একসময় পিরোজপুরের ইন্দুরকানি (সাবেক জিয়ানগর) উপজেলার গ্রামগুলোতে বিচার-সালিশ ও সামাজিক মেলামেশার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঐতিহ্যবাহী কাচারি ঘর। তবে কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এই স্মৃতিচিহ্নগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। কোথাও টিনের বেড়া খসে পড়ছে, আবার কোথাও আগাছায় ভরে গিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার এই প্রাচীন স্থাপনা।
স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত এসব কাচারি ঘরেই খাজনা আদায়, জমিজমার দলিলপত্র লেখা এবং গ্রামের বড় বড় বিবাদের মীমাংসা হতো।
উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল হক ফরাজি বলেন, ‘বাপ-দাদার আমলে দেখেছি মাতবররা কাচারি ঘরে বসে বিচার করতেন। জমি নিয়ে ঝামেলা হলে সবাই এখানেই আসত। এখনকার প্রজন্ম এসবের নামও জানে না। সরকার যদি উদ্যোগ নিত, তবে আমাদের ইতিহাসটা বেঁচে থাকত।’
সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অনেক কাচারি ঘরের টিনের চাল নেই, কাঠের বেড়াগুলোও ভেঙে পড়েছে। কোনো কোনো ঘরে এখন গবাদিপশু বেঁধে রাখা হয়। সংস্কার না হওয়ায় কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রাচীন স্থাপনাগুলো পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্কুলশিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কাচারি ঘর হলো আমাদের গ্রামীণ শাসনব্যবস্থার জীবন্ত ইতিহাস। এগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনধারা সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম কিছুই জানতে পারবে না।’
ইন্দুরকানি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ঐতিহ্যের এই অংশগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হবে।
ইতিহাসবিদদের মতে, কাচারি ঘর কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি একটি অঞ্চলের সামাজিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসের দলিল। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পিরোজপুরের এই প্রাচীন স্মৃতিচিহ্নগুলো চিরতরে হারিয়ে যাবে।
আপনার মতামত লিখুন