সংবাদ

বন্ধুত্বের চর্চা করব বাংলাদেশের স্বার্থের ভিত্তিতে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

বন্ধুত্বের চর্চা করব বাংলাদেশের স্বার্থের ভিত্তিতে

বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের অভিন্ন পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৃগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একমাত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় পরিচয়।’

বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) জবি শাখা ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, ভাষা, বর্ণ বা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের সব মানুষের বৈচিত্র্য ও স্বকীয়তাকে ধারণ করেই এর বিকাশ ঘটেছে। এই দর্শনে চাকমা, মারমা কিংবা অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে কোনো পরিচয়গত সংকট নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক জাতীয়তাবাদের ধারণায় কোনো নির্দিষ্ট গোত্র বা ধর্ম পরিচয়ের একক নির্ধারক নয়। বরং একটি ভূখণ্ডের বহুমাত্রিকতা ও অভিন্ন স্বার্থকে ধারণ করেই এই পরিচয় গড়ে উঠেছে।’

দেশের ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪৭ সালে ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পরবর্তী সময়ে ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নটি সামনে চলে আসে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তারই চূড়ান্ত পরিণতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ।’

তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্ব জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয় সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় একটি পরিচয়গত সংকট তৈরি হয়েছিল। সেই বাস্তবতায় শহীদ জিয়া ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর অন্তর্ভুক্তিমূলক ধারণা প্রবর্তন করেন। ‘প্রথমেও বাংলাদেশ, শেষেও বাংলাদেশ’ এই দর্শনই দেশের সব নাগরিককে সমান মর্যাদায় আবদ্ধ করেছে।

বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সকলেই আমাদের বন্ধু, তবে আমরা বন্ধুত্বের চর্চা করব বাংলাদেশের স্বার্থের ভিত্তিতে। দেশের স্বার্থের বাইরে বাংলাদেশের আর কোনো বিকল্প ঠিকানা নেই।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর তিনি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামোকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন।’

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন । সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইউট্যাব জবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


বন্ধুত্বের চর্চা করব বাংলাদেশের স্বার্থের ভিত্তিতে

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের অভিন্ন পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৃগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একমাত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় পরিচয়।’

বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) জবি শাখা ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, ভাষা, বর্ণ বা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের সব মানুষের বৈচিত্র্য ও স্বকীয়তাকে ধারণ করেই এর বিকাশ ঘটেছে। এই দর্শনে চাকমা, মারমা কিংবা অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে কোনো পরিচয়গত সংকট নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক জাতীয়তাবাদের ধারণায় কোনো নির্দিষ্ট গোত্র বা ধর্ম পরিচয়ের একক নির্ধারক নয়। বরং একটি ভূখণ্ডের বহুমাত্রিকতা ও অভিন্ন স্বার্থকে ধারণ করেই এই পরিচয় গড়ে উঠেছে।’

দেশের ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪৭ সালে ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পরবর্তী সময়ে ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নটি সামনে চলে আসে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তারই চূড়ান্ত পরিণতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ।’

তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্ব জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয় সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় একটি পরিচয়গত সংকট তৈরি হয়েছিল। সেই বাস্তবতায় শহীদ জিয়া ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর অন্তর্ভুক্তিমূলক ধারণা প্রবর্তন করেন। ‘প্রথমেও বাংলাদেশ, শেষেও বাংলাদেশ’ এই দর্শনই দেশের সব নাগরিককে সমান মর্যাদায় আবদ্ধ করেছে।

বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সকলেই আমাদের বন্ধু, তবে আমরা বন্ধুত্বের চর্চা করব বাংলাদেশের স্বার্থের ভিত্তিতে। দেশের স্বার্থের বাইরে বাংলাদেশের আর কোনো বিকল্প ঠিকানা নেই।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর তিনি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামোকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন।’

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন । সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইউট্যাব জবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত