সংবাদ

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা হচ্ছে, দায় নিচ্ছে না কেউ


প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা হচ্ছে, দায় নিচ্ছে না কেউ
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণ করা হচ্ছে। ছবিঃ সংবাদ

ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও স্মৃতি ভাস্কর্য’ গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের দিয়ে এই অপসারণ প্রক্রিয়া চালানো হলেও ঠিক কার নির্দেশে বা কী কারণে এটি ভাঙা হচ্ছে, তার স্পষ্ট জবাব দেয়নি সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের মনে ক্ষোভ ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় শ্রমিকেরা ভাস্কর্যটি ভাঙছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, ‘ভাস্কর্যটি ঠিক কী কারণে ভাঙা হচ্ছে, তা আমার জানা নেই। জেলা প্রশাসক মহোদয় এ বিষয়ে বলতে পারবেন।’

তবে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন সরাসরি দায় অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এই জেলায় আসার আগেই চত্বরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সম্ভবত পৌরসভা ও সড়ক বিভাগ সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীরশ্রেষ্ঠের একটি নতুন প্রতিকৃতি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।’ অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান জানান, কারা এটি অপসারণ করছে, সে তথ্য তাদের কাছে নেই।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, ভাস্কর্যটি অসম্পূর্ণ ছিল এবং ৫ আগস্টের পর কয়েক দফায় ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া এটি মোড়ে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই সরানোর আলোচনা থাকলেও ভাঙার দায়িত্ব কেউ নিতে চায়নি।

২০১৯ সালে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা এই প্রকল্প হাতে নিলেও কয়েক বছর ধরে এটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। ভাস্কর্যটি কোনো পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় সেখানে জঙ্গল তৈরি হয়েছিল। বাসচালকদের দাবি, ভাস্কর্যটি মোড়ের দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দেওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা মনে করছেন, যথাযথ প্রক্রিয়া ও গণশুনানি ছাড়া এভাবে একটি জাতীয় বীরের স্মারক ভেঙে ফেলা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি অবমাননা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবার। তার ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ফেসবুকে দেখছি চাচার ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। আমাদের পরিবারের সঙ্গে কেউ কোনো যোগাযোগ করেনি। কাউকে কিছু না জানিয়ে এভাবে ভাস্কর্য অপসারণ করা বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি চরম অসম্মান।’

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বকনিষ্ঠ বীরশ্রেষ্ঠ হিসেবে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন ঝিনাইদহের এই কৃতি সন্তান।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা হচ্ছে, দায় নিচ্ছে না কেউ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও স্মৃতি ভাস্কর্য’ গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের দিয়ে এই অপসারণ প্রক্রিয়া চালানো হলেও ঠিক কার নির্দেশে বা কী কারণে এটি ভাঙা হচ্ছে, তার স্পষ্ট জবাব দেয়নি সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের মনে ক্ষোভ ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় শ্রমিকেরা ভাস্কর্যটি ভাঙছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, ‘ভাস্কর্যটি ঠিক কী কারণে ভাঙা হচ্ছে, তা আমার জানা নেই। জেলা প্রশাসক মহোদয় এ বিষয়ে বলতে পারবেন।’

তবে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন সরাসরি দায় অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এই জেলায় আসার আগেই চত্বরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সম্ভবত পৌরসভা ও সড়ক বিভাগ সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীরশ্রেষ্ঠের একটি নতুন প্রতিকৃতি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।’ অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান জানান, কারা এটি অপসারণ করছে, সে তথ্য তাদের কাছে নেই।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, ভাস্কর্যটি অসম্পূর্ণ ছিল এবং ৫ আগস্টের পর কয়েক দফায় ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া এটি মোড়ে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই সরানোর আলোচনা থাকলেও ভাঙার দায়িত্ব কেউ নিতে চায়নি।

২০১৯ সালে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা এই প্রকল্প হাতে নিলেও কয়েক বছর ধরে এটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। ভাস্কর্যটি কোনো পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় সেখানে জঙ্গল তৈরি হয়েছিল। বাসচালকদের দাবি, ভাস্কর্যটি মোড়ের দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দেওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা মনে করছেন, যথাযথ প্রক্রিয়া ও গণশুনানি ছাড়া এভাবে একটি জাতীয় বীরের স্মারক ভেঙে ফেলা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি অবমাননা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবার। তার ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ফেসবুকে দেখছি চাচার ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। আমাদের পরিবারের সঙ্গে কেউ কোনো যোগাযোগ করেনি। কাউকে কিছু না জানিয়ে এভাবে ভাস্কর্য অপসারণ করা বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি চরম অসম্মান।’

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বকনিষ্ঠ বীরশ্রেষ্ঠ হিসেবে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন ঝিনাইদহের এই কৃতি সন্তান।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত