫ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ১.৮ বিলিয়ন ডলার। অথচ আফ্রিকার দেশ উগান্ডা একই সময়ে পেয়েছে ৩.৪ বিলিয়ন ডলার, আর ঘানা ও ডিআর কঙ্গো পেয়েছে ১.৯ বিলিয়ন ডলার করে। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়েও ফিদে উগান্ডা-ঘানার চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এই হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে।

সোমবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার এই তিন দেশ জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংক্রান্ত বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ পেলেও বাংলাদেশ তার ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ টানতে হিমশিম খাচ্ছে।

বিনিয়োগের পরিমাণে পিছিয়ে থাকলেও ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এফডিআই প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ১.২৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২০২৫ সালে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। তবে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য পর্যাপ্ত নয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট স্থাবর মূলধন গঠনের (জিএফসিএফ) মাত্র ১.৪ শতাংশ আসছে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে। অর্থাৎ, দেশের বিনিয়োগের বিশাল অংশ এখনো অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরশীল।

নতুন বা ‘স্ক্র্যাচ থেকে’ শুরু হওয়া গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের মূল্য ছিল ১.৭৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫ সালে তা ২২.৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলারে। এটি নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর বিদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। ২০২৪ সালের ১৫০ মিলিয়ন ডলার থেকে ৭২.৬ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালে এটি দাঁড়িয়েছে ২৫০ মিলিয়ন ডলারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘানা, উগান্ডা এবং কঙ্গোর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বড় ধরনের নীতি সংস্কার।

ঘানা কর খরচ কমিয়েছে, স্বর্ণ কেনার জন্য সরকারি সংস্থা গঠন করেছে এবং ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অথরিটি অ্যাক্ট ২০২৬’ পাস করে বিদেশি বিনিয়োগের ন্যূনতম মূলধনের শর্ত তুলে দিয়েছে। উগান্ডা তাদের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষকে ‘ওয়ান স্টপ সেন্টারে’ রূপান্তর করেছে। ডিআর কঙ্গো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ খাতের উদারীকরণ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া অঞ্চল বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য। ২০২৫ সালে এই অঞ্চলে মোট ৬৪৪ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই এসেছে। বিশ্বজুড়ে এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (২৭৭ বিলিয়ন ডলার)। শীর্ষ পাঁচে রয়েছে সিঙ্গাপুর (১৫১ বিলিয়ন), হংকং (১১৭ বিলিয়ন), চীন (১০৫ বিলিয়ন) এবং ব্রাজিল (৭৭ বিলিয়ন ডলার)।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত