সংবাদ

পদত্যাগের ১৬ বছর পরও বেতন তুলছেন অধ্যক্ষ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:১০ পিএম

পদত্যাগের ১৬ বছর পরও বেতন তুলছেন অধ্যক্ষ
অধ্যক্ষ মো. আমির হোসাইন। ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পদত্যাগের পরও দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) উত্তোলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। এ ছাড়া এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বেতন ও পরীক্ষার ফি আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও আত্মসাৎ করা টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ডিআইএ-এর তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আমির হোসাইন একসময় পদত্যাগ করেন। এরপর পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি ওই পদে আর নিয়োগ পাননি। বিধি অনুযায়ী তার সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বেতন তুলেছেন। এভাবে তিনি অবৈধভাবে মোট ৭৮ লাখ ১২ হাজার ৭৫ টাকা উত্তোলন করেছেন। এই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তকালে নথিপত্র সরবরাহ না করে তিনি কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। তার অননুমোদিত অনুপস্থিতিকালে তোলা আরও ১৭ লাখ ২৭ হাজার ২০০ টাকাও ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি তার এমপিও স্থায়ীভাবে স্থগিত ও নাম কর্তনের সুপারিশ করেছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষিকা জান্নাত আরা বেগমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা নিয়মিত বেতন ও পরীক্ষার ফি মাদ্রাসার তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। তদন্ত দল তার বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান। অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি এসব অনিয়ম করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মাদ্রাসার দুই শীর্ষ শিক্ষকের এমন দুর্নীতির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


পদত্যাগের ১৬ বছর পরও বেতন তুলছেন অধ্যক্ষ

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পদত্যাগের পরও দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) উত্তোলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। এ ছাড়া এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বেতন ও পরীক্ষার ফি আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও আত্মসাৎ করা টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ডিআইএ-এর তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আমির হোসাইন একসময় পদত্যাগ করেন। এরপর পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি ওই পদে আর নিয়োগ পাননি। বিধি অনুযায়ী তার সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বেতন তুলেছেন। এভাবে তিনি অবৈধভাবে মোট ৭৮ লাখ ১২ হাজার ৭৫ টাকা উত্তোলন করেছেন। এই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তকালে নথিপত্র সরবরাহ না করে তিনি কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। তার অননুমোদিত অনুপস্থিতিকালে তোলা আরও ১৭ লাখ ২৭ হাজার ২০০ টাকাও ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি তার এমপিও স্থায়ীভাবে স্থগিত ও নাম কর্তনের সুপারিশ করেছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষিকা জান্নাত আরা বেগমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা নিয়মিত বেতন ও পরীক্ষার ফি মাদ্রাসার তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। তদন্ত দল তার বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান। অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি এসব অনিয়ম করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মাদ্রাসার দুই শীর্ষ শিক্ষকের এমন দুর্নীতির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত